লাইসেন্স স্থগিতাদেশের এক সপ্তাহ পার হলেও বাজারে রয়ে গেছে বিষাক্ত সিসা যুক্ত প্রাণের প্যাকেটজাত গুঁড়া হলুদ। বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইন্সটিটিউশনকে (বিএসটিআই) বাজারজাতকৃত হলুদ উঠিয়ে নেয়ার কথা দিলেও তা রাখেনি প্রাণ কর্তৃপক্ষ।
১৫ অক্টোবর যুক্তরাষ্ট্রের খাদ্য ও ওষুধ প্রশাসন (এফডিএ) সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, বাংলাদেশি কোম্পানি প্রাণের হলুদের গুঁড়ায় সহনীয় মাত্রার চেয়ে বেশি সিসা পাওয়া গেছে। যুক্তরাষ্ট্রের বাজার থেকে সেদেশের পরিবেশক কোম্পানি মিশিগান অঙ্গরাজ্যের ডেট্রয়েটভিত্তিক কোম্পানি বেস্ট ভ্যালু ইনকরপোরেশন প্রত্যাহার করে নেয় এ হলুদ।
এ বিজ্ঞপ্তির সূত্র ধরেই দেশের বাজারেও প্রাণের গুঁড়া হলুদ সরবরাহে নিষেধাজ্ঞা দেয় বিএসটিআই। সাথে সাথে পূর্বে সরবরাহ করা স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর সীসাযুক্ত হলুদ বাজার থেকে উঠিয়ে নেয়ারও অদেশ দেওয়া হয়।
যুক্তরাষ্ট্রে অভিযোগ ওঠার পর বিএসটিআই বাজার থেকে প্রাণের হলুদ সংগ্রহ শেষে তা পরীক্ষা করে ৪০ পিপিএম (পার্টস পার মিলিয়ন) থেকে ৫৮ পিপিএম মাত্রায় সিসা পায়। এর পরই লাইসেন্স স্থগিতের সিদ্ধান্ত নেয় সংস্থাটি। লাইসেন্স স্থগিত করার ফলে এখন থেকে আর প্যাকেটজাত গুঁড়া হলুদ বাজারজাত করতে পারবে না প্রাণ-আরএফএল গ্রুপ।
বিএসটিআইয়ের পরিচালক (সার্টিফিকেশন মার্ক) কমল প্রসাদ দাস পরিবর্তনকে বলেন,"প্রাণের হলুদের ব্যাপারে যুক্তরাষ্ট্র যে অভিযোগ করেছিলো তার প্রমাণ মিলেছে। গুঁড়া হলুদে মাত্রাতিরিক্ত সিসা পাওয়া গেছে। এ কারণে প্রাণের গুঁড়া হলুদের লাইসেন্স সাময়িক স্থগিত করা হয়েছে।"
তিনি আরো জানান,স্থগিতাদেশের ফলে প্রাণের গুঁড়া হলুদ বাজারজাত অবৈধ।
এদিকে প্রাণ-আরএফএল গ্রুপের পরিচালক (বিপণন) কামরুজ্জামান কামাল বিএসটিআই’র স্থগিতাদেশের কথা স্বীকার করেছেন। তিনি বলেন,"গত সপ্তাহে বিএসটিআই এ সংক্রান্ত একটি চিঠি দিয়েছে। তাদের চিঠিরও জবাব দেয়া হয়েছে। সাথে কয়েক ধরনের নমুনা গুঁড়া হলুদ পাঠিয়ে বলেছি এগুলো যেন তারা পরীক্ষা করেন।"
আগের বাজারজাতকৃত সীসাযুক্ত হলুদ বাজার থেকে বিএসটিআই তুলে নিতে বললেও তা করা হচ্ছে না কেন এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন,“সরিয়ে নেয়া হয়েছে। বাকিগুলোও পর্যায়ক্রমে সরিয়ে নেওয়া হবে।"
সূত্র -poriborton.com

