জাতীয় বক্ষব্যাধি ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে ওষুধ কেনায় অনিয়ম হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি বেশি দাম দিয়ে প্রয়োজনের অতিরিক্ত ওষুধ কিনেছে। এ ক্ষেত্রে বরাদ্দের চেয়ে বেশি খরচ করা হয়েছে।
ওষুধ কেনার দয়িত্বে ছিলেন দরপত্র কমিটির প্রধান ও হাসপাতালের পরিচালক এ কে এম মোস্তফা হোসেন, সদস্যসচিব ও হাসপাতালের সাবেক তত্ত্বাবধায়ক আবু রায়হান এবং সাবেক আবাসিক চিকিৎসক নারায়ণ চন্দ্র দত্ত। অভিযোগ উঠেছে, তাঁরা ঠিকাদারদের সঙ্গে যোগসাজশে এই অনিয়ম করেছেন।
এ কে এম মোস্তফা হোসেন অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছেন, ওষুধ কেনায় সরকারি ক্রয়নীতি মানা হয়েছে। সর্বনিম্ন দরদাতাকে কাজ দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, চাহিদার অতিরিক্ত ওষুধ কেনা হয়েছে রোগীদের স্বার্থে।
আবু রায়হান ও নারায়ণ চন্দ্র দত্ত এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেননি।
১৯৯৪ সালের সরকারি আদেশে অন্যান্য বিষয়ের সঙ্গে বলা আছে, হাসপাতালগুলোকে বরাদ্দের ৬০ ভাগ ওষুধ ও স্যালাইন খাতে খরচ করতে হবে। আর বেশির ভাগ ওষুধ ও স্যালাইন কিনতে হবে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান এসেনসিয়াল ড্রাগস কোম্পানি লিমিটেড (ইডিসিএল) ও জাতীয় জনস্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠান (আইপিএইচ) থেকে। বক্ষব্যাধি হাসপাতাল এ আদেশ মানেনি।
অনুসন্ধানে দেখা গেছে, ২০১১-১২ অর্থবছরে বক্ষব্যাধি হাসপাতালে মোট বরাদ্দ ছিল সাড়ে তিন কোটি টাকা। নিয়ম অনুযায়ী, ওষুধ ও স্যালাইন খাতে বরাদ্দ রাখার কথা ছিল দুই কোটি ১০ লাখ টাকা। বরাদ্দ রাখা হয় এক কোটি পাঁচ লাখ টাকা। অন্যদিকে ওষুধ ও স্যালাইন খাতে ব্যয় করা হয় তিন কোটি ৭৫ হাজার টাকা। কাগজপত্র ঘেঁটে দেখা গেছে, রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান থেকে বেশি ওষুধ কেনেনি বক্ষব্যাধি হাসপাতাল। তারা ইডিসিএল ও আইপিএইচ থেকে ৩০ লাখ টাকার ওষুধ কেনে। অন্যদিকে অপসোনিন থেকে এক কোটি ৭৮ লাখ টাকা, ড্রাগ ইন্টারন্যাশনাল থেকে ১০ লাখ ২৭ হাজার টাকা, ইনসেপ্টা থেকে ২৬ লাখ ২৮ হাজার টাকা ও টেকনো ড্রাগ থেকে ৪৬ লাখ সাত হাজার টাকার ওষুধ কিনেছে।
নথিপত্রে দেখা গেছে, বক্ষব্যাধি হাসপাতাল সেফট্রাএক্সন নামের একটি ইনজেকশন অপসোনিন থেকে কিনেছে ১৪০ টাকায়। অপসোনিন একই ইনজেকশনের ৬০ হাজার ভায়াল স্যার সলিমুল্লহ মেডিকেল কলেজ ও মিটফোর্ড হাসপাতালে বিক্রি করেছে প্রতিটি ৩৭ টাকা ৪০ পয়সা দরে। এ ছাড়া বক্ষব্যাধি হাসপাতালে এ বছর চাহিদা ছিল ৩০ হাজার ভায়ালের, কিন্তু কেনে ৫০ হাজার ভায়াল।
হাসপাতালটি ২০১০-১১ অর্থবছরে ইনসেপ্টা ফার্মাসিউটিক্যালস থেকে সেফারোক্সিম (৭৫০ মিলিগ্রাম) ক্যাপসুল সাড়ে ৩৯ টাকা ও প্রতি ভায়াল এমিকাসিন ইনজেকশন ২০ টাকা দামে কিনেছিল। এক বছর পর একেকটি ক্যাপসুল কেনে ১০৮ টাকা দামে, অর্থাৎ ৬৯ টাকা বেশি দাম দিয়ে। আর প্রতিটি এমিকাসিন ইনজেকশন কেনে দ্বিগুণ দামে, অর্থাৎ ৪০ টাকায়।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক চিকিৎসক বলেছেন, তাঁরা অ্যাভেন্টিস থেকে এমক্সিক্লেভালেনিক এসিড ইনজেকশন কেনার প্রস্তাব করেছিলেন। কিন্তু হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বড়ির চাহিদা দিতে বলে। চিকিৎসকেরা ৪০ হাজার বড়ির চাহিদা দেন। কর্তৃপক্ষ এক লাখ ৪০ হাজার বড়ি কেনে।
এ বিষয়ে স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী মজিবুর রহমান ফকির প্রথম আলোকে বলেন, বক্ষব্যাধি হাসপাতালে ওষুধ কেনায় অনিয়মের কোনো ঘটনা তাঁর জানা নেই। সুনির্দিষ্ট তথ্য পেলে দোষী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
Source: The Daily Prothom Alo

