home top banner

স্বাস্থ্য টিপ

জেনে নিন গর্ভধারনের খুঁটিনাটি – পর্ব ২
১১ এপ্রিল, ১৩
View in English
Tagged In:  pregnancy care  pregnancy step  

getting-pregnantজরায়ুতে ভ্রুন স্থাপনকালীন রক্তপাত
সাধারনত গর্ভধারনের ১০ থেকে ১৪ দিনের মধ্যে সচারচর রক্তপাত হতে দেখা যায়। এটি সম্পূর্ন স্বাভাবিক। নিষিক্ত ডিম্বানুটি জরায়ুতে প্রতিস্থাপনকালীন এই রক্তপাত ঘটে। স্বল্পেস্থায়ী এই রক্তপাত মাসিককালীন রক্তপাতের চাইতে হালকা ১/২ দিনব্যাপি মাসিক রক্তপাতের মতই হয়ে থাকে। কারো কারো ক্ষেত্রে এই রক্তপাত নাও হতে পারে আবার কেউ কেউ খেয়ালও করেন না। অনেক সময় মাসিক ভেবে অনেকে ভুল করেন। এমনটি হলে বাচ্চা প্রসবের সঠিক সময় নির্ধারনে ভুল হতে পারে। জরায়ুতে ভ্রুন স্থাপনকালীন রক্তপাত আপনা থেকেই বন্ধ হয়ে যায় এবং এর জন্য চিকিৎসার প্রয়োজন হয় না। তবে রক্তপাত যদি দীর্ঘসময়ব্যাপি হয় এবং যদি মনে হয় এটি জরায়ু কিংবা যোনী সংক্রান্ত কোন রক্তপাত, তাহলে কালবিলম্ব না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।

প্লাসেন্টা বা অমরা বা গর্ভফুল
পুরো গর্ভকালীন সময় জুড়ে গর্ভফুল গুরুত্বপূর্ন ভূমিকা পালন করে। ভ্রুনের সাথে মাতৃদেহের সংযোগ স্থাপনকারি জরায়ুর এই গর্ভফুল মায়ের দেহ থেকে প্রয়োজনীয় অক্সিজেন ও অন্যান্য পুষ্টি শিশুর দেহে সরবরাহ করে এবং শিশুর রক্তের অপ্রয়োজনীয় অংশ সরিয়ে নেয়। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে গর্ভফুল জরায়ুর উপরের অংশে কিংবা পার্শ্বে স্থাপিত থাকে।

বিভিন্ন কারনে এই গর্ভফুলে সমস্যা দেখা দিতে পারে। কোনটি স্বাভাবিক অবস্থায় নিয়ে আসা সম্ভব আবার কোন কোন ক্ষেত্রে সম্ভবপর হয় না।

যার মধ্যে মায়ের বয়স। সাধারনত ৪০ বছরের অধিক বয়সে গর্ভধারনের ক্ষেত্রে এধরনের সমস্যা দেখা দিতে পারে।

কোন কারনে বাচ্চার থলি বা amniotic sac এর গাত্রে ছিদ্র হলে বা প্রসবের পূর্বে ভেংগে গেলে গর্ভফুলের ক্ষতি হতে পারে।

উচ্চ রক্তচাপ জনিত কারনেও ক্ষতি হতে পারে।

আবার জমজ বা একাধিক বাচ্চা ধারনেও গর্ভফুল ক্ষতিগ্রস্থ হওয়ার ঝুঁকি বাড়ে। যেসব মায়ের শরীরে রক্ত জমাট বাঁধার প্রবনতা থাকে তাদের ক্ষেত্রে গর্ভফুলের সমস্যা দেখা দিতে পারে। এগুলো ছাড়া আরো যেসব কারনে গর্ভফুলে সমস্যা বা ক্ষতিগ্রস্থ হতে পারে তার মধ্যে আছে পূর্বে যদি জরায়ুর অপারেশন হয়ে থাকে, আগের গর্ভধারনের ক্ষেত্রে যদি গর্ভফুলের সমস্যা হয়ে থাকে, গর্ভবতি মা যদি গর্ভকালীন সময়ে ধুমপান, নেশাদ্রব্য সেবন করে থাকে, পেটের কোন আঘাত ইত্যাদি কারনে গর্ভফুলে ছিদ্র, ভেংগে যাওয়া, ইনফেকশন হতে পারে।

গর্ভফুলের সমস্যাগুলোকে প্রধানত দুইভাগে ভাগ করা যায়। যেমনঃ placenta previa এবং placenta accreta. আর এই দুই ক্ষেত্রেই প্রচুর রক্তপাত হতে পারে এবং আগেভাগেই ডেলিভারী বা সিজারিয়ান অপারেশনের প্রয়োজন হতে পারে।

যদি যোনীপথে রক্তপাত, পেটে ব্যাথা, অসহ্য পিঠে ব্যাথা, ঘন ঘন প্রসাব হওয়া ইত্যাদি লক্ষন দেখা দেয়, তবে দেরী না করে অতি সত্ত্বর ডাক্তারের পরামর্শ গ্রহন করুন।

বমি বা বমিভাব
বমি বা বমিভাব সাধারনত গর্ভধারনের প্রথম তিনমাসে দেখা দিতে পারে। এগুলোকে অবশ্য morning sickness বলে যা স্বাস্থ্যকর গর্ভধারনের লক্ষন হিসাবে বিবেচিত। নিষিক্ত ডিম্বানু জরায়ুতে স্থাপিত হওয়ার পর পরই মাতৃদেহে Human Chorionic Gonadotropin (HCG) নামক হরমোন নিঃসরন হতে থাকে। যা কিনা গর্ভধারনের জন্য অপরিহার্য এবং এর প্রভাবেই বমি বা বমিভাব দেখা দেয়।

