অবকাঠামো ও জনবল-সংকটের কারণে চিকিৎসাসহ বিভিন্ন যন্ত্রপাতি চালু করতে পারছে না বিভিন্ন জেলা ও উপজেলা হাসপাতাল। কিছু ক্ষেত্রে কেন্দ্রীয় ঔষধাগার (সেন্ট্রাল মেডিকেল স্টোরস ডিপো-সিএমএসডি) থেকে পাঠানো যন্ত্রের বাক্সই খোলা হয়নি।
চট্টগ্রাম, টাঙ্গাইল ও খুলনার বিভিন্ন হাসপাতাল ঘুরে দেখা গেছে, অব্যবহূত অবস্থায় যন্ত্রপাতির মেয়াদ শেষ হচ্ছে, কিন্তু চিকিৎসায় তা কাজে লাগছে না।
চট্টগ্রাম: চট্টগ্রামের সন্দ্বীপ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ১৯৯৫ সালের ১ জুলাই একটি এক্স-রে যন্ত্র পাঠায় সিএমএসডি। ১৮ বছর যন্ত্রটি বাক্সবন্দী অবস্থায় রয়েছে। একই হাসপাতালে অব্যবহূত অবস্থায় ১৭ বছর পড়ে রয়েছে ডায়াথার্মি মেশিন। এটি অস্ত্রোপচারের পর রক্ত ঝরা বন্ধে ব্যবহূত হয়। সন্দ্বীপ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ কর্মকর্তা মো. দেলওয়ার হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, এক্স-রে যন্ত্রটির বাক্স খোলা হয়নি। কারণ, বিদ্যুতের ব্যবস্থা নেই। একই কারণে ডায়াথার্মি যন্ত্রটি বাক্সবন্দী।
জেলা সিভিল সার্জনের কার্যালয়ের অধীনে বিভিন্ন হাসপাতালে ১২টি এক্স-রে যন্ত্র, চারটি ইসিজি যন্ত্র, একটি আলট্রাসনোগ্রাফি যন্ত্র, নয়টি জেনারেটর, একটি ডায়াথার্মি যন্ত্র, পাঁচটি অ্যানেসথেসিয়া যন্ত্র অচল পড়ে রয়েছে।
চন্দনাইশ উপজেলা হাসপাতালে ওটি টেবিল, ফটোথেরাপি মেশিন, অ্যানেসথেসিয়া মেশিনসহ অস্ত্রোপচার-সংক্রান্ত যন্ত্রপাতি বাক্সবন্দী হয়ে মেয়াদকাল পার করছে। রাঙ্গুনিয়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে অস্ত্রোপচার কক্ষ চালু নেই। কিন্তু সেখানে ১০ বছর ধরে একটি জীবাণুমুক্ত করা অটোক্লেভ যন্ত্র অব্যবহূত পড়ে রয়েছে। চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতালে ২০০৮ সালে দেওয়া ৫০ কেভি ক্ষমতাসম্পন্ন জেনারেটরও অব্যবহূত অবস্থায় পড়ে আছে। জেলা সিভিল সার্জন মো. আবু তৈয়ব (সম্প্রতি বদলি হয়েছেন) বলেন, সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের গাফিলতিতে অনেক যন্ত্রপাতি বসাতে দেরি হয়। খুলনা: জেলার ফুলতলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের প্রধান ফটক দিয়ে ঢুকলেই বারান্দায় বড় একটি বাক্স চোখে পড়ে। এর মধ্যে আছে ৪০ কেভিএ ক্ষমতাসম্পন্ন একটি জেনারেটর। পাঁচ বছর আগে সিএমএসডি থেকে যেভাবে সরবরাহ করা হয়েছে, সেভাবেই আছে। তবে যন্ত্রটিতে মরিচা পড়া শুরু হয়েছে। সিভিল সার্জন মো. গোলাম মোর্ত্তুজা বলেন, ফুলতলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এত বড় জেনারেটর প্রয়োজন ছাড়াই পাঠানো হয়েছে। এটি স্থাপন করার মতো অবকাঠমো হাসপাতালে নেই। বিষয়টি জানিয়ে তিনি স্বাস্থ্য বিভাগের মহাপরিচালক ও সিএসএমডি বরাবরে চার-পাঁচ দফা চিঠি দিয়েছেন। খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে সরবরাহ করা চারটি বেবি ইনকিউবিটর ও চারটি ফটোথেরাপি মেশিন চালু না হওয়া প্রসঙ্গে হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক পরিতোষ কুমার কুণ্ডু বলেন, জায়গার অভাবে এগুলো চালু করা হয়নি। হাইড্রোলিক অপারেশন টেবিলটি নতুন অপারেশন থিয়েটার চালু হলে প্রয়োজন পড়বে। তবে ‘হট ওয়াটার বাথ’-এর প্রয়োজন না থাকলেও ঢাকা থেকে পাঠানো হয়েছিল। ইন্টারমিটেন্ট ট্রাকশন ইউনিটের ছয়টি মেশিন পড়ে রয়েছে। ২০০৬ সালে সরবরাহ করা পিএইচ মিটার বাক্সবন্দী পড়ে আছে। টাঙ্গাইল: টাঙ্গাইলের জেনারেল হাসপাতালে ২০০৮ সালে ৫০ কেভিএ জেনারেটর পাঠায় সিএমএসডি। জেনারেটরটি বসানোর জায়গা নেই বলে গুদামে পড়ে আছে। জেলার সখীপুর, মধুপুর ও ভূঞাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সেও তিনটি জেনারেটর আছে বাক্সবন্দী অবস্থায়। জানা গেছে, জেনারেল হাসপাতালে ২০০৯ সালে বায়োকেমিস্ট্রি অটো অ্যানালাইজার মেশিন বসানো হয়। তবে এটি চালু করা হয়নি। চাহিদাপত্র না দিলেও ২০০৮ সালে মর্গে লাশ সংরক্ষণের জন্য যন্ত্র পাঠানো হয় ঢাকা থেকে। যন্ত্রটি গুদামে পড়েই নষ্ট হচ্ছে। এ ব্যাপারে হাসপাতালের সহকারী পরিচালক নুর মোহাম্মদ বলেন, এগুলো চালু করার জন্য কক্ষ নির্মাণ ও লোকবলের চাহিদা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে দেওয়া হয়েছে।
ভূঞাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে অপারেশন থিয়েটার চালু নেই ১৯৯৯ সাল থেকে। তার পরও এখানে দেওয়া হয়েছে হাইড্রোলিক ওটি টেবিল, অ্যানেসথেসিয়া যন্ত্র, অটোক্লেভ যন্ত্র, স্ট্যান্ডবাই ওটি লাইটসহ বিভিন্ন যন্ত্রপাতি। এ মাসের প্রথম সপ্তাহে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গিয়ে দেখা যায়, মূল ভবনের প্রবেশমুখে বাক্সবন্দী পড়ে রয়েছে ওটি টেবিল। আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা হাসিব আহসান বলেন, অবেদনবিদ ও শল্যচিকিৎসকের পদ দীর্ঘদিন ধরে শূন্য।
একইভাবে মির্জাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সেও হাইড্রোলিক ওটি টেবিল ও অ্যানেসথেসিয়া মেশিন অব্যবহূত অবস্থায় রয়েছে। বাসাইলে ডেন্টাল ইউনিট চেয়ার কাজে আসছে না। নাগরপুরে ডিসটিল ওয়াটার প্ল্যান্ট, হট এয়ার ওভেন এবং বেশ কিছু আসবাব অব্যবহূত পড়ে আছে।
সূত্র - প্রথম আলো

