ইউরোপীয় পুনর্জাগরণ বা রেনেসাঁ যুগের বিখ্যাত ইতালীয় চিত্রশিল্পী লেওনার্দো দা ভিঞ্চি মানবদেহের গঠন নিয়ে অভাবনীয় ও নিখুঁত অনেক গবেষণা চালিয়েছিলেন। তিনি বেঁচে থাকতে সেসব গবেষণা প্রকাশিত হলে চিকিৎসাবিজ্ঞানের ইতিহাস হয়তো অন্য রকম রূপ নিত। রেনেসাঁর প্রতিনিধি হিসেবে ভিঞ্চি একাধারে বহু বিষয়ে পণ্ডিত ব্যক্তি ছিলেন। চিত্রশিল্পী ছাড়াও তিনি ভাস্কর, স্থপতি, সংগীতজ্ঞ, গণিতবিদ, প্রকৌশলী, অঙ্গ ব্যবচ্ছেদ বিশেষজ্ঞ, ভূতত্ত্ববিদ, মানচিত্রবিদ, উদ্ভিদবিজ্ঞানী এবং লেখক হিসেবে দক্ষতার স্বাক্ষর রেখেছেন। গবেষকদের মতে, ১৫০৮ খ্রিষ্টাব্দের মধ্যেই অন্তত ১০টি লাশের অঙ্গ ব্যবচ্ছেদ করেছিলেন ভিঞ্চি। সংখ্যাটি পরবর্তী নয় বছরে ৩০ ছাড়িয়ে যায়। এই সময়ের ব্যবধানে তিনি মানবদেহ নিয়ে এক ধরনের ঘোরের মধ্যে ছিলেন। ব্যবচ্ছেদনির্ভর যে গবেষণা তিনি করেছিলেন, তা ছিল চিকিৎসাবিদ্যার ইতিহাসে সবচেয়ে গভীর অনুসন্ধানগুলোর একটি। ফলাফল হিসেবে তিনি এঁকেছিলেন মানবদেহের গঠনবিষয়ক অন্তত ২৪০টি নকশা বা স্কেচ। এ ছাড়া ওই স্বকীয় গবেষণার বিভিন্ন তথ্য তিনি লিখে রাখেন ১৩ হাজার শব্দে। মানুষের মাথার খুলি নিয়েও অনেক স্কেচ করেন তিনি। এডিনবরার কুইনস গ্যালারিতে আগামী শুক্রবার থেকে শুরু হচ্ছে এসব ছবির প্রদর্শনী। ওই গ্যালারির পরিচালক (কিউরেটর) মার্টিন ক্লেটন বলেন, দা ভিঞ্চির মধ্যে যেকোনো বিষয়ের গভীরে যাওয়ার সহজাত প্রবণতা ছিল। ময়নাতদন্ত বিশেষজ্ঞ হিসেবে ভিঞ্চি তৎকালীন ফ্লোরেন্সে রীতিমতো খ্যাতি পেয়েছিলেন। অপরাধীদের লাশ নিয়ে গবেষণার সুযোগ তাঁর জন্য অবারিত ছিল। ক্লেটন বলেন, মানবদেহ নিয়ে যাবতীয় গবেষণার ফলাফল ভিঞ্চি ছবি আকারে প্রকাশের পরিবর্তে লিখে প্রকাশে মনোযোগী হলে চিকিৎসাবিজ্ঞানের গতিধারা বা ইতিহাস পাল্টে যেতে পারত। দ্য টেলিগ্রাফ।
সূত্র - প্রথম আলো

