home top banner

স্বাস্থ্য টিপ

নাক ডাকা বন্ধে ৭ টিপস
১১ জুলাই, ১৩
View in English

পরিবারে ‘নাক ডাকা’ একটা মজার খোরাক। ঘুমের মধ্যে কে কি রকম করে নাক ডাকে – এগুলো নিয়ে রসিয়ে রসিয়ে কৌতুক করা হয়ে থাকে। সারা পৃথিবীর প্রায় ৪৫% সুস্থ স্বাভাবিক মানুষ কখনো না কখনো ঘুমের মধ্যে নাক ডাকেন। আপনিও হয়তো বা তাদেরই একজন। মজার ব্যাপার হল যিনি নাক ডাকেন তিনি নিজে টের পান না। সাথে যারা থাকেন তারা কিন্তু বেশ বিরক্ত হন, তাদের ঘুমের ব্যাঘাত ঘটে। “দেখা যায় যে, নাক ডাকার কারনে স্বামী-স্ত্রী রাতের বেলা আলাদা রুমে থাকেন। এমনকি স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে বিচ্ছেদ পর্যন্ত হয়ে যায়” – কথাগুলো বলেছেন অটোল্যারিঞ্জোলোজিস্ট এবং নাক ডাকা বিষয়ে বিশেষজ্ঞ ড্যানিয়েল পি স্লটার। 

তবে যে যা-ই কৌতুক করুক আর মজা করুক নাক ডাকা আসলে ভাল কোন লক্ষণ নয়। “যারা নাক ডাকেন তাদের প্রায় শতকরা ৭৫ ভাগই স্লিপ এ্যাপনিয়াতে (ঘুমের মধ্যে কিছুক্ষনের জন্য শ্বাস-প্রশ্বাস বন্ধ হয়ে যাওয়া) আক্রান্ত। যা কি না পরবর্তীতে ভয়ানক হৃদরোগে পরিনত হতে পারে” – স্লটার বলেন।
জেএফকে মেডিকেল সেন্টারের Clinical Neurophysiology and Sleep Medicine  এর পরিচালক সুধাংশু চক্রবর্তি, যিনি নিউরো-সায়েন্সের একজন অধ্যাপক, বলেন, “নাক ডাকেন বলে চিকিৎ্সকের পরামর্শ ছাড়া নিজের চিকিৎসা নিজে করতে যাবেন না। বাজারে নাক ডাকা বন্ধে অনেক ডিভাইস পাওয়া যায়, যেগুলো বিজ্ঞানসম্মত কোন গবেষনা ছাড়াই ক্রেতাদের হাতে তুলে দেয়া হচ্ছে। 
তবে আপনি চাইলে নাক ডাকা বন্ধে কিছু প্রাকৃতিক পদ্ধতি অবলম্বন করতে পারেন, সেই সাথে জীবনাচরনেও কিছু পরিবর্তন আনতে পারেন। তেমনি কিছু পদ্ধতি নিয়ে নীচে আলোচনা করা হলঃ

১। আপনার ঘুমের পজিশন পরিবর্তন করুন
পিঠে ভর করে শোয়া শরীরের ত্বক এবং বিভিন্ন অংগ-প্রত্যংগের জন্য উপকারী হলেও যারা নাক ডাকেন, তাদের জন্য সুবিধাজনক পজিশন নয়। পিঠে ভর করে শোয়ার ফলে জিহ্বার মূল এবং সফট প্যালেট গলার পিছনের দেয়ালের সাথে লেগে যায়। যার ফলে ঘুমের মধ্যে শ্বাস-প্রশ্বাসে একধরনের শব্দ-কম্পনের সৃষ্টি করে। কাজেই পিঠে ভর করে না শুয়ে পাশ ফিরে শুতে পারেন। এতে নাক ডাকা বন্ধ হতে পারে। 
স্লটারের মতে বডি পিলো বা কোল বালিশ ব্যবহার করে একপাশে শুতে পারেন এবং এতে নাটকীয় ফল পাবেন। চক্রবর্তির মতে পাজামার মধ্যে পিছনের অংশে একটি টেনিস বল পেতে রেখে শুতে পারেন। “এটা আপনাকে পিঠে ভর দিয়ে শোয়া থেকে বিরত রাখবে। অথবা আপনি বিছানায় শরীরটাকে এলিয়ে দিয়ে মাথাটাকে উপরের দিকে রেখে সটান শুয়ে পড়তে পারেন। এটা আপনার নাকের বায়ু চলাচলের পথকে খোলা রাখবে এবং নাক ডাকা বন্ধ করবে। তবে মনে রাখবেন এই পজিশনে ঘুমালে আপনার ঘাড় ব্যাথা হতে পারে। এরপরও যদি নাক ডাকা বন্ধ না হয়, তাহলে বুঝতে হবে আপনার স্লিপ এ্যাপনিয়া আছে। এক্ষেত্রে দেরী না করে ডাক্তারের শ্মরণাপন্ন হোন” – চক্রবর্তি বলেন।

