ক’দিন ধরে ভীড়ভাট্টার নগরীতে এই রোদ এই বৃষ্টি উঁকি দিয়ে যাচ্ছে। নাগরিক জীবনে যোগ করছে অস্বস্তি। সেটা না হয় মেনে নেয়া যায়। কিন্তু তার সাথে যদি যোগ হয় রোগবালাই, তখনই দেখা দেয় বিপত্তি।
ডা. এম. দেলোয়ার হোসেনএমন আকস্মিক বিপত্তি থেকে মুক্তি পেতে বেশকিছু পরামর্শ দিচ্ছেন বারডেম হাসপাতাল ও ইব্রাহিত মেডিকেল কলেজের সহযোগী অধ্যাপক, মেডিসিন ও পালমনোলজি (বক্ষব্যধি) বিশেষজ্ঞ ডা. এম. দেলোয়ার হোসেন। পরামর্শ লিপিবদ্ধ করেছেন আসিফ আদনান।
গরম বেশ প্রভাব ফেলে শরীরে। কারণ এই গরমে আদ্রতার কারণে ঘাম হয় বেশি। এতে করে শরীর থেকে অধিক পানি বেরিয়ে যায়। তাই দেহে পানি ও লবণের শূন্যতা দেখা দিতে পারে। এ অবস্থা থেকে মুক্তি পেতে স্যালাইন, ডাবের পানি খেতে পারেন। তবে পানি পানের পরিমাণটা এই সময়ে একটু বাড়িয়ে দিতে হবে।
এদিকে গরম মাঝে বৃষ্টিও পড়ছে আজকাল। নিজেকে বৃষ্টি থেকে বাঁচিয়ে রাখুন। আর নিতান্তই ভিজে গেলে তোয়ালে দিয়ে মুছে ফেলুন। ভিজে অবস্থায় থাকলে ঠান্ডা বসে যেতে পারে। আক্রান্ত হতে পারেন ভাইরাস সংক্রমণে।এছাড়াও টুকটাক বৃষ্টিতে পানি জমে থাকতে পারে আপনার টব, ছাদের কোণায় অথবা বাড়ির পাশে পড়ে থাকা টায়ারে। এসব পরিষ্কার রাখতে হবে। কারণ এগুলোতেই ডেঙ্গু জ্বরের বাহক এডিস মশা বংশবিস্তার করে। এ সময় ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হচ্ছেন অনেকে। ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হলে ভয়ের কিছু নেই। পানি খাবেন বেশি করে। পথ্যের মধ্যে প্যারাসিটামল ওষুধ খাবেন।
এছাড়া পানিবাহিত রোগের প্রকোপও বাড়ছে এই সময়। ডায়রিয়া ও আমাশয়ের মতো রোগ থেকে বেঁচে থাকতে বাইরের শরবত বা পানি জাতীয় কিছু খাবেন না। পরিচ্ছন্ন থাকবেন ও পরিষ্কার রাখবেন সবকিছু। ডায়রিয়া হলে তরল খাবার খেতে হবে বেশি বেশি। পায়খানার সাথে রক্ত গেলে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হন।
ফল খাওয়ার বিষয়ে সচেতন থাকতে হবে। এখনকার সব ফলেই ফরমালিনের থাকে। এর ফলে সেগুলোর পুষ্টিগুণ নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। তাই দেশি ফল হিসেবে আমড়া, পেয়ারা, আমলকি, কামরাঙ্গা, জাম্বুরা এরকম মৌসুমি ফল খাওয়া যেতে পারে।
সূত্র - poriborton.com

