চাকরি স্থায়ী হয় না পেরেসানি ও কমে না
৩০ জুলাই, ১৩
Posted By: Healthprior21
Viewed#: 56
নিয়োগপত্র ও বেতন-ভাতা ছাড়াই প্রায় সাড়ে তিন বছর ধরে দিনাজপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে কাজ করছেন ৪৩৪ জন কর্মচারী। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ৫০০ শয্যা চালু করার সময় তাঁদের স্থায়ী ভিত্তিতে চাকরি দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে অস্থায়ী নিয়োগ দেয়। কিন্তু স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় অনুমোদন না দেওয়ায় তাঁদের নিয়োগের বিষয়টি এখনো ঝুলে আছে। এ কারণে বেতন-ভাতা না পেয়ে তাঁরা মানবেতর জীবনযাপন করছেন।
দিনাজপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, এখানে ২০১০ সালের মার্চে ৫০০ শয্যার কার্যক্রম শুরু হয়। ওই সময় এর জরুরি বিভাগ, বহির্বিভাগ, সার্জারি, গাইনি, শিশু, নাক-কান-গলা, অর্থোপেডিক, চক্ষু, মেডিসিন, কার্ডিওলজিসহ বিভিন্ন বিভাগ ও ওয়ার্ডে কার্যক্রম পরিচালনার জন্য ৪৩৪ জনকে অস্থায়ী ভিত্তিতে নিয়োগ দেওয়া হয়।
হাসপাতালের প্রশাসনিক শাখা সূত্রে জানা গেছে, নিয়োগ পাওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে ৩৫০ জন স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে সাড়ে তিন বছর বিনা বেতনে কাজ করছেন। বাকি ৮৪ জন আউটসোর্সিং কর্মচারী হিসেবে মাসিক দুই হাজার টাকা সম্মানির বিনিময়ে ঠিকাদারের মাধ্যমে কাজ করছেন।
অস্ত্রোপচার কক্ষে কর্মরত সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা আউটসোর্সিংয়ের অধীন থাকতে চাইনি। কর্তৃপক্ষ বুঝিয়ে সরকারি চাকরির প্রতিশ্রুতি দিয়ে আমাদের রেখেছেন। রোগীদের মানবিক দিক এবং স্যারদের মুখের দিকে তাকিয়ে এখনো কাজ করছি।’
জরুরি বিভাগে কর্মরত স্ট্রেচার বয় খোকন চন্দ্র জানান, এ বিভাগে ২৫ জন কর্মচারী কাজ করছেন। হাসপাতালে রোগী আসার পর তাঁদের ওয়ার্ডে নিয়ে যাওয়া, পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য বিভিন্ন পরীক্ষাগারে নেওয়াসহ সব ধরনের কাজ করতে হয়। সারা দিনে অবসর মেলে না। এভাবেই সাড়ে তিন বছর পার হয়ে গেছে। কিন্তু নিয়োগপত্র, বেতন কোনোটারই দেখা নেই।
কর্মচারীরা হতাশা প্রকাশ করে বলেন, হাসপাতাল পরিচালনা কমিটি, স্থানীয় সাংসদ বলছেন, চিন্তা করিস না, খুব শিগগিরই তোদের ব্যবস্থা হয়ে যাবে। তাঁদের আশ্বাসে আমরা আশায় বুক বেঁধে কাজ করে যাচ্ছি। অবশেষে এভাবে হয়তো একদিন সরকারি চাকরির বয়সসীমা শেষ হয়ে যাবে। তখন পরিবারের সদস্যদের নিয়ে পথে বসা ছাড়া গতি থাকবে না।
হাসপাতালের গাইনি ওয়ার্ডে কর্মরত আকবর আলী জানান, বাড়িতে স্ত্রী এবং ছয় বছর বয়সী এক মেয়ে আছে। রোগীরা খুশি হয়ে যে বকশিশ দেন, তা দিয়ে সংসার চলে না। এর চেয়ে লজ্জার কিছু নেই। সংসার চালাতে তাঁর স্ত্রী অন্যের বাড়িতে কাজ করেন।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে হাসপাতালের সার্জারি বিভাগের একাধিক চিকিৎসক জানান, ওই কর্মচারীরা না থাকলে হাসপাতাল অচল হয়ে যাবে। এঁদের সবাই চাকরি পাওয়ার যোগ্য। চাকরি হবে এই আশা দিয়ে ওঁদের বুঝিয়ে রাখা হয়েছে।
দিনাজপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক এম বি এম ইকবাল জানান, হাসপাতালে ৫০০ শয্যা চালু করার পর একাধিকবার জনবলের চাহিদাপত্র অনুমোদনের জন্য স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। কিন্তু সেখান থেকে তা অনুমোদন হয়ে না আসায় ৪৩৪ জন কর্মচারীকে স্থায়ীভাবে নিয়োগ দেওয়া সম্ভব হয়নি।
হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা কমিটির পরিচালক দিনাজপুর-৩ (সদর) আসনের সাংসদ ইকবালুর রহিম বলেন, হাসপাতালটিতে প্রতিদিন গড়ে ৫০০ রোগী থাকে। বহির্বিভাগে সেবা নেয় আরও ৫০০ রোগী। কিন্তু যাঁরা শ্রম দিয়ে হাসপাতালটি চালু রেখেছেন সেই কর্মচারীদের নিয়োগ করার বিষয়টি দ্রুত স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন করা প্রয়োজন।
সূত্র - প্রথম আলো