home top banner

Health Tip

জেনে নিন গর্ভধারনের খুঁটিনাটি পর্ব – ৬
08 May,13
View in English
Tagged In:  pregnancy step  pregnancy care  

pregnant-woman

গর্ভকালীন কোষ্ঠ্যকাঠিন্য – কোমলকারকের ব্যবহার

মহিলাদের গর্ভকালীন কোষ্ঠ্যকাঠিন্য একটি অত্যন্ত কঠিন ও বিরক্তিকর সমস্যা। এই সময়ে অনেকের ক্ষেত্রে পায়খানা কোমলকারক বা Stool Softener ব্যবহার করার প্রয়োজন দেখা দেয়। এটি সাধারনত নিরাপদ। এটি পায়খানা নরম করে এবং বের হয়ে যেতে সাহায্য করে। এর সক্রিয় উপাদানসমূহ শরীরে শোষিত হয় না। ফলে মায়ের পেটে বাড়ন্ত বাচ্চার কোন ক্ষতি হয় না। তারপরেও কোষ্ঠ্যকাঠিন্য সমস্যায় পায়খানা কোমলকারক কিংবা অন্যান্য ল্যাক্সাটিভ জাতীয় পদার্থ ব্যবহার করার পূর্বে অবশ্যই আপনার ডাক্তারের পরামর্শ নিন। তবে অনেক সময় লাইফ স্টাইল পরিবর্তন করেও এই সমস্যার সমাধান সম্ভব। যেমনঃ
 

  •  প্রচুর তরল পান – কোষ্ঠ্যকাঠিন্য দূর করার ভাল উপায় পানি। এছাড়া ফলের রস বিশেষ করে আলুবোখারার রস এক্ষেত্রে খুবই কার্যকর।
  •  দৈনন্দিন কাজে সূচীতে শারীরিক পরিশ্রম – শারীরিক ব্যায়াম বা পরিশ্রম হয় এমন কাজ করুন। যেমন হাঁটা, উন্মুক্ত ব্যায়াম ইত্যাদি। এগুলো কোষ্ঠ্যকাঠিন্য কমাতে সাহায্য করে।
  •  আঁশযুক্ত খাবার তালিকায় রাখুন - আঁশযুক্ত খাবার যেমন ফল, শীম, দানাদার শস্য ইত্যাদি আপনার খাবার তালিকায় রাখুন। কোষ্ঠ্যকাঠিন্য বেশি হলে ডাক্তারের পরামর্শ নিয়ে Fiber Supplement গ্রহন করতে পারেন।
  •  আপনি যদি আয়রন বড়ি খান তবে আপনার কোষ্ঠ্যকাঠিন্য বেড়ে যেতে পারে। সেক্ষেত্রে আপনার ডাক্তারের পরামর্শ নিন। অবশ্য আয়রন গর্ভাবস্থায় অত্যন্ত জরুরী একটি উপাদান।
  • যদি ৩ দিন পর্যন্ত আপনার পায়খানা না হয় তাহলে ডাক্তারের পরামর্শ ও নির্দেশনা অনুযায়ী পায়খানা কোমলকারক বা Stool Softener ব্যবহার করতে পারেন।


গর্ভাবস্থায় মাথাব্যথা

গর্ভাবস্থায় মাথাব্যথা একটি সাধারন উপসর্গ। নানাধরনের ঔষধ আছে যা ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী ব্যবহার করতে পারেন। তবে কিছু কিছু বিষয় মেনে চলে এটি প্রতিরোধ করা সম্ভব। যেমনঃ
 

