এভয়েডেন্ট পারসোনালিটি ডিজঅর্ডার
25 July,13
View in English

মনঃরোগঃ ব্যক্তিত্ব সংকট
নারসিসিস্টিক পারসোনালিটি ডিজঅর্ডারের পর আজ আমরা আলোচনা করব Avoidant Personality Disorder বা বাংলায় বলা যায় “ব্যক্তিত্ব সংকটঃ এড়িয়ে চলার প্রবনতা”। সমাজে অনেক ব্যক্তি আছেন যাদের সামাজিক বিভিন্ন কাজে অংশ নেয়ার প্রবনতা বা ইচ্ছা আছে, কিন্তু লজ্জা-সংকোচ, অপর্যাপ্ততা কিংবা অতি-সংবেদনশীল অনুভূতির কারনে তারা সেটা করতে পারেন না। এতে তারা সবসময় নেগেটিভ সমালোচনার ভয় পান বা ভাবেন তার কাজ হয়তো বাতিল বলে গন্য হবে। হয়তো তিনি ভাবতে পারেন তার কাজের মূল্যায়ন যথাযথভাবে হবে না। ফলে সবসময় একটা জড়তা তাকে ঘিরে ধরে, সবসময়ে নিজেকে আনাড়ি ভাবেন, বিব্রতবোধ করেন। এসব অনুভূতির ফলে তিনি সামাজিক কোন কাজ কিংবা অনুষ্ঠান এড়িয়ে চলেন। এধরনের ব্যক্তিত্বসম্পন্ন ব্যক্তিরা অন্যের সাথে সম্পর্ক রক্ষা করতে পারেন না। দিনে দিনে তাদের জীবন হয়ে ওঠে একঘরে। এক হিসাবে দেখা গেছে যে, মোট জনসংখ্যার প্রায় ১% লোক এই এভয়েডেন্ট পারসোনালিটি ডিজঅর্ডারের ভোগে।
লক্ষণসমূহঃ
এড়িয়ে চলার প্রবনতা আসলে একগুচ্ছ আচরন দিয়ে প্রকাশ পায়। যার মধ্যে আছেঃ কাজ এড়িয়ে চলে।
সমালোচনা বা প্রত্যাখ্যাত হবার ভয়ে স্কুল কিংবা কোন সামাজিক কার্যক্রম থেকে নিজেকে আড়াল করে রাখে।
তার ভিতরে একধরনে অনুভূতি কাজ করে, যাতে সে ভাবে যে সামাজিক কোন অনুষ্ঠানে সে হয়তো অনাহুত বা তাকে কেউ পছন্দ করছে না, বিষয়টা যদিও তা নয়।
আর এটা এজন্য যে, সে সমালোচনা সহ্য করতে পারে না এবং নিজেকে অন্যদের তুলনায় তুচ্ছ ভাবে।
আরো আছে নিজের প্রতি তার খুব নীচুমানের আস্থা। ফলে নিজেকে অন্যদের থেকে আলাদা করে ফেলে।
কোন সামাজিক অনুষ্ঠানে ‘এড়িয়ে চলার প্রবনতা সম্পন্ন ব্যক্তিরা কথা বলতে ভয় পায়। কারন ভাবে যে, সে যা বলবে তা হয়তো ভুল বলবে, লজ্জিত হওয়ার ভয়, তোঁতলানোর ভয় কিংবা অন্য যে কোন ধরনের বিব্রত হওয়ার ভয় তাকে আড়ষ্ট করে দেয়।
এধরনের ব্যক্তিত্বসম্পন্নরা সামাজিক অবস্থান ও অনুষ্ঠানে অস্বস্তিতে যাতে পড়তে না হয় সে ব্যাপারে সচেতন থাকে এবং প্রায়শঃ নিজেকে অযোগ্য ভাবে। তার এধরনের লাজুকতা আর বিচলিত ভাবের কারনে যে কোন মন্তব্য সে প্রত্যাখ্যাত হওয়া কিংবা তার বিরুদ্ধে বিরুপ সমালোচনার দৃষ্টিতে দেখে।
