সদ্য পাস হওয়া শ্রম আইনে গৃহশ্রমিকদের স্বীকৃতি দেওয়া হয়নি শ্রমিক হিসেবে। এই অস্বীকৃতি গৃহশ্রমে যেসব শিশু আছে, তাদেরকে আরও অসহায় করে তুলেছে। শিশুশ্রম বন্ধে বড় বাধা নীতিনির্ধারকদের মানসিকতা। ‘শ্রমজীবী শিশুদের অধিকার’ বিষয়ে এক সেমিনারে এসব কথা বলে বক্তারা অভিমত দিলেন, দারিদ্র্যই শিশুশ্রমিক বৃদ্ধির প্রধান কারণ। এই দারিদ্র্যের বৃত্ত ভাঙতে পারে কেবল শিক্ষা। গতকাল বৃহস্পতিবার রাজধানীর একটি হোটেলে সেভ দ্য চিলড্রেন আয়োজিত এক সেমিনারে এসব কথা বলেন বক্তারা। সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধান বিচারপতি মো. মোজাম্মেল হোসেন আজকের শিশুদের সুন্দর ভবিষ্যতের জন্য তাদের শিক্ষার সুযোগ দেওয়ার তাগিদ দেন। তিনি জানান, সংবিধান তাদের এই সুযোগ দিয়েছে। প্রধান বিচারপতি স্মরণ করিয়ে দিয়ে বললেন, ‘শ্রমিক হিসেবে গৃহশ্রমিকদের স্বীকৃতি দেওয়ার জন্য হাইকোর্টের নির্দেশনা আছে।’ সেমিনারের মূল প্রবন্ধে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের বিচারপতি ইমান আলী হতাশা প্রকাশ করেই বললেন, ‘আমাদের নির্দেশনা থাকা সত্ত্বেও গৃহশ্রমিকদেরকে শ্রমিকের অন্তর্ভুক্ত করা হলো না।’ তাঁর কথা, সংবিধান শিশুদের শিক্ষার অধিকার দিলেও তা সব সময় লঙ্ঘন করা হচ্ছে। চেষ্টা করেও গৃহশ্রমিকদের শ্রমিকের তালিকাভুক্ত করা যায়নি—নিজের অক্ষমতার কথা অকপটে বলে সেমিনারের বিশেষ অতিথি শ্রমসচিব মিকাইল শিপার এর কারণ ব্যাখ্যা করে বললেন, ‘আমার ওপরে যাঁরা আছেন, তাঁদেরকে এই বিষয়ে প্রভাবিত করতে পারিনি। আমাদের নীতিনির্ধারক পর্যায়ে যাঁরা আছেন, তাঁদের মানসিকতা গৃহকাজে শিশুশ্রমের পক্ষে। তাঁরা এখনো সামন্ততান্ত্রিক মানসিকতা ধারণ করেন। সমাজের মানসিকতার পরিবর্তন না হলে শিশুশ্রম আইন করে বন্ধ করা যাবে না।’ গৃহকাজে নিয়োজিত শিশুদের ঝুঁকিপূর্ণ জীবনযাপনের চিত্র তুলে ধরে তিনি বলেন, কোনো দুর্ঘটনায় গৃহকর্মীর মৃত্যু হলে টাকাপয়সার বিনিময়ে তা মিটমাট হয়ে যায়, এটা বাস্তবতা। বেসরকারি সংগঠন বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব লেবার স্টাডিজের (বিলস) সহকারী নির্বাহী পরিচালক সুলতান উদ্দিন আহমদ গৃহশ্রমিকদের অবস্থা পর্যবেক্ষণের ব্যবস্থার দাবি করে বলেন, যতগুলো কাজ আছে, এর মধ্যে গৃহশ্রম অন্যতম প্রধান ঝুঁকিপূর্ণ। অথচ সরকারের ৩৭টি ঝুঁকিপূর্ণ কাজের তালিকায় এটি নেই। সেভ দ্য চিলড্রেনের সহকারী বাংলাদেশ-প্রধান ইকবাল নায়ারের সভাপতিত্বে সেমিনারে বাংলাদেশের শিশুদের ন্যায়বিচার বিষয়ে নাজরানা ইমামের লেখা দুই খণ্ডের একটি বইয়ের মোড়ক উন্মোচন করা হয়। শরফুদ্দিন খানের পরিচালনায় সেমিনারে আরও বক্তব্য দেন সমাজকল্যাণসচিব সুরাইয়া বেগম, বাংলাদেশ মানবাধিকার কমিশনের পূর্ণকালীন সদস্য কাজী রেজাউল হক প্রমুখ।
সূত্র - প্রথম আলো