এছাড়া বমি বা বমিভাবের অন্যান্য মতগুলো হচ্ছে ভ্রুন বা শিশুর দেহ কর্তৃক খাবার ক্ষতিকর বস্তু/অংশ ফিরিয়ে দেয়ার প্রভাব, বিশেষ বিশেষ খাবার বা এর উপাদান গ্রহনে উদবুদ্ধ করা যা শিশুর দেহের জন্য অপরিহার্য, শিশুর ও গর্ভবতি মায়ের দেহের নতুন নতুন কোষ-কলা তৈরীর বিরুপ প্রতিক্রিয়ার সাথে দেহকে খাপ খাইয়ে নেয়া ইত্যাদি।

এসব সবার ক্ষেত্রে নাও ঘটতে পারে। আর এসব লক্ষন দেখা না দিলে উদবিগ্ন হওয়ার কিছু নাই। তবে অতিরিক্ত বমি বা বমিভাব অনেক সময় কোন জটিল সমস্যার লক্ষন বলে বিবেচিত হতে পারে। অতএব দেরী না করে ডাক্তারের কাছে যান।

সৌজন্যেঃ হেলথ প্রায়র ২১

 

Please Login to comment and favorite this Health Tip
Next Health Tips: What is Mouth ulcers?
Previous Health Tips: Getting Pregnant Part- 1

আরও স্বাস্থ্য টিপ

পুদিনা পাতায় অসাধারণ ঘরোয়া চিকিৎসা

পুদিনা পাতাকে আমরা শুধুমাত্র রান্নার স্বাদ বাড়ানোর কাজেই ব্যবহার করে থাকি। সাধারণত অন্য কোনো কাজে আমরা পুদিনা পাতা ব্যবহার করি না। কিন্তু এই পুদিনা পাতা আমাদের দেহের জন্য অত্যন্ত ভালো একটি জিনিস। আমাদের নানান ভুলে দেহে বাসা বাঁধা দীর্ঘমেয়াদী কিছু রোগের চিকিৎসায় আমরা এই প্রাকৃতিক মহাঔষধটি ব্যবহার... আরও দেখুন

টুপ করে আবর্জনা পড়ল গায়ে

‘কয়েক সপ্তাহ আগের কথা। বাসায় ফিরছি আর হঠাৎ করেই নামল ঝুম বৃষ্টি। কাকভেজা হয়ে দৌড়ে আশ্রয় নিলাম পাশের সুউচ্চ অ্যাপার্টমেন্ট হাউজিংয়ের গেটের সামনে। বলা নেই কওয়া নেই, বজ্রপাতের মতো হঠাৎ দেখলাম ওপর থেকে পলিথিন ভর্তি আবর্জনা সোজা রাস্তার মাঝখানে পড়ল। সঙ্গে সঙ্গেই ওপরে তাকিয়ে দেখি কেউ... আরও দেখুন

দুঃসময় পাড়ি দিতে

দুঃসময় যাচ্ছে? জীবনে যখন দুঃসময় আসে তখন সবকিছুই যেন কঠিন দুর্বিষহ হয়ে ওঠে। কঠিন এ সময়ে ইতিবাচক থাকা চাই। দুঃসময়ে ইতিবাচক থাকতে যে পরামর্শগুলো কাজে লাগতে পারে তা নিয়ে টাইমস অব ইন্ডিয়া একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। চাই ইতিবাচক মানুষের সাহচর্য দুঃসময়ে আপনার পাশে ইতিবাচক মানুষ থাকা প্রয়োজন।... আরও দেখুন

আঙুলে অঙ্গুরি

এই গরমে এত এত গয়না পরে থাকাটা তো মোটেও কাজের কথা নয়। তবে পোশাকের সঙ্গে মিলিয়ে অনুষঙ্গ তো পরাই চাই। হাতে বড়একটি আংটি পরে নজর কাড়তে পারেন এই সময়ে।গয়নার দোকান অ্যারাবিয়ানসের ব্যবস্থাপক সনৎ হাজরা বলেন, ‘সোনার দামটা এখন অনেকের নাগালের বাইরে। তাই বিকল্প হিসেবে বেছে নেওয়া যেতে পারে... আরও দেখুন

পেটে গ্যাস হয় কেন?

অনেকেই কমবেশি এক অস্বস্তিকর পরিস্থিতিতে পড়েন। সবার সঙ্গে বসে কথা বলছেন, হঠাৎ পেটে নিম্নমুখী চাপ, অর্থাৎ গ্যাস। একটু বেশি বয়সে এ সমস্যা বেশি হয়।পেটে গ্যাসের আক্রমণ কেন হয়, সে সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা থাকলে আপনি সহজেই অপ্রীতিকর অবস্থা এড়াতে পারেন। আঁশযুক্ত খাবার ও শাকসবজি বেশি খেলে পাকস্থলী তার... আরও দেখুন

প্রশ্ন: উচ্চ রক্তচাপের রোগী ও হূদেরাগীরা কি দুধ খেতে পারবেন?

উত্তর: উচ্চ রক্তচাপ বা হূদেরাগের জন্য দুধ খেতে কোনো মানা নেই। দুধে যেটুকু চর্বি আছে, তার চেয়ে অনেক বেশি আছে উপকারী উপাদান, যেমন আমিষ, ক্যালসিয়াম ও অন্যান্য ভিটামিন ও খনিজ। দুধ খাওয়া বন্ধ না করে বরং তাড়া এড়িয়ে চলবেন উচ্চ ক্যালরি যুক্ত ও ট্রান্সফ্যাট সমৃদ্ধ খাবার, যেমন কেক, পেস্ট্রি,... আরও দেখুন

healthprior21 (one stop 'Portal Hospital')