আপনার জীবনাচরণ, খাদ্যাভ্যাস, দেহের ব্যবহার ইত্যাদি নানাবিষয় প্রভাব ফেলে আপনার স্মৃতির উপর।
প্রভাব বিস্তার করে আপনার স্বাস্থ্য আর ভাল-মন্দ, সুখ-সম্মৃদ্ধের উপরও। তবে ৫টি বিষয়ে আপনি
যত্নবান হলে আপনার দেহ যেমন থাকবে চাঙ্গা, মন থাকবে ফুরফুরে তেমনি স্মৃতি থাকবে শাণিত, অটুট।
রোজকার অবিরাম চাপে আপনি দিশেহারা! নির্ধারিত সময়সীমা আর গাঁদা গাঁদা কাজের চাপ আপনার
জীবনকে তছনছ করে দেয়, নিয়ম-কানুনের ব্যত্যায় ঘটায়, আপনার সামর্থ্যের হানি ঘটায়, সব কিছুকেমন
যেন ভুলিয়ে দেয়। কিন্তুসবচেয়ে যেটা বড় সমস্যা তা’ হল দুশ্চিন্তা বাড়িয়ে দেয়। যাতে আপনার স্মৃতিশক্তি
মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। আপনি যদি স্ট্রেস বা চাপ নিয়ন্ত্রনে কোন কৌশলের আশ্রয় না
নেন, তাহলে স্মৃতিশক্তি এতটাই ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে যে সেখান থেকে পুনরুদ্ধার করা হয়তো কঠিন হয়ে
পড়বে। ডীপ ব্রেদিং বা গভীর শ্বাস-প্রশ্বাস, মেডিটেশন, যোগ ব্যায়াম, আর সব কিছুতে সচেতনভাবে
অংশগ্রহণ - আপনার মেমোরি বা স্মৃতিকে শাণিত রাখতে পারে।
২। অটুট রাখুন রাতের গভীর ঘুম
যারা দীর্ঘদিন যাবত রাতে ভাল ঘুমাতে পারেন না, তাদের ক্ষেত্রে আস্তে আস্তে ভুলে যাওয়ার প্রবনতা
বাড়তে থাকে। অন্যদিকে যাদের রাতে ভাল ঘুম হয় তাদের স্মৃতিশক্তি আরোপ্রখর হয়। ভাল ঘুম না
হওয়ার অন্যতম কারন ইনসোমনিয়া বা অনিদ্রা। সহজে ঘুমাতে না পারা কিংবা স্বল্পস্থায়ী ঘুম বা
অল্পতেই ঘুম ভেঙ্গে যাওয়া এর লক্ষণ। আজকাল ইনসোমনিয়ার চিকিৎসায় অনেক ধরনের ঔষধ ব্যবহার
করা হয়। এগুলো দীর্ঘদিন ব্যবহারের ফলে মেমোরির আরো ক্ষতি হয়। এমনকি মস্তিষ্কের বিভিন্ন
কার্যক্রমেও ব্যাঘাত ঘটায়। সেজন্য প্রথমে চেষ্টা করা দরকার আপনার ঘুমানোর অভ্যাস পাল্টানোর,
যদি তাতে কোন অসংগতি থাকে। এতে যদি কাজ না হয় তখনি কেবল মেডিকেশনের আশ্রয় নেয়া যাতে পারে।
তবে প্রথম প্রথম খুব অল্প মাত্রায় এবং অল্পদিনের জন্য সেবন করতে পারেন। মেডিকেশন ছাড়া অভ্যাস
পালটানো, বিভিন্ন প্রাকৃতিক পদ্ধতি অবলম্বন, হালকা যোগ ব্যায়াম ইত্যাদির মাধ্যমে চেষ্টা করুন
আপনার ঘুমকে গভীর ঘুমে নিয়ে যাওয়ার।
৩। ধুমপান করছেন? ছেড়ে দিন এখনই
হুম! বলা যত সহজ, ছাড়া তত সহজ নয়। তবে এটা সত্যি যে, আপনার ইচ্ছা শক্তি বেশি থাকলে অবশ্যই
সম্ভব। কারণ আপনার জানা উচিত যে, ধুমপান আপনার মেমোরি লসের অন্যতম কারন। যারা ধুমপান
করেন না তাদের তুলনায় ধুমপায়িদের দ্রুত মেমোরি সংক্রান্ত সমস্যা দেখা দেয়। যারা দিনে ২ প্যাকের
বেশি ধুমপান করেন, বিশেষ করে মধ্যবয়সি লোকেরা, তাদের বৃদ্ধ বয়সে ডেমেনসিয়া হওয়ার ঝুঁকি যারা
ধুমপান করেন না তাদের চেয়ে দ্বিগুন বেশি।
৪। এ্যালকোহল অভ্যস্ত? ছেড়ে দিন, নয়তো নিদেনপক্ষে যতটা সম্ভব কম পান করুন
অতিরিক্ত এ্যালকোহল পানে স্মৃতিভ্রষ্ট হওয়া এবং ডেমেনসিয়া’র ঝুঁকি বাড়ে। এ্যালকোহলে আসক্তরা
ক্ষনিক আগে সমাপ্ত হওয়া কাজগুলো ভুলে যান, হয়তো কোন তালিকা মনে করতে পারছেন না বা একটু
আগে কি ঘটেছিল মনে করতে পারছেন না ইত্যাদি। এ্যালকোহলের কারনের আরেক ধরনের স্মৃতিভ্রষ্ট
হওয়া দেখা দেয় যাকে বলা হয় ‘কোরাসাকফ’স সিনড্রোম’। দীর্ঘদিন এ্যালকোহল পানে মস্তিষ্কে
বিষক্রিয়ার সৃষ্টি হয়, যাতে মস্তিষ্কের জন্য অতি প্রয়োজনীয় ভিটামিন ‘বি১’ এর ঘাটতি দেখা দেয় – যা
হঠাৎ করে সম্পূর্ন বা আংশিকভাবে স্মৃতি বিলোপ ঘটাতে পারে, যাকে এ্যামনেসিয়া বলে। তবে প্রাথমিক
অবস্থায় ধরা পড়লে এবং এ্যালকোহল পান বন্ধ করলে কিছুটা হলেও স্মৃতিকে ফিরিয়ে আনা সম্ভব।
৫। মস্তিষ্ককে যেকোন আঘাত থেকে সুরক্ষা দিন
মেমোরি লসের অন্যতম প্রধান কারন মাথায় আঘাত পাওয়া। শুধুতা-ই নয় এতে ডেমেনসিয়া হওয়ার ঝুঁকি
অনেকগুন বেড়ে যায়। দ্রুত গতি কোন কাজ বা খেলাধুলা যেখানে শক্তি প্রয়োগ এবং দ্রুত গতি দুটোই
আছে, এমন সব ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় সুরক্ষা নিয়ে নামতে হবে। গাড়ী চালানো কিংবা গাড়ীতে চলার সময়
সীট বেল্ট বেধে নিন। কারন মস্তিষ্কের জখমের একটি অতি সাধারন কারন হল গাড়ী দূর্ঘটনা। সীট বেল্ট
এক্ষেত্রে মাথায় কোন গুরুতর আঘাত পাওয়া থেকে সুরক্ষা দিতে পারে। যারা সাইকেল, মটরসাইকেল চালান,
যারা স্কেটিং কিংবা স্কিইং করেন, তাদের অবশ্যই হেলমেট পড়ে নিতে হবে।
হার্ভার্ড মেডিকেল স্কুল থেকে হেলথ প্রায়র ২১।

