শিশুদের সুস্থ-সবল রাখতে গতকাল মঙ্গলবার দেশব্যাপী শুরু হয়েছে কৃমিনাশক ওষুধ সেবন কার্যক্রম। আগামী ২৮ মে পর্যন্ত চলবে এ কর্মসূচি। এ কাজের আওতায় প্রাথমিক পর্যায়ের সরকারি-বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ওষুধ সেবনের ব্যবস্থা করা হয়েছে বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। তবে
স্কুলগুলোয় গ্রীষ্মকালীন ছুটি থাকায় কর্মসূচি বাস্তবায়ন নিয়ে কিছুটা বিভ্রান্তি দেখা দিয়েছে। বন্ধ থাকা স্কুলগুলোর শিক্ষার্থীরা এ কার্যক্রম থেকে বাদ পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন অভিভাবকরা। তবে কর্তৃপক্ষ বিষয়টি নিয়ে উদ্বিগ্ন না হওয়ার অনুরোধ জানিয়ে বলেছে, বন্ধ স্কুলের শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (রোগ নিয়ন্ত্রণ) ডা. বে-নজীর আহম্মেদ বলেন, 'স্কুল ছুটির বিষয়টি মাথায় রেখেই এবার শিডিউল করা হয়েছে। সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে গ্রীষ্মকালীন ছুটি শেষ হয়ে গেছে। ফলে বিরাট এ অংশ নিয়ে কোনো চিন্তা নেই। আর হাই স্কুলের সঙ্গে যুক্ত বা অন্য কিছু স্কুলে বিভিন্ন সময়ে ছুটি থাকায় আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি_এসব প্রতিষ্ঠানে ওষুধ দিয়ে দেওয়া হবে। প্রতিষ্ঠান খোলার পর যাতে তা খাওয়ানো হয়।'
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কৃমি নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রমের উপকর্মসূচি ব্যবস্থাপক ডা. রুসেলী হক কালের কণ্ঠকে বলেন, 'কৃমিনাশক খাওয়ানোর কাজে প্রাথমিক স্কুলের শিক্ষার্থীদের মধ্য থেকে স্বেচ্ছাসেবকরা কাজ করছে। তারা শিক্ষার্থীদের নির্ধারিত কৃমিনাশক ট্যাবলেট সেবন করাবে, নিরাপদ পানি খাওয়াবে এবং ট্যাবলেট সেবনকারী ও সেবনহীনদের তালিকা প্রস্তুত করবে। এ ছাড়া তারা সব ছাত্রছাত্রীকে আগে থেকেই সচেতন করে দেবে খালি পেটে যাতে কেউ কৃমিনাশক না খায় সে বিষয়ে।'
ডা. রুসেলী হক জানান, সপ্তাহব্যাপী সারা দেশে প্রাথমিক পর্যায়ের এক লাখ ৩৩ হাজার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের (সরকারি, বেসরকারি, আনুষ্ঠানিক-উপানুষ্ঠানিক স্কুল, মাদ্রাসা, মক্তব) প্রায় দুই কোটি ছাত্রছাত্রী ও স্কুল-বহির্ভূত শিশুকে অ্যালবেন্ডাজল (৪০০ এমজি) বা মেবেন্ডাজল (৫০০ এমজি) ট্যাবলেট সেবন করানো হবে।
Source: The Daily Kaler Kantho