২। ওজন কমান
ওজন কমালে কারো কারো ক্ষেত্রে নাক ডাকা বন্ধ হতে পারে, তবে সবার জন্য নয়। স্লটারের মতে অনেক পাতলা শরীরের লোক আছেন, যারা নাক ডাকা সমস্যায় ভুগছেন। তিনি আরো বলেন, “আপনার যদি ওজন বেড়ে যায় আর আপনি ঘুমের মধ্যে নাক ডাকা শুরু করেন যা ওজন বাড়ার আগে আপনার ছিল না, তবে ওজন কমালে তা বন্ধ হতে পারে। আপনার যদি ঘাড়ের দিকে ওজন বাড়ে, তাহলে তা’ গলার ভিতরের পরিধি কমিয়ে দেয় এবং ঘুমের মধ্যে যা আরো সংকুচিত হয়। ফলে নাক ডাকা শুরু হয়”। 

৩। এ্যালকোহল এড়িয়ে চলুন
এ্যালকোহল এবং ঘুমের বড়ি গলার পিছনের অংশের মাংসপেশির স্বাভাবিক অবস্থায় আসতে বাধা দেয়। এর ফলে নাক ডাকতে পারেন। চক্রবর্তি বলেন, “ঘুমানোর ৪/৫ ঘন্টা আগে এ্যালকোহল পানে নাক ডাকা বেশি রকম বেড়ে যেতে পারে। যারা স্বাভাবিক অবস্থায় নাক ডাকেন না, এ্যালকোহল পানের পর ঘুমানোর সময় তাদের নাক ডাকবে।

৪। ভালো ঘুমের জন্য ভাল অভ্যাস গড়ে তুলুন
ঘুমের বদ অভ্যাসগুলো পরিত্যাগ করুন। যেমন সময়মত না ঘুমাতে যাওয়া, ঘুমাতে যাওয়ার আগ পর্যন্ত টিভি দেখা, অতিরিক্ত পরিশ্রম করা বা পর্যাপ্ত পরিমান ঘুম ছাড়া দীর্ঘসময় ধরে কাজ করা ইত্যাদি। কারন এতে করে আপনি খুব বেশি ক্লান্ত হয়ে পড়বেন। আর যখন ঘুমাতে যাবেন আপনার মাংসপেশিগুলো ঢলঢলো হয়ে পড়বে, নাকের ভিতরের বায়ু চলাচলের রাস্তা সংকুচিত হয়ে পড়বে। আপনি গভীর ঘুমে নেতিয়ে পড়বেন। শুরু হবে নাক ডাকা। 

