মুরগি ও মাছের বিষাক্ত খাবার উৎপাদন করায় হাজারীবাগ এলাকার ৫টি কারখানা উচ্ছেদ করেছে পরিবেশ অধিদপ্তর।
রোববার হাজারীবাগ এলাকায় পরিবেশ অধিদপ্তরের এনফোর্সমেন্ট এক অভিযান চালিয়ে বিষাক্ত খাবার উৎপাদনকারী এসব কারখানা উচ্ছেদ করে। এ সময় চারটি প্রতিষ্ঠান ছিলগালা করে দেওয়া হয়।
পরিবেশ অধিদপ্তরের এনফোর্সমেন্ট উইংয়ের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. শামছুল আলমের নের্তৃত্বে ও পরিবেশ অধিদপ্তর ঢাকা মহানগরের পরিদর্শক ও সহকারী পরিচালকের উপস্থিতিতে এ অভিযান পরিচালিত হয়।
ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনারের অফিস থেকে ১০ সদস্যের পুলিশ ফোর্স ও হাজারীবাগ থানার ৪ সদস্যের পুলিশ ফোর্স এ এনফোর্সমেন্ট কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করে।
অভিযানে পর পরিবেশ অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে বলা হয়, ট্যানারি কারখানার প্রস্তুতকৃত চামড়ার উচ্ছিস্ট অংশ স্কিমিং করে কারখানাগুলো এ সকল প্রতিষ্ঠানে ট্যানারি বর্জ্য বিক্রয় করে। পরে বর্জ্যগুলোকে খোলা আকাশের নিচে শুকিয়ে কতগুলো ট্যাংকে উত্তপ্ত করা হয়। এর ফলে অসহ্যকর দুর্গন্ধ সৃষ্টি হয়।
ট্যানারি কারখানায় চামড়া পাকা করতে ক্রোমিয়ামসহ আরও অনেক ভারী ধাতব যৌগ ব্যবহার করা হয়। এসকল ধাতব যৌগ মানুষের শরীরে ক্যান্সারসহ নানাবিধ রোগের সৃষ্টি করে। এ ধাতব যৌগগুলো খাদ্যশৃঙ্খলের মাধ্যমে চামড়া থেকে পর্যায়ক্রমে মুরগি ও মাছের শরীরে এবং পরে মুরগি ও মাছ থেকে মানুষের শরীরে প্রবেশ করে ক্যান্সার সৃষ্টি করে।
মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান এক পত্রে পরিবেশ অধিদপ্তরের মহাপরিচালককে এ সকল কারখানা ব্যবস্থাপনার বিষয়ে অনুরোধ করলে পরিবেশ অধিদপ্তর হতে এসকল কারখানাকে প্রথমে বন্ধের নির্দেশ দেওয়া হয়। কিন্তু কারখানা কর্তৃপক্ষ এ নির্দেশ অমান্য করে কারখানা পরিচালনা অব্যাহত রাখে। পরে এনফোর্সমেন্ট উইংয়ের পরিচালক মো. আলমগীর কারখানাসমূহ উচ্ছেদের জন্য টিম গঠন করেন।
প্রসঙ্গত, হাজারীবাগ এলাকার ট্যানারি কারখানাসমূহ দু’ভাবে পরিবেশের ক্ষতি করে। প্রথমত, তারা চামড়া প্রস্তুতকালে অপরিশোধিত তরল বর্জ্য সরাসরি ড্রেনের মাধ্যমে নদীতে ফেলে। দ্বিতীয়ত, কারখানাগুলো চামড়ার উচ্ছিস্টাংশ কোনরূপ ব্যবস্থাপনা ছাড়াই মুরগির খাবার প্রস্তুতকারী কারখানায় বিক্রয় করে।
এসকল কঠিন বর্জ্য বিক্রি না করে কোন নির্দিষ্ট স্থানে সিল করে রেখে এ্যানারোবিক ডাইজেশ্চনের মাধ্যমে একদিকে যেমন মিথেন গ্যাস তৈরি করা সম্ভব অন্যদিকে এরূপ ডাইজেশ্চেনের চেম্বারের অবশিষ্ট সামান্য অংশ পরিবেশসম্মত উপায়ে পুড়িয়ে এর ক্ষতিকর প্রভাব থেকে রক্ষা পাওয়া সম্ভব। এজন্য ট্যানারি কারখানায় ইটিপি স্থাপনের বিষয়ে দীর্ঘদিন ধরে সাভারে প্রকল্প কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।
সূত্র - বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম

