আকুপাংচার (দেহের বিভিন্ন আকু বিন্দুতে বিশেষ ধরনের তৈরি এক প্রকার পিন ভেদ করিয়ে নির্দিষ্ট সময়
পর্যন্ত রেখে চিকি সা করা) মক্সিবাশ্চান (বিশেষ বিশেষ ভেষজের তাপ প্রয়োগে) চিকি সা সম্পর্কে বিভিন্ন
দেশের চিকি সক বিভিন্ন ধারণা দেন। চিকি সা পদ্ধতিতে ইদানীং কিছু স্নায়বিক রোগের চিকি সা করা হচ্ছে।
আকুপাংচার ও মক্সিবাশ্চান চিকি সা সম্পর্কে বিভিন্ন দেশের গবেষণা থেকে প্রাপ্ত তথ্যসমূহ দেয়া হলো-
নার্ভ প্যারালাইসিস : গবেষণায় দেখা গেছে যে, প্রায় ৫০ ভাগ-৬০ ভাগ রোগী অত্র চিকি সার ফলে
উল্লেখযোগ্যহারে কর্মক্ষমতা ফিরে পান এবং মুখের প্যারালাইসিসে আক্রান্ত ৭৫ ভাগ রোগী আরোগ্য লাভ
করেন।
স্ট্রোক : স্ট্রোক আক্রান্ত রোগীদের নিয়ে গবেষকদের করা একটি গবেষণায় জানা যায় যে, প্রায় ৮০ ভাগ
স্ট্রোক আক্রান্ত রোগী এ চিকি সা পদ্ধতি দ্বারা উপকার পান। তাই বলা যেতে পারে যে, স্ট্রোকের ক্ষেত্রে
এ চিকি সা পদ্ধতি প্রয়োগে অত্যন্ত ফলপ্রসূ।
স্নায়বিক ব্যথা : বিশেষজ্ঞদের অভিজ্ঞতায় দেখা গেছে যে ট্রাইজিমেনাল নিউরালজিয়া (চোয়াল ব্যথা) আক্রান্ত
প্রায় ৭০ ভাগ রোগীর ব্যথা উপশম করতে এ চিকি সা বেশ কার্যকর। তাছাড়া বিভিন্ন ধরনের ব্যথা যেমন-
সায়াটিকা, ঘাড় ব্যথা, কাঁধ ব্যথা, হাঁটু ব্যথা, কোমর ব্যথা, মেরুদ-ের ব্যথা ইত্যাদি চিকি সায় এ পদ্ধতির
প্রয়োগ অত্যন্ত ফলদায়ক। পার্কিনসন্স রোগ, জিবিএস মৃগী, আইবিএস, স্নায়বিক বধিরতা, ঘুমের অসুবিধা
ইত্যাদি এ জাতীয় বিভিন্ন রোগেও আকুপাংচার ও মক্সিবাশ্চান চিকি সা বেশ কার্যকর। গবেষণায় উক্ত
রোগসমূহে অত্র চিকি সার কার্যকারিতা লক্ষ্য করা গেছে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে এ চিকি সা পদ্ধতি
বেশ চম কার ফল প্রদান করে। অটিজম, সিপি, ডাউন সিন্ড্রোল ইত্যাদি মস্তিষ্কের ক্রিয়াগত ত্রুটির কারণে
বাচ্চাদের মধ্যে সৃষ্ট অসুবিধাসমূহে হার্বাল ওষুধসহ অত্র চিকি সা বেশ কার্যকর। ফলাফল হিসেবে রোগীর
সার্বিক উন্নতি হতে পারে। পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে আকুপাংচার সহযোগে হার্বাল মেডিসিনের যৌথ ব্যবহারের ফলে
অটিজম সেবিব্রাল পালসি (সিপি), ডাউন সিন্ড্রোম ইত্যাদি রোগের ক্ষেত্রে অত্যন্ত চম কার ফল পাওয়া যায়।
বহু গবেষণাপত্রে এর কার্যকারিতা সম্পর্কে ব্যাখ্যা করা হয়েছে। আবার কিছু রোগী অল্পদিনের চিকি সায়
আশ্চর্যজনকভাবে বেশ উন্নতি লাভ করেছেন।
মাথাব্যথা : অত্র চিকি সা পদ্ধতি বিভিন্ন প্রকার মাথাব্যথার চিকি সায় বহু আগে থেকেই ব্যবহার হয়ে আসছে
এবং খুবই ভালো ফল পাওয়া যায়। গবেষণায় দেখা গেছে, বিভিন্ন প্রকার মাথাব্যথায় আক্রান্ত রোগীদের মধ্যে
৬৫-৬৯ ভাগ রোগী উল্লেখযোগ্য ফল পান।
সূত্র - যায়যায়দিন

