home top banner

খবর

আমিনবাজার হাসপাতাল ভবন হয়েছে, হাসপাতাল চালু হয়নি
৩০ জুলাই, ১৩
 Posted By:   Healthprior21
  Viewed#:   56

অবকাঠামো নির্মাণের সাড়ে তিন বছরেও জনবলের অভাবে ঢাকার সাভারের আমিনবাজারের ২০ শয্যার সরকারি হাসপাতাল চালু করা যায়নি। হাসপাতালের জন্য নির্মিত ভবনে চলছে আমিনবাজার ইউনিয়ন উপস্বাস্থ্যকেন্দ্রের কার্যক্রম। ওই স্বাস্থ্যকেন্দ্রে রয়েছে প্রয়োজনের অতিরিক্ত একজন চিকিৎসক ও একজন ফার্মাসিস্ট। তবে সেখানে চিকিৎসকেরা পুরো সময় দায়িত্ব পালন করেন না বলে রোগী ও স্থানীয় লোকজনের অভিযোগ।

সাভার উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তার কার্যালয় জানায়, রাজধানীর গাবতলীর পাশেই আমিনবাজারে তিনটি আবাসিক ভবনসহ ২০ শয্যার হাসপাতালের নির্মাণকাজ শেষ হয় ২০১০ সালে। ওই বছরের জানুয়ারি মাসে তা হস্তান্তর করা হয় উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগের কাছে। এরপর ১৬টি নিয়মিত পদসহ ২৫টি পদ সৃষ্টি করে হাসপাতালে ১৪টি পদের অনুকূলে জনবল নিয়োগ দেওয়া হয়। এর মধ্যে আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা পদে একজন, কনিষ্ঠ বিশেষজ্ঞ পদে চারজন, সহকারী সার্জন পদে একজন, জ্যেষ্ঠ সেবিকা পদে ছয়জন, মেডিকেল টেকনোলজিস্ট পদে একজন ও ফার্মাসিস্ট পদে একজনকে নিয়োগ দেওয়া হয়। হাসপাতাল চালু না হওয়ায় এসব পদে নিয়োগপ্রাপ্ত ব্যক্তিরা প্রেষণে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কর্মরত রয়েছেন।

শূন্য রয়েছে অফিস সহকারী ও ল্যাব অ্যাটেনডেন্টসহ অনিয়মিত পদে ওয়ার্ড বয়, মশালচি, আয়া, এমএলএসএস, নিরাপত্তাকর্মী ও সুইপারের ১১টি পদ। তবে হাসপাতাল দেখভালের জন্য দুজন এমএলএসএসকে প্রেষণে এই হাসপাতালে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

আমিনবাজার ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান কফিল উদ্দিন প্রথম আলোকে বলেন, ‘অবকাঠামো নির্মাণের পরও হাসপাতাল চালু না করায় নাগরিকেরা সরকারি স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। হাসপাতাল চালু হলে আমিনবাজার, বরদেশী, বেগুনবাড়ি, কাউন্দিয়াসহ আশপাশের কয়েক লাখ লোক উপকৃত হতো।’

সাভার উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা মোশারফ হোসেন দেওয়ান বলেন, ‘স্থানীয় জনসাধারণের চিকিৎসাসেবার বিষয়টিকে প্রাধান্য দিয়ে হাসপাতালের ১১টি শূন্য পদে জনবল নিয়োগের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে লিখিতভাবে একাধিকবার জানানোর পরও কোনো সাড়া পাওয়া যাচ্ছে না।’

উপস্বাস্থ্যকেন্দ্রের বিরুদ্ধে অভিযোগআমিনবাজার ইউনিয়ন উপস্বাস্থ্যকেন্দ্রে একজন চিকিৎসা কর্মকর্তা, একজন উপসহকারী কমিউনিটি চিকিৎসা কর্মকর্তা, একজন ফার্মাসিস্ট ও একজন এমএলএসএস কর্মরত আছেন। জনবল কাঠামোর অতিরিক্ত হিসেবে প্রেষণে আছেন আরও একজন চিকিৎসা কর্মকর্তা ও একজন ফার্মাসিস্ট। তাঁরা হলেন মানিকগঞ্জের শিবালয় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক ইশতিয়াক আহাম্মেদ ও ২০ শয্যা হাসপাতালের ফার্মাসিস্ট শরিফুল ইসলাম।

