home top banner

খবর

রক্তের ক্যানসার প্রতিরোধে সাপের বিষ, স্বর্ণচূর্ণ
০৪ জুলাই, ১৩
 Posted By:   Healthprior21
  Viewed#:   26

এ যেন আক্ষরিক অর্থেই বিষে বিষে বিষক্ষয়!  যে বিষ শরীরে ছড়িয়ে পড়লে মৃত্যু প্রায় নিশ্চিত, সেই বিষের সাহায্যেই এক মরণ রোগকে বধ করার পন্থা আবিষ্কার করেছেন বলে দাবি করলেন কলকাতার বিজ্ঞানীরা।

শুধু তাই নয়, রোগ সারাতে গিয়ে কোনো গুরুতর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া যেন রোগীকে কাবু করতে না পারে, তারও পথ বাতলে দিয়েছেন বিজ্ঞানীরা। প্রথম দফায় শুধু রক্তের ক্যানসারের (লিউকেমিয়া) উপরেই এর কার্যকারিতা সামনে এসেছে বলে জানিয়েছেন তারা।

কেউটে, চন্দ্রবোড়া, খরিষের মতো সাপের বিষ থেকে ক্যানসার ঠেকানোর যৌগ আবিষ্কারের এই দাবি কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের শারীরবিজ্ঞান বিভাগের বিজ্ঞানীদের। শুধু ক্যানসারের সঙ্গে লড়াই করাই নয়, মানুষের দেহে ওই যৌগের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া ঠেকানোর পথও আবিষ্কার করেছেন তারা।

এ ক্ষেত্রে তাদের সহায়ক হয়েছে স্বর্ণচূর্ণের কণা, যা প্রাচীন আয়ুর্বেদের সময় থেকেই নানা রোগ সারাতে ব্যবহার করা হয়। তাদের গবেষণাপত্র একটি বিজ্ঞান জার্নাল ‘নেচার ইন্ডিয়া’-য় প্রকাশিত হয়েছে।

সাপের বিষ ও সোনার গুঁড়োর যৌথ আক্রমণে ক্যানসারের মতো মরণ ব্যাধিকে পিছু হটানো সম্ভব কি না, তা নিয়ে নানা মহলে সমালোচনা শুরু হয়েছে। তবে ক্যানসার চিকিৎসকদের বক্তব্য, এটা একেবারেই প্রাথমিক স্তরে রয়েছে।

কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের শারীরবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক অ্যান্টনি গোমস জানান, ১৯৯৫ সাল থেকে তাদের বিভাগে কাজ শুরু হয়। ২০০৫ সালে চন্দ্রবোড়ার বিষের প্রোটিন যৌগ ক্যানসার আক্রান্ত কোষকে মারছে, তা প্রমাণিত হয়। গবেষণার মাধ্যমে কেউটের বিষেও এই ক্ষমতার কথা তারা সামনে আনেন। কিন্তু সমস্যা হল, যে কোনও কেমোথেরাপির ওষুধের মতো প্রোটিন যৌগেরও কিছু ক্ষতিকর দিক রয়েছে।

কারণ,হৃৎপিণ্ড এবং স্নায়ুর উপরে ওই যৌগের বিরূপ পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া ঘটতে পারে। সেই কারণেই এই যৌগ থেকে ওষুধ তৈরির বিষয়টি নিয়ে বেশি দূর এগোনো বিপজ্জনক হতে পারে।

কিন্তু কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের ওই বিজ্ঞানীদের দাবি, সোনার গুঁড়ো ব্যবহার করে পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া কমানোর পন্থাও তারা আবিষ্কার করেছেন। ইঁদুরের উপরে তা প্রয়োগও হয়েছে।

এ ব্যাপারে অ্যান্টনি গোমস বলেন, “এ ক্ষেত্রে কাজে লাগানো হয়েছে ন্যানো প্রযুক্তি। সোনার ন্যানো পার্টিকল তৈরি করে তা মেশানো হয়েছে সাপের বিষ থেকে আহরিত যৌগের সঙ্গে। তার পরে তা ইঁদুরের উপরে প্রয়োগ করা হয়েছে। তাতে দেখা গিয়েছে, ক্যানসার আক্রান্ত কোষ মরছে, কিন্তু পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া তুলনায় অনেকটাই কম।”

