নাগরিকদের ধূমপানের আসক্তি কমাতে বিড়ি-সিগারেটের দাম বাড়ানোর পক্ষে মত দিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী জি এম কাদের। একই সঙ্গে ধূমপান নিয়ন্ত্রণ আইন আরো কার্যকর করা এবং ধূমপানের ক্ষতিকর দিক সম্পর্কে জনসচেতনতা বাড়ানো জরুরি বলে মন্তব্য করেন তিনি। গতকাল শুক্রবার রাজধানীর ইস্কাটনে বিয়াম ফাউন্ডেশনের 'ক্যাম্পেইন ফর ক্লিন এয়ার'-এর উদ্যোগে পরিচালিত এক জরিপ প্রতিবেদন প্রকাশ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ মন্তব্য করেন জি এম কাদের।
অনুষ্ঠানে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সাবেক চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আবদুল মজিদ, জাতীয় ক্যান্সার গবেষণা ইনস্টিটিউট হাসপাতালের রেডিয়েশন অ্যান্ড অনকোলজি বিভাগের প্রধান ও ব্যাংলাদেশ ক্যান্সার সোসাইটির মহাসচিব অধ্যাপক ডা. শেখ গোলাম মোস্তফা, সংগঠনের যুগ্ম আহ্বায়ক নজরুল ইসলাস খোকন এবং রফিকুল আদনান বক্তব্য রাখেন।
অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, বিশ্বে সবচেয়ে কম দামে সিগারেট পাওয়া যায় বাংলাদেশে। বাংলাদেশের তুলনায় প্রতিবেশী দেশগুলোতেও সিগারেটের দাম অনেক বেশি। তাই সেখানে ধূমপানের প্রবণতাও কম। কিন্তু এ দেশে দাম কম, তাই ব্যবহার বেশি। দেশে সিগারেট সহজলভ্য হওয়ার কারণেই শিক্ষার্থী, বেকার তরুণ-যুবক ও নিম্নআয়ের মানুষেরা খুব সহজেই সিগারেটে অভ্যস্ত হয়ে পড়ে। এ অবস্থায় ধূমপান প্রবণতা কমাতে সিগারেট আমদানিতে শুল্ক বৃদ্ধি এবং অভ্যন্তরীণ উৎপাদন ও বিপণনে কর বাড়ানো দরকার বলে মনে করেন তাঁরা।
প্রকাশিত জরিপে জানা গেছে, ধূমপায়ীদের ৪৩ দশমিক ৬৭ শতাংশ ধূমপান শুরু করে ১৮ বছর বয়স হওয়ার আগেই। আর ১৮ বছর বয়সের পরে ধূমপান করে ৫৬ দশমিক ৩৩ শতাংশ। জরিপে অংশ নেওয়া ৯৮ দশমিক ২৩ শতাংশ মানুষ মনে করেন, কিশোর ও তরুণদের মধ্যে ধূমপানের প্রবণতা বেড়েছে।
এতে বলা হয়েছে, আইন অনুযায়ী পাবলিক প্লেসে ধূমপান নিষিদ্ধ হলেও সেখানে ধূমপান করেও ৯৩ শতাংশ ধূমপায়ী একবারও কোনোরকম জরিমানা দেয়নি। পূর্ণবয়স্ক মানুষের মধ্যে ৮৮ দশমিক ১১ শতাংশ সিগারেট পান করে। বিড়ি পান করে ৬ দশমিক ৭১ শতাংশ। ধূমপান করতে গিয়ে তরুণদের মধ্যে ৯৮ শতাংশই গ্রহণ করে সিগারেট। এদের মাত্র ২ শতাংশ পান করে বিড়ি। রিকশাওয়ালা, দিনমজুর বা শ্রমিকসহ নিম্নআয়ের মানুষের ধূমপায়ী হওয়ার কারণ হিসেবে ৩৭ দশমিক ৪১ শতাংশ উত্তরদাতা মনে করেন, সিগারেটের দাম নিম্নআয়ের মানুষের ক্রয়সীমার মধ্যে থাকা, ৪৪ দশমিক ৪৪ শতাংশ বলেছেন, অন্যদের দেখাদেখি এবং ১৮ দশমিক ১৫ শতাংশ মনে করেন মানুষের আয় বেড়ে যাওয়াসহ অন্যান্য কারণের কথা। ধূমপায়ী ও অধূমপায়ীদের মধ্যে ৬২ দশমিক ৫২ শতাংশই মনে করেন, ধূমপান নিবারণ আইন কার্যকর নেই। ১৭ দশমিক ৯১ শতাংশ মনে করেন, সিগারেট পানের মাধ্যমে তারা নিজেকে স্মার্ট দেখানোর চেষ্টা করে। জরিপে দেখা গেছে, ৯৭ শতাংশ মনে করেন, সিগারেট কম্পানিগুলো সবচেয়ে বেশি প্রচারণা চালায়। ধূমপানের ব্যাপকতা কমাতে শুল্ক বৃদ্ধিসহ বিভিন্নভাবে বিড়ি-সিগারেটের দাম বাড়ানোর জন্য সুপারিশ করেন ৫১ দশমিক ৫৭ শতাংশ মানুষ।
Source: The Daily Kaler Kantho