৫। নাকের ফুটো খোলা রাখার চেষ্টা করুন
নাকের ফুটো বা বায়ু চলাচলের পথ খোলা রাখতে পারলে নাক ডাকা বন্ধ হবে। কারন এতে প্রশস্ত জায়গা দিয়ে বাতাস ধীর গতিতে প্রবেশ করতে পারবে, ফলে নাক ডাকা বন্ধ হবে। স্লটার বলেন, “কল্পনা করুন আপনি একটি হোস পাইপ দিয়ে বাগানে পানি দিচ্ছেন। যদি হোস পাইপের নালীটা সরু হয়, তাহলে তার ভিতর দিয়ে পানি তীব্র বেগে প্রবাহিত হবে। আপনার নাকের ফুটো তেমনি কাজ করে। যদি আপনার নাক ঠান্ডাজনিত বা অন্য কোন কারনে বন্ধ থাকে বা নাকের ফুটো সরু হয়ে থাকে, তাহলে তার ভিতর দিয়ে দ্রুত এবং জোরে জোরে বাতাস ভিতরে প্রবেশ করবে এবং নাক ডাকার শব্দ হবে।
স্লটারের মতে ঘুমাতে যাওয়ার আগে হালকা গরম পানিতে গোসল করে নিলে নাকের পথ প্রশস্ত থাকবে। তবে গোসলে এক বোতল লবনগোলা পানি দিয়ে আস্তে আস্তে নাকে ছিঁটিয়ে দিয়ে নাক পরিস্কার করে নিতে পারেন। এতে ভাল উপকার পাওয়া যায়। ‘নেতি পট’ ব্যবহার করে সল্ট-ওয়াটার সলিউশন দিয়ে আলতোভাবে নাক ধুয়ে ফেলতে পারেন। এছাড়া ন্যাসাল স্ট্রিপ ব্যবহার করতে পারেন যদি না আপনার নাকে কোন সমস্যা থাকে।

৬।  প্রয়োজনে বালিশ পরিবর্তন করুন
আপনার বেডরুমের এবং বালিশ, বিছানার চাদরে এ্যালার্জেন এর উপস্থিতি আপনার নাক ডাকার অন্যতম কারন হতে পারে। ভেবে দেখেছেন কি? সেই কবে আপনি ফ্যানের পাখাগুলো পরিস্কার করেছেন? কবে বালিশের কভার, বিছানার চাদর পরিস্কার করেছেন? হ্যাঁ, এগুলো অপরিস্কার থাকলে যেমন ধুলো-বালি জমে তেমনি একধরনের মাইট জন্মে, যাতে এ্যালার্জিক রি-এ্যাকশন হতে পারে। এরফলে সেই একই সমস্যা - নাকের ফুটো সরু হয়ে যাওয়া আর নাক ডাকা শুরু হতে পারে। আবার যারা পোষা প্রানী নিয়ে এক বিছানায় শোন, তাদেরও এ্যালার্জিতে আক্রান্ত হবার সম্ভাবনা খুব বেশি থাকে। কারন পোষা প্রানীর ত্বকের খুঁসকি আপনার চুলাকনির কারন হতে পারে। 
প্রতি ১/২ সপ্তাহ পর পর একবার বালিশ রোদে দিন। সম্ভব হলে ম্যাট বা তোষকও। বালিশের কভার, বিছানার চাদর নিয়মিত ধোয়ার অভ্যাস গড়ুন। আর প্রতি ছয় মাসে এগুলো পরিবর্তন করুন।

৭। বেশি করে তরল পান করুন
পর্যাপ্ত পরিমানে তরল পান করুন, যাতে শরীরে পানি শুন্যতা দেখা না দেয়। শরীরে পানি শুন্যতা দেখা দিলে বা কমে গেলে নাক দিয়ে আঁঠালো বা পিচ্ছিল পদার্থ বের হয় যা আপনার নাককে থকথকে করে এবং নাক ডাকা আরো বাড়িয়ে দেয়। বিশেষজ্ঞদের মতে শরীরে আর্দ্র বা পানির মাত্রা সঠিক রাখার জন্য মহিলাদের ক্ষেত্রে সবমিলিয়ে ১১ কাপের মত তরল গ্রহন করা উচিত আর পুরুষের জন্য ১৬ কাপের মত।

সর্বপরি পর্যাপ্ত পরিমান ঘুমানোর চেষ্টা করুন, পাশ ফিরে শোয়ার চেষ্টা করুন, ঘুমানোর আগে এ্যালকোহল থেকে দূরে থাকুন, নাক বন্ধ সমস্যা থাকলে হালকা গরম পানিতে গোসল করে নিন। স্লটারের মতে এই ধরনের সাধারন কিছু নিয়ম মেনে চললে নাক ডাকার ক্ষেত্রে আপনি পেতে পারেন অভাবনীয় সাফল্য।
 
