সিঁড়ি বেয়ে উপরে উঠতে উঠতে কিংবা কোন ঢাল বেয়ে উপরে উঠতে গিয়ে পায়ের গোড়ালী, হাঁটুর বাটি ধরে গেছে, পা ফুলে গেছে বলে অনেকেই ধপাস বসে পড়েন কিংবা বেশ ক’দিন ধরে ব্যাথায় ভুগতে পারেন। এটি ধরে নেয়া যায় স্বাভাবিক। কিন্তু যখন পা ফুলে যাওয়ার কারন এবং ব্যাথা কেন হচ্ছে তা’ আপনার জানা নেই, সেক্ষেত্রে অবশ্যই আপনাকে সতর্ক হতে হবে।
আমাদের পায়ে আছে হৃদযন্ত্র থেকে পেশিতে ধমনী এবং পেশি থেকে হৃদযন্ত্রের দিকে শিরার এক গুরুত্বপূর্ন গুচ্ছ। চামড়ার ঠিক নীচে যে শিরাগুলো দেখা যায় সেগুলো হল সুপারফিসিয়াল ভেইন, যেগুলোর মাধ্যমে মহাশিরা থেকে রক্ত পেশিতে পৌঁছে। এগুলোতে ছোট ছোট ভাল্ব বা কপাটিকা থাকে যাতে রক্ত অন্যদিকে বা ভুল পথে প্রবাহিত না হয়। তো এই ভেইনগুলো যখন কোন কারনে ছিঁড়ে যায় কিংবা আঘাতপ্রাপ্ত হয়, বা কপাটিকাগুলো যদি কোন কারনে নষ্ট হয় বা পায়ের কোন স্থান জখমপ্রাপ্ত হয়, তখন সেখানে রক্ত জমাট বাধে। যা ডীপ ভেইন থ্রোম্বসিস বা ডিভিটি নামে পরিচিত। রক্ত জমাট বাধার কারনে ঐ স্থানে রক্তের স্বাভাবিক প্রবাহ বন্ধ হয়ে যায়। ফলে পা ফুলে যায়।
এসব জমাট বাধা রক্ত অনেক সময় ভেঙ্গে গিয়ে ছোট ছোট টুকরায় পরিনত হয় এবং রক্তের মাধ্যমে প্রবাহিত হয়ে ফুসফুস কিংবা মস্তিষ্কে চলে যেতে পারে এবং ফুসফুসের কাজে বা মস্তিষ্কের কাজে ব্যাঘাত ঘটাতে পারে। ফুসফুসের ক্ষতিকে ‘পালমোনারি এমবোলিজম’ বলে। আর মস্তিষ্কে প্রবাহিত হয়ে স্ট্রোক ঘটাতে পারে। তবে এটা সহসা ঘটে না। কিন্তু ঘটলে এটা মারাত্মক হতে পারে। এমনকি মৃত্যুও ঘটাতে পারে।
ডাক্তাররা এসব ক্ষেত্রে সাধারনত এন্টি-কোগুলেশন ড্রাগ দিয়ে থাকেন যাতে জমাট না বাধে এবং ভেঙ্গে গিয়ে টুকরায় পরিনত না হতে পারে। যাদের ডিভিটি আছে এবং স্থুলকায় কিংবা ধুমপায়ী, তাদেরকে অবশ্যই তাদের লাইফ স্টাইলে পরিবর্তন আনতে হবে। কারন ওজন বেড়ে যাওয়া, ধুমপান এগুলো ঝুঁকি যেমন বাড়িয়ে দেয় তেমনি বাড়ায় ডিভিটি’র তীব্রতা।
(পরের পর্বে দেখুন হাত-পা জ্বালাপোড়া)
ডিসকভারি ফিট এন্ড হেলথ থেকে হেলথ প্রায়র ২১।