সামাজিক প্রভাব
আমরা আগেই বলেছি যে এভয়েডেন্ট পারসোনালিটি ডিজঅর্ডারে ভুগতে থাকা মানুষের মধ্যে সামাজিকভাবে প্রত্যাখ্যাত হবার ভয় থাকে, তাই সে অন্য কারো সাথে সম্পর্ক স্থাপনেও ভীত থাকে। অন্যের সাথে বন্ধুত্ব গড়তেও ইতস্ততঃ বোধ করে। তবে নিশ্চিত হলে অন্য কথা যে অন্যে তাকে প্রত্যাখ্যান করবে না। আবার অনেক সময় সম্পর্ক হলেও দেখা যায় যে সে তার মনের কথা খুলে বলতে পারছে না কিংবা বলতে পারছে না তার অনুভূতির কথাগুলো। যার ফলে অন্তরংগ সম্পর্ক অথবা বন্ধুত্ব রক্ষা করা কঠিন হয়ে পড়ে।
American Psychiatric Association’s Diagnostic and Statistical Manual of Mental Disorders এর মতে নীচের বৈশিষ্ট্যগুলোর মধ্যে থেকে যে কোন ৪টি বৈশিষ্ট্য যদি কারো মধ্যে ধরা পড়ে তাহলে তাকে আমরা এভয়েডেন্ট পারসোনালিটি ডিজঅর্ডারে ভুগছে বলে সনাক্ত করতে পারি। বৈশিষ্ট্যগুলো হলঃ
কেউ যখন তার পেশাগত দায়িত্ব এড়িয়ে চলে যার মধ্যে গুরুত্বপূর্ন দায়িত্ব হচ্ছে ইন্টারপারসোনাল কনটাক্ট। আর এসবই সেই একই কারনে অর্থাৎ বিরুপ সমালোচনার ভয়, অনুমোদন না পাওয়ার/হওয়ার ভয়, কিংবা প্রত্যাখ্যাত হবার ভয়।
কোন কাজে বা কোন ব্যক্তির সাথে ইচ্ছাকৃতভাবে নিজেকে না জড়ানো; যতক্ষন না সে নিশ্চিত হয় যে সংশ্লিষ্ট কাজে জড়িতরা তাকে পছন্দ করে।
লজ্জা-সংকোচ কিংবা ব্যংগবিদ্রুপের ভয়ে কারো সাথে অন্তরংগ সম্পর্ক গড়া থেকে নিজেকে বিরত রাখে।
সমালোচনা বা প্রত্যাখ্যাত হবার ভয়ে আগে থেকেই কোন সামাজিকতা থেকে নিজেকে গুটিয়ে রাখে।
অপর্যাপ্ত অনুভূতির কারনে নতুন কোন সিচ্যুয়েশনে না জড়িয়ে নিজেকে সংযত রাখে।
বিব্রত হওয়ার ভয়ে কিংবা ঝুঁকি নেয়ার ভয়ে নতুন কর্মকান্ডে বিমুখ থাকে।
চিকিৎসাঃ
অন্যান্য পারসোনালিটি ডিজঅর্ডারের মত এক্ষেত্রেও একজন দক্ষ প্রশিক্ষিত মনঃবিদ অথবা স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ বিভিন্ন এসেসমেন্ট টুল ব্যবহার করে তার পারসোনালিটি সমস্যা সনাক্ত করেন এবং বিভিন্ন ধরনের থেরাপি বা কাউনসেলিং এর মাধ্যমে তাকে বাস্তবতায় বা বাস্তব জগতে নিয়ে আসার চেষ্টা করেন। সাথে অন্যান্য শারীরিক সমস্যা থাকলে তার যথাযথ মেডিকেশন প্রয়োগ করেন। এভয়েডেন্ট পারসোনালিটি ডিজঅর্ডারের সাথে অন্যান্য মানসিক সমস্যা থাকলে তারও যথাযথ চিকিৎসা লক্ষণ অনুযায়ী করা হয়ে থাকে।