লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে এক প্রাথমিক বিদ্যালয়ে কৃমিনাশক ট্যাবলেট (ম্যাবেনডাজল-৫০০ এমজি) খেয়ে ৬০ শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়। তাদের মধ্যে ২২ জনকে লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। মঙ্গলবার দুপুরে উপজেলার বামনী ইউনিয়নের চরবামনী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে। পরে পুলিশ পাহারায় চিকিৎসক ও শিক্ষকরা বিদ্যালয় ত্যাগ করেন।
খবর পেয়ে বিক্ষুব্ধ অভিভাবক ও এলাকাবাসী বিদ্যালয়ে হামলা চালায়। তারা বিদ্যালয়ের চেয়ার-টেবিল ভাঙচুর ও আসবাব তছনছ করে। এ সময় রায়পুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেঙ্রে চিকিৎসক রাজীব দত্ত, ইউনিয়ন স্বাস্থ্য সহকারী নেপাল চন্দ্র দে, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেঙ্রে কর্মকর্তা আবদুল হাই ও উপজেলা সহকারী স্বাস্থ্য কর্মকর্তা আলী হোসেনকে মারধর করা হয়। ওই বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নাহিদা আফরোজসহ সাত শিক্ষক আহত হন।
বিদ্যালয়ে গিয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বিদ্যালয়ের ৫-১২ বছর বয়সী ছাত্রছাত্রীদের কৃমিনাশক ট্যাবলেট খাওয়ানো হয়। এর কিছুক্ষণ পর ৬০ ছাত্রছাত্রী অসুস্থ হয়ে পড়ে।
এ ব্যাপারে রায়পুর উপজেলার ভারপ্রাপ্ত শিক্ষা কর্মকর্তা বেলায়েত হোসেন জানান, অসুস্থ শিক্ষার্থীদের উদ্ধার করে লক্ষ্মীপুরসহ বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. সালাউদ্দিন শরীফ জানান, কৃমিনাশক ট্যাবলেট খেয়ে কয়েক শিক্ষার্থীকে অসুস্থ হয়ে পড়তে দেখে অন্যরাও অসুস্থ হয়ে পড়ে। এটি মার্স সাইকোলজিক ইলনেস (মানসিক ভয়ভীতিজনিত) রোগ। এতে আতঙ্কিত হওয়ার কোনো কারণ নেই।
গোপালগঞ্জ প্রতিনিধি জানান, গোপালগঞ্জে কৃমিনাশক ট্যাবলেট খেয়ে পাঁচ শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়েছে। তাদের গোপালগঞ্জ ২৫০ শয্যা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। মঙ্গলবার দুপুর ১২টার দিকে সদর উপজেলার পাথালিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে। গোপালগঞ্জ সদর হাসপাতালের শিশু বিশেষজ্ঞ ডা. আবদুল্লাহ আল মাহমুদ জানান, প্রচণ্ড গরমে কৃমিনাশক ওষুধ খাওয়ানোর কারণে শিশুরা অসুস্থ হয়ে পড়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে তাদের অবস্থা আশঙ্কামুক্ত।
Source: The Daily Kaler Kantho

