রুবেলা
১৫ ফেব্রুয়ারী, ১৪
Viewed#: 214
গত ২৫ জানুয়ারি থেকে ১৩ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত সারা দেশে সবচেয়ে বড় টিকাদান কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে। এ কর্মসূচিতে ৯ মাস থেকে ১৫ বছর বয়স পর্যন্ত দেশের ৫ কোটি ২০ লাখ শিশুকে হাম ও রুবেলা টিকা দেওয়া হবে। এর আগে একযোগে এত শিশুকে টিকাদান কর্মসূচিতে আনা হয়নি। এবারই প্রথম এ কর্মসূচিতে ১৫ বছর বয়স পর্যন্ত শিশু টিকা পাবে। দেশব্যাপী হাম ও রুবেলার টিকাদান কর্মসূচি চলছে কিন্তু অনেকে হাম সম্পর্কে কিছুটা বুঝলেও রুবেলা সম্পর্কে তেমন একটা জানে না?
রুবেলা কী?
রুবেলা একটি ভাইরাসজনিত ছোঁয়াচে রোগ। এটাকে ‘জার্মান মিজেলস’ অথবা ‘তিন দিনের হাম’ও বলা হয়ে থাকে। যে-কোনও বয়সের মানুষ রুবেলা আক্রান্ত হতে পারে। তবে শিশু ও গর্ভবতী মহিলাদের মধ্যে এটি সংক্রমিত হয় বেশি।
জটিলতা
শিশুদের ক্ষেত্রে এ রোগ খুব মারাত্মক হয় না এবং লক্ষণগুলো সাধারণ ভাইরাস জ্বরের মতোই দেখা যায়। কিন্তু বয়স্কদের মধ্যে এ রোগ হলে তা মারাত্মক হয় এবং জটিলতাও অনেক বেশি হয়। মহিলাদের গর্ভধারণের প্রথম দিকে (১২-১৫ সপ্তাহ পর্যন্ত) রুবেলা আক্রান্ত হলে নবজাতক শিশুর বিভিন্ন সমস্যা হতে পারে। আক্রান্তদের এক-পঞ্চমাংশের ডেলিভারিতে মৃত সন্তান প্রসব হতে দেখা যায়। বাকিদের মধ্যে হূদযন্ত্রে জন্মগত ত্রুটি, বধিরতা, ছানিযুক্ত চোখ ও অন্ধত্বসহ বিভিন্ন জন্মগত সমস্যা হতে পারে। তাদের অনেকে মানসিক প্রতিবন্ধী হয়, পড়াশোনায় এগোতে পারে না এবং দৈহিক বৃদ্ধিও কম হয়।
প্রতিরোধের উপায়
এত সমস্যা নিরসন করতে গিয়ে রুবেলা ভ্যাকসিনের সৃষ্টি হয় এবং ১৯৭০ সালে তা টিকাদান কর্মসূচির অন্তর্ভুক্ত হয়ে ‘জন্মগত রুবেলা সিনড্রোম’কে ব্যাপকভাবে হ্রাস করে।
রুবেলাসহ হাম ও মামস্ প্রতিরোধের জন্য শিশু বয়সে ২টি এমএমআর টিকা দেওয়া হয়ে থাকে। প্রথমটি ১২-১৫ মাস বয়সে ও দ্বিতীয়টি ৪-৬ বছর বয়সে দেওয়া হয়। তবে যে-কোনও বয়সে এ টিকা নেওয়া যায়। গর্ভধারণের আগে তিনি যথেষ্ট রুবেলা প্রতিরোধী কি না, তা ভেবে দেখা প্রয়োজন। আগে টিকা নেওয়া থাকলে বা একবার রুবেলা হয়ে গেলেও গর্ভধারণের আগে রুবেলা অ্যান্টিবডির জন্য রক্ত পরীক্ষা করে দেখা দরকার। পরীক্ষার রিপোর্ট পজিটিভ হয় ভালো। যদি নেগেটিভ হয়, তাহলে তার টিকা নেওয়া দরকার। গর্ভাবস্থায় পরীক্ষার রিপোর্ট নেগেটিভ হলে বাচ্চার অসুবিধা হতে পারে। এ অবস্থায় তার সতর্কতার সঙ্গে চলাফেরা করা উচিত এবং কর্মস্থলে যথাসম্ভব কম যাওয়া ভালো। সন্তান জন্মদানের পর সে টিকা নিয়ে নেবে। বাচ্চা দুধ পাওয়ার সময় রুবেলা টিকা নেওয়া সম্পূর্ণ নিরাপদ। তাতে মা ও বাচ্চার কোনও ক্ষতি হয় না।
ষ ডা. নাসির উদ্দিন মাহমুদ
কী কী উপসর্গ হতে পারে?
এ রোগে সর্দি, কাশি, মাথাব্যথা ও সামান্য জ্বর (১০১ ডিগ্রি ফা. পর্যন্ত) হয় এবং কানের পেছনে ও ঘাড়ে লিম্ফ গ্ল্যান্ড ফুলে যেতে দেখা যায়। তাছাড়া গিঁটে গিঁটে ব্যথা এবং চামড়ায় হাল্কা লাল বা গোলাপি রঙের রাশ (ত্ধংয) হতে পারে। ৩ দিন পর সাধারণত জ্বর সেরে যায়, চামড়ায় রশা থাকলে তাও আস্তে আস্তে চলে যায়। অধিকাংশ সময়ে রুবেলা সাধারণ সর্দিজ্বরের মতোই মনে হয়। আক্রান্ত ব্যক্তি বুঝতেও পারে না, এর মধ্যে তার রুবেলা হয়ে গেছে।
সূত্র - দৈনিক আমাদের সময়