অনেকেরই প্রতিদিনকার কাজের ব্যস্ততার মাঝে নিয়ম করে ত্বকে যত্ন করার অথবা ফেস প্যাক দেয়ার মত সময়
হয়ে উঠে না। তাদের ত্বকের ঔজ্জল্য ধরে রাখতে ফেসিয়ালের জুড়ি নেই। মাসে অন্তত ২ বার ফেসিয়াল করা
উচিৎ। কিন্তু পার্লারে ফেসিয়ালের কথা শুনলেই মনে হয় কাঁড়ি কাঁড়ি টাকা গুনে আসার কথা। একটু সচেতন হলেই
আপনি ঘরে বসেই নিজের ফেসিয়াল নিজেই করতে পারবেন।
হেলথপ্রায়র২১ আপনাদের জন্য এনেছে কিভাবে ঘরে বসে ফেসিয়াল করবেন তার পূর্ণ বিবরণী -
• প্রথমেই যা যা লাগবে তা হাতের কাছে রাখুন যেন ফেসিয়াল শুরু করার পর বার বার আপনাকে উঠতে
না হয়।
-নরম তোয়ালে, ক্লিনজার, স্ক্রাব, কুসুম গরম পানি, টোনার, শসা এবং ময়েশ্চারাইজার।
১) চাই পরিষ্কার ত্বক
আপনার পছন্দের যেকোনো ক্লিনজার হাতে নিয়ে মুখে গলায় ভালভাবে ম্যাসাজ করুন। প্রায় ৩ থেকে ৪ মিনিট সময়
নিয়ে ম্যাসাজ করুন। এরপর কুসুম গরম পানিতে তোয়ালে ডুবিয়ে মুখ এবং ঘাড় পরিষ্কার করে নিন।
এবার আপনার ত্বকের সাথে মানানসই কোন স্ক্রাব নিন এবং পূর্বের মত মুখে এবং ঘাড়ে আস্তে আস্তে ম্যাসাজ
করুন। আপনি ঘরেও স্ক্রাব তৈরি করতে পারেন। সাদা চিনি এবং লেবুর রস মিশিয়ে ঘরে তৈরি স্ক্রাব দিয়েও আপনি
স্ক্রাব করতে পারেন। এবারও একটি নরম তোয়ালে গরম পানিতে ডুবিয়ে নিয়ে পুরো মুখ এবং ঘাড়ে ম্যাসাজ করে
নিয়ে পরিষ্কার করুন। আপনি পানির ঝাপটা দিয়েও পুরো মুখ এবং ঘাড় পরিষ্কার করে নিতে পারেন।
একটি বড় বোলে গরম পানি নিয়ে একটি বড় তোয়ালে দিয়ে মাথা ঢেকে মুখে গরম পানির বাষ্প লাগান। এতে মুখের
পোর গুলি বড় হবে এবং ময়লা পরিষ্কার করা আরও সহজ হবে।
৪) ব্ল্যাকহেড দূর করা
ফেসিয়ালের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হল মুখের থেকে অবাঞ্ছিত ব্ল্যাকহেড দূর করা। স্টিম নেয়ার পোর একটি
ব্ল্যাক হেড রিমোভার নিয়ে নাকের চামড়া চেপে ধরে আস্তে আস্তে ব্ল্যাক হেড তুলে আনুন। নিচের ঠোঁট এবং
নাকে ময়লা জমে অনেকেরই ব্ল্যাক হেড হতে পারে। ফেসিয়ালের মাধ্যমে এটা দূর করা অনেক সহজ। ব্ল্যাক হেড
উঠিয়ে আনার পর এক টুকরো তুলোতে টোনার নিয়ে নাকে ঘষে নিন। এটা অ্যান্টিবায়োটিক হিসেবে কাজ করে
ব্যকটেরিয়া সংক্রমণ দূর করে।
৫) লাগান ফেস প্যাক
এবার ত্বকের ধরন বুঝে মুখে লাগান ফেস প্যাক। বাজারে বিভিন্ন কোম্পানির তৈরি ফেস প্যাক পাওয়া
যায়। অথবা ঘরে বসেই তৈরি করুন নিজের ফেস প্যাক। তৈলাক্ত এবং ব্রণময় ত্বকের জন্য মুলতানি
মাটি, চন্দন, শসা অথবা লেবুর রস দিয়ে তৈরি ফেস প্যাক খুব উপকারী। শুষ্ক ত্বকের জন্য বাদাম
তেল বা অলিভ অয়েল এবং পেঁপে দিয়ে তৈরি প্যাক অনেক কাজে দেয়। বয়স্কদের ত্বকের জন্য ডিমের
সাদা অংশ দিয়ে তৈরি প্যাক উপকারী। চোখে ২ টুকরো শসার স্লাইস দিয়ে ফেস প্যাক লাগিয়ে ২০
থেকে ২৫ মিনিট রিল্যাক্স হয়ে শুয়ে থাকুন। পারলে কোন মিষ্টি সুরের গান শুনুন। এরপর পানি দিয়ে ভাল
করে মুখ পরিষ্কার করে নিন। আপনি গরম পানিতে ভেজান তোয়ালে দিয়েও মুখ পরিষ্কার করে নিতে পারেন।
৬) ময়েশ্চারাইজেশান
সব ধরণের ত্বকের জন্য এই ধাপটি খুবই জরুরী। ফেসিয়ালের পর যেকোনো ত্বক স্বাভাবিক ময়েশ্চার হারায়। তাই
নিজের ত্বকের ধরন বুঝে আস্তে আস্তে ম্যাসাজ করে লাগান ময়েশ্চারাইজার। তৈলাক্ত ত্বকের জন্য জেল জাতীয়
ময়েশ্চারাইজার এবং শুষ্ক ত্বকের জন্য ইমোলিয়েন্ট জাতীয় ময়েশ্চারাইজার কাজে দেয়।