এর আগে কাঁকড়া বিছের বিষ থেকে যৌগ নিয়ে ক্যানসারের ওষুধ আবিষ্কারের কাজ হয়েছে। সাপের বিষ থেকে ক্যানসারের ওষুধ আবিষ্কারের ব্যাপারে কাজ শুরু হয় ১৯৩৩ সাল থেকে। এক ফরাসী বিজ্ঞানী এই কাজ শুরু করেছিলেন। পরে ভারতেও একাধিক গবেষণা শুরু হয়। কলকাতার বিজ্ঞানীরা রক্তের ক্যানসারের ক্ষেত্রে এর কার্যকারিতা প্রমাণ করতে পারলেও পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। তাই পরের দফায় কী ভাবে এই যৌগের বিষক্রিয়া কমানো যায়, তা নিয়ে কাজ চলছিল।

এর উদ্দেশ্য ছিল মূলত দু’টি। ক্যানসারকে ধ্বংস করার পাশাপাশি বিষক্রিয়া ঠেকানো। বিজ্ঞানীদের দাবি, ‘গোল্ড ন্যানো পার্টিকল’ তৈরি করে ওই যৌগের সঙ্গে জুড়ে দেওয়ায় সুফল মিলেছে। বিজ্ঞানী অমিয় কুমার হাটি জানান, সাপের বিষ থেকে শুধু ক্যানসার নয়, হৃৎপিণ্ড, স্নায়ুতন্ত্রের নানা রোগের ওষুধ তৈরি হয়। তার কথায়, “সাপের বিষে অনেক ধরনের প্রোটিন, কার্বোহাইড্রেট, এনজাইম রয়েছে। সবটাই যে ক্ষতিকর তা তো নয়। ক্ষতিকর বিষয়গুলো বাদ দিয়ে কী ভাবে সাপের বিষকে ওষুধ তৈরির কাজে লাগানো যায়, সে বিষয়ে বিশ্ব জুড়ে বিজ্ঞানীরা নিরন্তর কাজ করে চলেছেন।”

আয়ুর্বেদের সময় থেকে চিকিৎসার কাজে সোনার ব্যবহারও চালু রয়েছে। প্রাচীনকালে বৈদ্যরা সোনার কণা দিয়ে আর্র্থারাইটিসসহ নানা রোগের চিকিৎসা করতেন। তবে সোনাও পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া মুক্ত নয় বলে জানান আয়ুর্বেদ চিকিৎসকেরা। তাদের মতে, সোনা থেকেও কিছু বিরূপ পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হতে পারে। কিন্তু সেই পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া ক্যানসারের মতো মরণ রোগের কাছে নগণ্য বলে তাদের অভিমত।

এ ব্যাপারে ভারতের ক্যানসার চিকিৎসক গৌতম মুখোপাধ্যায় বলেন, “যদি এমন কিছু হয়, তা হলে স্বাগত। কিন্তু চার দফার ট্রায়ালের পরে সাফল্য পেলে তবেই এ নিয়ে আশান্বিত হওয়া যাবে।”

একই কথা জানান দেশটির ক্যানসার চিকিৎসক সুবীর গঙ্গোপাধ্যায়ও। তিনি বলেন, “রোগীর শরীরে এর সুদূরপ্রসারী ফলাফল কী, সেটাও জানতে হবে। এখন গবেষণাগারে প্রমাণিত হয়েছে। কিন্তু মানুষের দেহে প্রয়োগের পরেই নিশ্চিত হওয়া যাবে।”

ক্যানসার চিকিৎসক আশিস মুখোপাধ্যায় বলেন, “সাপের বিষে এমন এক ধরনের যৌগ রয়েছে যা লিউকেমিয়ার জন্য দায়ী জিনকে নিষ্ক্রিয় করে দেয়। আমরাও এর ফল দেখার জন্য আশাবাদী।”

 

সূত্র - নতুন বার্তা

Please Login to comment and favorite this News
Next Health News: ওষুধি উদ্ভিদের অবদান নিয়ে সেমিনার
Previous Health News: হৃদরোগে নির্দেশিকা চান ডাক্তাররা

আরও খবর

রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায় অ্যান্টিবায়োটিক!