স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা অভিযোগ করেন, কেন্দ্রটি চালান মূলত একজন ফার্মাসিস্ট ও একজন এমএলএসএস। গুটি কয়েক ট্যাবলেট ও ক্যাপসুল ছাড়া আর কোনো ওষুধ নেই সেখানে।

হাসপাতালের সামনের মুদি দোকানি আবুল হোসেন বলেন, ‘সপ্তাহে দুই থেকে তিন দিন ডাক্তার আসেন। তাও আবার সকাল ১০টায় আসেন, একটার মধ্যে চলে যান। আর অন্যান্য দিন একজন আপাসহ যাঁরা ওষুধ দেন, তাঁরাই থাকেন।’

আবুল হোসেনের দেওয়া তথ্য যাচাই করতে ১৬ জুলাই দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে ওই স্বাস্থ্যকেন্দ্রে গিয়ে ফার্মাসিস্ট শরিফুল ইসলাম ও এমএলএসএস মনোয়ারা বেগম ছাড়া কাউকে পাওয়া যায়নি।

অন্যদের ব্যাপারে জানতে চাইলে শরিফুল ইসলাম বলেন, ‘চিকিৎসক ফারজানা সিদ্দিকা ও ইশতিয়াক আহাম্মেদ সকালের দিকে রোগী দেখে বাইরে গেছেন।’

দুজন চিকিৎসকের অনুপস্থিতির কারণ জানতে চাইলে উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা মোশারফ হোসেন দেওয়ান বলেন, ‘নিয়ম অনুযায়ী সকাল আটটা থেকে বেলা আড়াইটা পর্যন্ত স্বাস্থ্যকেন্দ্রে উপস্থিত থাকতে হবে। এরপর তাঁরা কেন উপস্থিত ছিলেন না, সে ব্যাপারে ব্যবস্থা নিচ্ছি।

ভিন্ন চিত্র২০ জুলাই দুপুর ১২টায় উপস্বাস্থ্যকেন্দ্রে গিয়ে চিকিৎসক ইশতিয়াক ও ফারজানা, উপসহকারী কমিউনিটি চিকিৎসা কর্মকর্তা সালমা আক্তারসহ অন্যদের দেখা যায়। সকাল থেকে তাঁরা ৬২ জনকে চিকিৎসাসেবা দিয়েছেন বলে জানান।

১৬ জুলাই অনুপস্থিত থাকার কারণ জানতে চাইলে ইশতিয়াক বলেন, ‘স্ত্রীর অসুস্থতার কারণে ওই দিন কর্মস্থলে আসতে পারিনি।’ ফারজানা বলেন, ‘আমার বাচ্চা অসুস্থ হয়ে পড়ায় ১২টার দিকে বাসায় চলে গিয়েছিলাম।’

সালমা আক্তার কিছু সময়ের জন্য বাসায় গিয়েছিলেন বলে জানান। ওই দিন (১৬ জুলাই) ছাড়া নিয়ম অনুযায়ী তাঁরা প্রতিদিনই সকাল আটটা থেকে বেলা আড়াইটা পর্যন্ত উপস্থিত থাকেন বলে দাবি করেন।

তবে নাম প্রকাশ না করার শর্তে সাভার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের একজন চিকিৎসক প্রথম আলোকে বলেন, ‘আপনার কাছ থেকে জানতে পেরে টিএইচও স্যার (মোশারফ হোসেন দেওয়ান) তাঁদের মৌখিকভাবে সতর্ক করে দেওয়ায় তাঁরা নিয়মিত দায়িত্ব পালন করছেন।’

 সূত্র - প্রথম আলো

Please Login to comment and favorite this News
Next Health News: চাকরি স্থায়ী হয় না পেরেসানি ও কমে না
Previous Health News: হাসপাতালের কর্মচারীকে নির্যাতন করে হত্যা!

আরও খবর

রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায় অ্যান্টিবায়োটিক!