  •  মাথাব্যথা হয় এমন কিছু এড়িয়ে চলুন – আপনার খাবার, দৈনন্দিন কাজ এবং মাথাব্যথা এগুলোর উপর নজর রাখুন। দেখুন কোন জিনিসটি আপনার মাথাব্যথার কারন। সেটি এড়িয়ে চলুন।
  •  প্রতিদিনের কার্যাবলীতে ব্যায়াম রাখুন।
  •  চাপকে নিয়ন্ত্রনে রাখুন – দৈনন্দিন কাজে চাপমুক্ত থাকার চেষ্টা করুন এবং নিজেকে খাপ খাইয়ে নেয়ার চেষ্টা করুন। অযথা বা অপ্রয়োজনীয় কাজ বাদ দিন।
  •  শিথীলায়ন (Relaxation Techniques) চর্চা করুন। যেমন দীর্ঘ শ্বাস (Deep Breathing), যোগ ব্যায়াম ইত্যাদি।
  •  পর্যাপ্ত তরল গ্রহন করুন। প্রচুর পানি পান, ফলের রস, বা অন্যান্য তরল খাবার গ্রহন করুন।
  •  নিয়মিত ও পর্যাপ্ত ঘুমানোর চেষ্টা করুন। কারন অবসাদ আর অপর্যাপ্ত ঘুম মাথাব্যথার অন্যতম কারন। প্রতিদিন একই সময়ে ঘুমাতে যাওয়া আর একই সময়ে ঘুম থেকে ওঠার চেষ্টা করুন।
  •  শরীর-মন থেরাপি - শরীর-মন বোঝার পদ্ধতি সম্পর্কে জানুন ও ব্যবহার করতে শিখুন। এর মাধ্যমে মাংসপেশির খিঁচুনি, হৃদকম্পন, উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্তরন সহজ হয় আর আপনার মাথাব্যথা প্রতিরোধ করাও সম্ভব। ইচ্ছে করলে আপনি আপনার ডাক্তার কিংবা স্বাস্থ্যসেবা প্রদানকারীর কাছে এসব বিষয়ে জানতে ও Biofeedback Therapist এর স্মরনাপন্ন হতে পারেন।


মাথাব্যথা হলে কী করবেন
 

  •  বিশ্রাম – আলোহীন বা কম আলোযুক্ত নিরিবিলি ঘরে চোখ বন্ধ করে কিছুক্ষন শুয়ে থাকুন।
  •  সেঁক দেওয়া – গালে, চোখের উপর, কপালে, ঘাড়ে তোয়ালে কিংবা নরম কাপড় দিয়ে গরম সেঁক দিতে পারেন।
  •  মালিশ করা – কাউকে দিয়ে কাঁধ, ঘাড়, হাতের তালু ইত্যাদি মালিশ করিয়ে নিতে পারেন।
  •  এগুলোর কোনটিতে যদি উপশম না হয় তবে ডাক্তারের পরামর্শ নিন, ঔষধ সেবন করুন। আপনি চাইলে হারবাল মেডিসিনও ব্যবহার করতে পারেন।


গর্ভাবস্থায় স্তন্যদান

সাধারনত গর্ভাবস্থায় স্তন্যদানে কোন সমস্যা নাই - যতক্ষন পর্যন্ত আপনি পর্যাপ্ত খাবার ও তরল গ্রহন করছেন। স্তন্যদানকালীন সামান্য প্রসাবের সমস্যা দেখা দিতে পারে যা স্বাভাবিক গর্ভধারনের ক্ষেত্রে কোন সমস্যা নয়। তবে আপনার যদি প্রসব পূর্ব তীব্র ব্যাথার ইতিহাস থাকে, বা জরায়ু ব্যাথা বা রক্তক্ষরনের অভিজ্ঞতা থাকে তবে আপনার ডাক্তার আপনাকে স্তন্যদানে নিরুৎসাহিত করতে পারেন।

গর্ভাবস্থায় স্তন্যদান বিষয়টি আপনার স্বস্তি বা আরামের উপরও নির্ভর করে। কারন গর্ভাবস্থায় স্তন ও স্তনের বোঁটায় অস্বস্তি ও ব্যাথা অনুভূত হতে পারে। এটি স্তন্যদানে বেড়ে যেতে পারে। আবার গর্ভকালীন অবসাদও এক্ষেত্রে বাধা হয়ে উঠতে পারে। আর যদি স্তন্যদান চালিয়ে যেতেই হয় সেক্ষেত্রে খুব কাছের কারো সাহায্য আপনার একান্ত দরকার সেই সাথে ডাক্তারের পরামর্শ তো নিতেই হবে।