সম্প্রতি এক গবেষণায় জানা গেছে, কম বয়সে অ্যান্টিবায়োটিক খেলে পরবর্তী ক্ষেত্রে মানব শরীর বিভিন্ন ধরনের রোগ প্রতিরোধ করতে সক্ষম থাকে৷ কলোম্বিয়ার ব্রিটিশ বিশ্ববিদ্যায়লের এ গবেষণা অনুযায়ী, অন্ত্রে বিভিন্ন ধরনের ব্যাকটেরিয়া বিরাজ করে, যা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা স্বাস্থ্যকর রাখে৷ কিন্তু... আরও দেখুন

ঢাবিতে মানসিক স্বাস্থ্যবিষয়ক আন্তর্জাতিক সম্মেলন উদ্বোধন

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগ ও বাংলাদেশ ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি সোসাইটির যৌথ উদ্যোগে  ‘Mental Health Gap in Bangladesh: Resources and Response’ শীর্ষক চার দিনের চতুর্থ মানসিক স্বাস্থ্যবিষয়ক আন্তর্জাতিক সম্মেলনের উদ্বোধন  হয়েছে। বুধবার ঢাকা... আরও দেখুন

৯টি ভয়ংকর সত্যি, যা আপনাকে ডাক্তাররা জানান না!

অনেক সময় কোনো ওষুধ একটি রোগ সারিয়ে তুললে, সেই ওষুধই অন্য একটি অসুখকে আমন্ত্রণ জানিয়ে রাখে। এমনকি এক্স রে রশ্মিও আমাদের শরীরে ক্যান্সারের মতো মারণ রোগের জন্ম দেয়। ওষুধের প্রভাবে কী কী পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হতে পারে ১. ওষুধে ডায়াবিটিস বাড়তে পারে: সাধারণত ইনসুলিনের অভাবে ডায়াবিটিস হয়।... আরও দেখুন

প্রাকৃতিক ভায়াগ্রা হর্নি গোটউইড

চীনের একটি গাছের নাম হর্নি গোটউইড। এই গাছ থেকেই অদূর ভবিষ্যতে সস্তায় মিলবে ভায়াগ্রার বিকল্প ওষুধ। পুরুষাঙ্গকে দৃঢ়তা প্রদানের জন্য যে যৌগটি দরকার, সেই আইকারিন প্রচুর পরিমাণে রয়েছে হর্নি গোটউইডে। এই উপদানটিকে প্রকৃতিক ভায়াগ্রা হিসেবে শনাক্ত করেছেন ইউনিভার্সিটি অফ মিলানের গবেষক ডা. মারিও ডেল... আরও দেখুন

ব্রেন ক্যানসার থেকে মুক্তি দেবে ‘সোনা’

ব্রেন ক্যানসার চিকিৎসায় এবার ব্যবহৃত হবে সোনা৷ কারণ সোনা নাকি ব্রেন ক্যানসার থেকে মুক্তি  দিতে পারে৷ বিজ্ঞান পত্রিকা ন্যানোস্কেল অনুযায়ী, ব্রেন ক্যানসারের  চিকিৎসার সোনার একটি অতি সুক্ষ টুকরো সাহায্যকারী প্রমাণিত হতে পারে৷ বৈজ্ঞানিকরা একটি সোনার টুকরোকে গোলাকৃতি করে... আরও দেখুন

যৌবন ধরে রাখতে অশ্বগন্ধা

বাতের ব্যথা, অনিদ্রা থেকে বার্ধক্যজনিত সমস্যা। এ সবের নিরাময়ে অশ্বগন্ধার বিকল্প নেই। তেমনটাই তো বলেন বিশেষজ্ঞরা। এমনকি যৌবন ধরে রাখতেও অশ্বগন্ধার উপকারিতা অনস্বীকার্য। ত্বকের সমস্যাতেও দারুণ কাজ দেয় অশ্বগন্ধার ভেষজ গুণ। বিদেশেও এর চাহিদা ব্যাপক। সে কারণেই অশ্বগন্ধা চাষ অত্যন্ত লাভজনক।... আরও দেখুন

healthprior21 (one stop 'Portal Hospital')