স্বাস্থ্য গবেষকরা বলেন যে তারা গবেষনায় দেখেছেন সাদা চালের ভাত খাওয়ার সাথে টাইপ-২ ডায়াবেটিসের সম্পর্ক রয়েছে। টাইপ-২ ডায়াবেটিস ইতোমধ্যে কিছু কিছু দেশে মহামারী আকারে দেখা দিচ্ছে।
হার্ভার্ড স্কুল অব পাবলিক হেলথ এর গবেষক ‘কি সান’ এএফপি কে বলেন, “আমরা গবেষনায় পেয়েছি যে সাদা চালের ভাত (মেশিনে পলিশ করা) খেলে টাইপ-২ ডায়াবেটিসের ঝুঁকি বাড়ে। বিশেষ করে এশিয়ার জনগনের এই ঝুঁকি বেশি যারা অধিকহারে ভাতের উপর নির্ভরশীল”।
“তবে একই সাথে তারা অন্যান্য যেসব জিনিস খায় তার প্রতিও নিবিড়ভাবে নজর দেয়া প্রয়োজন। আসলে শুধু একটা খাদ্যের উপর নজর না দিয়ে পুরো খাদ্য প্রনালীর উপর মনযোগ দেয়া উচিত”- মনে করেন ‘কি সান’।
ব্রিটিশ মেডিকেল জার্নালে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে ‘কি সান’ এর গবেষকদল মত প্রকাশ করেন যে চীন, জাপান, অস্ট্রেলিয়া আর আমেরিকায় পরিচালিত গবেষনায় (যা ইতোমধ্যে প্রকাশিত) প্রাপ্ত ফলাফলে তারা উপরোক্ত লিঙ্ক বা সংযোগ খুঁজে পেয়েছেন। চার থেকে বাইশ বছর ধরে প্রায় ৩৫০,০০০ লোকের উপর পরিচালিত গবেষনায় দেখা গেছে যে প্রায় ১৩,০০০ লোক টাইপ-২ ডায়াবেটিসে আক্রান্ত হয়েছেন যারা সাদা চালের ভাতের উপর অধিক নির্ভরশীল।
চীন ও জাপানে পরিচালিত গবেষনায় দেখা যায় প্রায় ৫৫% লোক যারা অন্যদের তুলনায় সাদা চালের ভাত বেশি খান। অস্ট্রেলিয়া ও আমেরিকাতে এই হার খুবই কম, মাত্র ১২%।
চীন ও জাপান, এশিয়ার এই দু’টি দেশের জনগন দৈনিক ৩ থেকে ৪ বার ভাত খান যেখানে পশ্চিমা জনগন খায় সপ্তাহে মাত্র ১/২ বার। সাদা চাল সারা দুনিয়াতেই প্রধান চাল হিসাবে খাওয়া হয় বিশেষ করে যেসব দেশ ভাতের উপর নির্ভরশীল। দেখতে সুন্দর এসব চাল মেশিনে ছাঁটা ও পলিশ করা যাতে স্টার্চের প্রাধান্য থাকে বেশি।
অন্যদিকে বাদামী চালে সাদা চালের তুলনায় অনেক বেশি আঁশ বা ফাইবার থাকে, থাকে ম্যাগনেসিয়াম ও ভিটামিন, স্বল্প মাত্রার ‘গ্লাইসেমিক ইনডেক্স’-সুগার মাপার একক।
তবে ‘সান’ জানিয়েছেন যে তাদের গবেষনায় কিছু সীমাবদ্ধতাও রয়েছে যেমন তারা যাদের উপর গবেষনা চালিয়েছেন তাদের উপর ১০০% নজরদারী করা সম্ভবপর হয়ে উঠেনি যে তারা ভাত ছাড়া আরো কি কি খান।
আমেরিকার সেন্টার ফর ডিজিজ কন্ট্রোল এন্ড প্রিভেনশন (সিডিসি)’র মতে সারা বিশ্বে প্রায় ৩৫০ মিলিয়ন বা প্রায় ৩৫ কোটি মানুষ বর্তমানে টাইপ-২ ডায়াবেটিসে আক্রান্ত। আর এই রোগের জন্য দায়ী প্রধানতঃ খাদ্যাভ্যাস। টাইপ-২ ডায়াবেটিস এমনই একটি রোগ যাতে রক্তে সুগারের বা শর্করার মাত্রা বেশি থাকে যা ইনসুলিন হরমোন কর্তৃক প্রক্রিয়াজাত হয়ে নিয়ন্ত্রিত হতে পারে না। স্থুলতা আর শারীরিক ব্যায়াম বা পরিশ্রম না করাকেও এই রোগের জন্য দায়ী মনে করা হয়।