সৌজন্যেঃ হেলথ প্রায়র ২১।

Please Login to comment and favorite this Health Tip
Next Health Tips: Getting Pregnant Part - 7
Previous Health Tips: জরায়ুমুখের ক্যানসার

More in Health Tip

বিউটি টিপস

ত্বক ফর্সা বা কালো হওয়ার বিষয়টি নির্ভর করে মেলানিনের উপর । এর আধিক্য বেশি হলে গায়ের রঙ কালো আর কম হলে ফর্সা হয়ে থাকে । তবে প্রাকৃতিক কিছু উপাদানে রয়েছে এনজাইম ও হরমোন যা ত্বকের কোষ সুস্থ করে ত্বককে করে তলে উজ্জ্বল । ত্বকের রঙ ফর্সা করতে মখে নিয়মিত ব্যাবহার করতে হবে । * মুখে দই লাগাতে... See details

ত্বক ও চুলের যত্নে আলুর ব্যবহার

প্রতিটি রান্নাঘরেই আলু সবচেয়ে বেশী ব্যবহৃত সবজি। আলুতে আছে প্রচুর পরিমাণে তন্তু ও ভিটামিন-এ যা শরীরের জন্য অত্যন্ত উপকারী। ত্বক ও চুলের জন্যও এটি অনেক উপকারী। ত্বকের ক্ষেত্রে এটি কালো দাগ,রোদে পোড়া দাগ, বলিরেখা, চোখের নিচে কালো দাগ, চোখের ফোলা ভাব, মুখে ক্লান্তির ভাব, বয়সের ছাপ দূর করে। চুলের... See details

চুল ধোয়ার সাতকাহন

চুলের যত্নে আমরা সবসময়ই সচেতন। কিন্তু সেটা শ্যাম্পু, কন্ডিশনার প্রভৃতির ব্যবহার পর্যন্তই। অথচ চুলে এসবের ব্যবহারটা কেমন হবে বা চুল ধোয়ার নিয়ম কোনটাই মেনে চলি না আমরা। আর সেজন্যই চুলের বারটা বেজে যায়। সেকারণে চুল ধোয়ার কিছু সাতটি নিয়ম নিয়েই আজকের আয়োজন। ♦ আমরা প্রতিদিন চুল ধুই। কিন্তু সেটা... See details

দুঃসময় পাড়ি দিতে

দুঃসময় যাচ্ছে? জীবনে যখন দুঃসময় আসে তখন সবকিছুই যেন কঠিন দুর্বিষহ হয়ে ওঠে। কঠিন এ সময়ে ইতিবাচক থাকা চাই। দুঃসময়ে ইতিবাচক থাকতে যে পরামর্শগুলো কাজে লাগতে পারে তা নিয়ে টাইমস অব ইন্ডিয়া একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। চাই ইতিবাচক মানুষের সাহচর্য দুঃসময়ে আপনার পাশে ইতিবাচক মানুষ থাকা প্রয়োজন।... See details

কোলেস্টরল কমাতে মধু ও বাদাম

শরীরে অতিরিক্ত কোলেস্টেরলের কারণে হতে পারে নানা সমস্যা। কারণ হৃদরোগসহ নানা রোগের অন্যতম কারণ এই কোলেস্টেরল। তবে এই কোলেস্টেরলের মাত্রা কমাতে মধু এবং বাদাম বিশেষভাবে কার্যকর। বিজ্ঞানীরা বলছেন, মধু এবং বাদামাদের পাশাপাশি খেতে হবে ফল এবং সবজি। দুটি আলাদা গবেষণায় দেখা গেছে, খাবারের ব্যাপারে সচেতন... See details

টিনএজারদের ব্রণ সমস্যা

ব্রণ  টিনএজারদের  পরিচিত  সমস্যা।  ব্রণ  বা  একনি  শতকরা  ৮০  ভাগ  টিনএজারদের  সমস্যা।  মুখের  ত্বকের সৌন্দর্যহানির  জন্য  ব্রণ  দায়ী।  ছেলেদের  ব্রণ  তীব্রতার  দিক  থেকে  বেশি হলেও,... See details

healthprior21 (one stop 'Portal Hospital')