 

Please Login to comment and favorite this Health Tip
Next Health Tips: সেহরি এবং ইফতারির জন্য স্বাস্থ্য সম্মত খাবারের প্ল্যান
Previous Health Tips: রমজানে পান করুন স্বাস্থ্যকর পানীয়

আরও স্বাস্থ্য টিপ

চুল পরা বন্ধের ২০ টি উপায়

নারী পুরুষ নির্বিশেষে সাড়া পৃথিবী জুড়ে অসংখ্য মানুষকে একটি সাধারণ সমস্যার সম্মুখীন হতে হয় এটি চুল ঝরে পরার সমস্যা ছাড়া আর কিছুই নয় যা খুবই স্বাভাবিক। দৈনিক প্রায় ১০০ টি হারে চুল ঝরে পরে। প্রকৃত পক্ষে এরকম মাথার খুলি থেকে চুল ঝরে পরাতে উদ্বিগ্ন হওয়ার কিছু নেই তবে চিন্তিত হওয়ার যে কারণ সমূহ আছে... আরও দেখুন

১০ ধরনের দুর্বোধ্য ব্যাথা উপেক্ষা করা একদম উচিত নয় পর্ব-১

আমাদের প্রায় সবাই কোন না কোন সময় দেহের বিভিন্ন স্থানে হঠাৎ হঠাৎ কিছুদুর্বোধ্য ব্যাথা অনুভব করি। কখনো কখনো ব্যাথা বেশ দীর্ঘ সময় ধরে চলতে থাকে। অনেকেই এগুলোকে ‘ও কিছুনয়’ বলে তুচ্ছ করে উড়িয়ে দেই। ব্যাথা যেমনিভাবে হঠাৎ অনুভূত হয়েছিল, তেমনি হঠাৎ ই চলে যায়। এর কোন ব্যবখ্যা অনেক সময়... আরও দেখুন

খাবার ভাল রাখতে করণীয়

খাবার দাবার সবসময়ই পঁচনশীল বস্তু হিসেবে বিবেচিত। ফ্রিজে না রেখে বাইরে বের করে রাখলে নষ্ট হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে। আবার ঘন ঘন লোডশেডিংয়ের জন্য রেফ্রিজারেটরও ভালোমতো কাজ করতে পারে না। অথচ আসন্ন উৎসবে বিভিন্ন আইটেমের খাবার রান্নার ধুম পড়ে যাবে। তাই  কাঁচা সবজি, মাছ, মাংস ও রান্না... আরও দেখুন

পার্ট টাইম ডায়েট

ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখতে চাইছেন অথচ চকলেট, বার্গার, কোল্ড ড্রিঙ্কস ইত্যাদি লোভনীয় খাবার দেখলে নিজেকে সামলাতে পারছেন না। ডায়েট করার প্রয়োজনীয়তা অনুভব করছেন তবে সুস্বাদু খাবার থেকে দূরে থাকাটাও বেশ দুষ্কর। এক্ষেত্রে ওজন কমাতে বেছে নিতে পারেন পার্ট টাইম ডায়েট। নিজের পছন্দের খাবারগুলো... আরও দেখুন

বিড়াল সম্পর্কে ১০ টি মজার তথ্য

১. সবচেয়ে বেশী পালিত পোষা প্রাণী আমেরিকাতে সবচেয়ে বেশী জনপ্রিয় গৃহপালিত চতুস্পদ পোষা প্রাণী হল বিড়াল। American pet product manufacturers association (APPMA) পরিচালিত এক জরিপে দেখা গেছে যে সমগ্র আমেরিকাতে প্রায় ৭৩ মিলিয়ন গৃহপালিত বিড়াল আছে, যেখানে কুকুর আছে প্রায় ৬৮ মিলিয়ন।   ২. বিড়াল... আরও দেখুন

Easy tips for preventing overeating

Eating too much several times a day is not a healthy for the body. This will give you extra weigh and a high body mass index. People overeat because they feel hungry again and again and they can’t control hunger pangs. Here are simple tips that you can apply to your daily routine to... আরও দেখুন

healthprior21 (one stop 'Portal Hospital')