কলেরায় আক্রান্ত হয়ে মকসুদ আলী (১৮) নামের এক ব্যক্তি বৃহস্পতিবার সকালে যান রংপুর সদর হাসপাতালের সংক্রামক ব্যাধি বিভাগে। গুরুতর অসুস্থ হওয়ার পরও তাঁকে চিকিৎসা না দিয়ে যেতে বলা হয় চার কিলোমিটার দূরের রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে। সেখানে গিয়ে ভর্তি হলে চিকিৎসার জন্য আবার তাঁকে পাঠানো হয় সদর হাসপাতালে। কিন্তু দুপুর গড়িয়ে প্রায় বিকেল হলেও সদরে এসে স্যালাইন ছাড়া আর কোনো ওষুধ কিংবা চিকিৎসকের দেখা মেলেনি তাঁর। এর মধ্যে আট কিলোমিটার 'ভ্রমণের' ধকল নিতে হয়েছে দুর্বল শরীর নিয়ে।
এভাবেই রংপুরে সংক্রামক ব্যাধির চিকিৎসার জন্য রোগীদের দৌড়াদৌড়ি করতে হয় দুটি হাসপাতালে। সদর হাসপাতালের সংক্রামক ব্যাধি বিভাগটি রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের নিয়ন্ত্রণে থাকার কারণে এই বিড়ম্বনা সইতে হচ্ছে রোগীদের।
সরেজমিনে গত বৃহস্পতিবার দুপুরে সদর হাসপাতালে সংক্রামক ব্যাধি বিভাগে গিয়ে দেখা গেল রোগীদের নানা ভোগান্তি আর যন্ত্রণা। দরজা-জানালা ভাঙা। পরিত্যক্ত ভবনে চলছে গুরুতর অসুস্থ রোগীদের চিকিৎসা। দুটি ঘরে চিকিৎসা দেওয়া হলেও মহিলা রোগীদের ঘরে কোনো বিছানা নেই। পুরুষ রোগীদের ঘরে ৮-১০টি বিছানা থাকলেও ভর্তি হওয়া রোগী ও তাদের স্বজনরা গাদাগাদি করে থাকে সেখানে। তারা জানায়, ওয়ার্ডে সংযুক্ত কোনো টয়লেট নেই।
হাসপাতালে ভর্তি হওয়া রোগীদের মধ্যে রংপুর আলমনগরের ২ নম্বর ইস্পাহানি ক্যাম্প এলাকার মকসুদ আলীসহ (১৮) সব সবারই অভিযোগ এক। এখানে পর্যাপ্ত চিকিৎসা মেলে না। চিকিৎসকদের দেখা পাওয়া যায় না। ঠিকমতো ওষুধ দেওয়া হয় না। রংপুরের পূর্ব বাবুপাড়া এলাকার মোস্তফা আনছারি (৭৫) জানান, বৃহস্পতিবার সকাল ৯টার দিকে অ্যাম্বুলেন্সে এসে রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি হন। সেখান থেকে তাঁকে এই সংক্রামক ব্যাধি বিভাগে পাঠানো হয়। বিকেল ৩টা পর্যন্ত কোনো চিকিৎসক তাঁকে দেখেননি। কর্মচারীরা তাঁর হাতে স্যালাইন পুশ করেন।
ডিউটি রোস্টার অনুযায়ী সংক্রামক ব্যাধি বিভাগে বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত দায়িত্বে থাকার কথা রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের আইএমও (শিশু) ডা. জাহানারা বেগম। কিন্তু তিনি আসেননি। দুপুর ২টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত এইচএমও মেডি-১ ডা. রুখসানা হোসেন থাকার কথা থাকলেও বিকেল সাড়ে ৩টা পর্যন্ত তিনিও আসেননি।
রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক ডা. গোলাম মোস্তফা সংক্রামক ব্যাধি বিভাগে রোগীদের দুর্ভোগের কথা স্বীকার করেন। তিনি বলেন, সুইপার কলোনি ঘেরা অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে সংক্রামক ব্যাধি বিভাগ অবস্থিত। দূর থেকে গিয়ে ওই বিভাগ নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন। এ ব্যাপারে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে।
Source: The Daily Kaler Kantho