সম্প্রতি এক গবেষণায় জানা গেছে, কম বয়সে অ্যান্টিবায়োটিক খেলে পরবর্তী ক্ষেত্রে মানব শরীর বিভিন্ন ধরনের রোগ প্রতিরোধ করতে সক্ষম থাকে৷ কলোম্বিয়ার ব্রিটিশ বিশ্ববিদ্যায়লের এ গবেষণা অনুযায়ী, অন্ত্রে বিভিন্ন ধরনের ব্যাকটেরিয়া বিরাজ করে, যা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা স্বাস্থ্যকর রাখে৷ কিন্তু... আরও দেখুন

ঢাবিতে মানসিক স্বাস্থ্যবিষয়ক আন্তর্জাতিক সম্মেলন উদ্বোধন

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগ ও বাংলাদেশ ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি সোসাইটির যৌথ উদ্যোগে  ‘Mental Health Gap in Bangladesh: Resources and Response’ শীর্ষক চার দিনের চতুর্থ মানসিক স্বাস্থ্যবিষয়ক আন্তর্জাতিক সম্মেলনের উদ্বোধন  হয়েছে। বুধবার ঢাকা... আরও দেখুন

৯টি ভয়ংকর সত্যি, যা আপনাকে ডাক্তাররা জানান না!

অনেক সময় কোনো ওষুধ একটি রোগ সারিয়ে তুললে, সেই ওষুধই অন্য একটি অসুখকে আমন্ত্রণ জানিয়ে রাখে। এমনকি এক্স রে রশ্মিও আমাদের শরীরে ক্যান্সারের মতো মারণ রোগের জন্ম দেয়। ওষুধের প্রভাবে কী কী পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হতে পারে ১. ওষুধে ডায়াবিটিস বাড়তে পারে: সাধারণত ইনসুলিনের অভাবে ডায়াবিটিস হয়।... আরও দেখুন

প্রাকৃতিক ভায়াগ্রা হর্নি গোটউইড

চীনের একটি গাছের নাম হর্নি গোটউইড। এই গাছ থেকেই অদূর ভবিষ্যতে সস্তায় মিলবে ভায়াগ্রার বিকল্প ওষুধ। পুরুষাঙ্গকে দৃঢ়তা প্রদানের জন্য যে যৌগটি দরকার, সেই আইকারিন প্রচুর পরিমাণে রয়েছে হর্নি গোটউইডে। এই উপদানটিকে প্রকৃতিক ভায়াগ্রা হিসেবে শনাক্ত করেছেন ইউনিভার্সিটি অফ মিলানের গবেষক ডা. মারিও ডেল... আরও দেখুন

ব্রেন ক্যানসার থেকে মুক্তি দেবে ‘সোনা’

ব্রেন ক্যানসার চিকিৎসায় এবার ব্যবহৃত হবে সোনা৷ কারণ সোনা নাকি ব্রেন ক্যানসার থেকে মুক্তি  দিতে পারে৷ বিজ্ঞান পত্রিকা ন্যানোস্কেল অনুযায়ী, ব্রেন ক্যানসারের  চিকিৎসার সোনার একটি অতি সুক্ষ টুকরো সাহায্যকারী প্রমাণিত হতে পারে৷ বৈজ্ঞানিকরা একটি সোনার টুকরোকে গোলাকৃতি করে... আরও দেখুন

যৌবন ধরে রাখতে অশ্বগন্ধা

বাতের ব্যথা, অনিদ্রা থেকে বার্ধক্যজনিত সমস্যা। এ সবের নিরাময়ে অশ্বগন্ধার বিকল্প নেই। তেমনটাই তো বলেন বিশেষজ্ঞরা। এমনকি যৌবন ধরে রাখতেও অশ্বগন্ধার উপকারিতা অনস্বীকার্য। ত্বকের সমস্যাতেও দারুণ কাজ দেয় অশ্বগন্ধার ভেষজ গুণ। বিদেশেও এর চাহিদা ব্যাপক। সে কারণেই অশ্বগন্ধা চাষ অত্যন্ত লাভজনক।... আরও দেখুন

healthprior21 (one stop 'Portal Hospital')