সিরিয়ার রাজধানী দামেস্কে বিষাক্ত গ্যাসে সহস্রাধিক মানুষ হতাহতের অভিযোগ ওঠার পরও ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে পারেনি জাতিসংঘের রাসায়নিক অস্ত্র বিশেষজ্ঞরা। সেখান থেকে কয়েক কিলোমিটার দূরের একটি আবাসিক হোটেলেই অবস্থান করছেন তারা। তাদেরকে ঘটনাস্থল পরিদর্শনের সুযোগ দিতে সিরিয়া সরকারেরর প্রতি আহ্বান জানিয়েছে জাতিসংঘ ও পশ্চিমা দেশগুলো। এদিকে চলমান গৃহযুদ্ধে এখন পর্যন্ত ১০ লাখের বেশি সিরীয় শিশু উদ্বাস্তু হয়েছে বলে জানিয়েছে জাতিসংঘ।
গত বুধবার দামেস্কের একটি জনবসতিতে বিষাক্ত গ্যাসে তেরশরও বেশি মানুষ নিহত হয়েছে বলে অভিযোগ করে সিরিয়ায় আসাদ সরকারের বিরুদ্ধে যুদ্ধরত বিদ্রোহী গোষ্ঠিগুলো। তবে বিষাক্ত গ্যাসে হতাহতের ওই অভিযোগকে 'অযৌক্তিক এবং রঙচড়ানো' বলে দাবি করেছে সিরিয়া সরকার। গৃহযুদ্ধের কারণে মানবিক বিপর্যয় নেমে আসা দেশটি কোনো পক্ষ রাসায়নিক অস্ত্রের ব্যবহার করছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে আন্তর্জাতিক সমপ্রদায়ের কয়েকজন সদস্য দামেস্কে উপস্থিত হওয়ার তিন দিনের মাথায় এ ধরনের অভিযোগ ওঠে। এ ঘটনার পর জাতিসংঘ মহাসচিব বান কি মুন বলেছেন, তিনি কোন ধরনের বিলম্ব ছাড়াই সরকারের কাছ থেকে সহযোগিতা আশা করছেন। এছাড়া জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের জরুরি বৈঠকে এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। ঐ দলকে ঘটনাস্থল পরিদর্শনের অনুমতি দেয়ার জন্য আনুষ্ঠানিকভাবে আহ্বান জানিয়েছে জাতিসংঘ। তবে সরকারের পক্ষ থেকে এখনো কোন বক্তব্য আসেনি। এদিকে চলমান গৃহযুদ্ধে এখন পর্যন্ত ১০ লাখের বেশি সিরীয় শিশু উদ্বাস্তু হয়েছে বলে জানিয়েছে জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা (ইউএনএইচসিআর) ও শিশু সংস্থা (ইউনিসেফ)। শুক্রবার এক বিবৃতিতে সংস্থা দু'টি জানিয়েছে, সিরীয় শরণার্থীদের অর্ধেকই শিশু। এদের মধ্যে সাত লাখ চল্লিশ হাজার শিশুর বয়স এগারো বছরের নিচে। জাতিসংঘের তথ্য অনুসারে, সিরীয় শরণার্থীদের অধিকাংশই লেবানন, জর্দান, তুরস্ক, ইরাক এবং মিসরে আশ্রয় নিয়েছে।
সূত্র - দৈনিক ইত্তেফাক

