‘বাংলাদেশে ওষুধি উদ্ভিদের ভূমিকা ও অবদান’ শীর্ষক দিনব্যাপি সেমিনার শনিবার খাদ্যবিজ্ঞান প্রযুক্তি ইনস্টিটিউট সেমিনার কক্ষে অনুষ্ঠিত হয়।
বাংলাদেশ হারবাল প্রডাক্টাস ম্যনুফ্যাকচারিং অ্যাসোসিয়েশন ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অন্তর্ভুক্ত মেডিসিনাল প্লান্টস অ্যান্ড হারবাল প্রডাক্টস বিজনেস প্রমোশন কাউন্সিলের উদ্যোগে এ সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়।
এতে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ মেডিসিনাল প্লান্টস অ্যান্ড হারবাল প্রডাক্টস বিজনেস প্রমোশন কাউন্সিলের কো-অর্ডিনেটর ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের উপসচিব ড. মোহাম্মদ খায়েরুজ্জামান মজুমদার।
সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের চেয়ারম্যান ড. এ কে আজাদ চৌধুরী বলেন, “মানুষের আয়ু বৃদ্ধি পাওয়ায় জরা-ব্যাধির প্রকোপও বেড়েছে। বৃদ্ধাবস্থায় সংশ্লেষিত রাসায়নিক উপাদানে তৈরি ওষুধ কার্যকর নয়। বরং এসব ওষুধে গুরুতর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। কিন্তু প্রাকৃতিক পরিবেশের ওষুধি উদ্ভিদ এক্ষেত্রে বিশেষ কার্যকর ও নিরাপদ। ক্যান্সারের মতো মরণব্যাধি চিকিৎসায় সর্বাধিক ব্যবহৃত ট্যাকসলের উৎস ইউ-বৃক্ষ। ক্যান্সারের চিকিৎসায় ব্যবহৃত রেডিওথেরাপি ও কেমোথেরাপির সঙ্গে ভেষজ ওষুধ ব্যবহারে বিশেষ উপকার ও স্বস্তি মেলে।”
তিনি বলেন, “বাতজ ব্যাধি, পাকাশয়িক রোগ-ব্যাধি ও ঋতুজ রোগে ভেষজ উদ্ভিদজাত ওষুধ বিশেষ উপযোগী। তিনি আরো জানান, হাজার হাজার বছর অত্র অঞ্চলে ইউনানী-আয়ুর্বেদিক ওষুধ ব্যবহার হয়ে আসছে। কিন্তু বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির আলোকে শাস্ত্রীয় আধুনিক ওষুধ এবং ওষুধে ব্যবহৃত গাছপালার গবেষণা আমাদের দেশে কাঙ্ক্ষিত মাত্রায় পরিচালিত না হওয়ায় দেশে ইউনানী ও আয়ুর্বেদিক চিকিৎসা বিজ্ঞান যেমন অগ্রসর হয়নি, তেমনি বিশ্ব বাজারে আমাদের উপস্থিতি নেই বললেই চলে।”
হেলভেটাস সুইস ইন্টার কো-অপারেশন, বাংলাদেশ-এর ইন্টারন্যাশনাল কনসালটেন্ট জেনেবি বিশাও উরাগুচি বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলের জেলাসমূহে বাসক, শতমূল, অশ্বগন্ধা, তুলসী ও কালোমেঘ চাষাবাদের আনুপার্বিক ক্রমপ্রসারের বিষয়ে উপস্থাপন করেন। তিনি বলেন, “প্রান্তিক হতদরিদ্র ও দরিদ্র চাষিদের সংগঠিত করে পতিত ও অনাবাদী জমিতে চাষাবাদ করায় আর্থিক ও সামাজিক ভাবে চাষিরা বিশেষভাবে উপকৃত হচ্ছে। হেলভেটাস সুইস ইন্টার কো-অপারেশন-বাংলাদেশ, একমি ল্যাবরেটরিজ ও স্কয়ার ফার্মাসিউটিকেলস এর সহযোগিতায় প্রায় ৬০ হাজার কৃষক ওষুধি উদ্ভিদ চাষাবাদে নিয়োজিত।”
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফার্মাসিউটিক্যাল টেকনোলজি বিভাগের চেয়ারম্যান ড. এ.এস.এস. রউফ ইউনানী আয়ুর্বেদিক ওষুধের গুণগত মান উন্নয়নে গবেষণা ও আধুনিক প্রযুক্তি প্রয়োগের ওপর গুরত্ব আরোপ করেন।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং ও বায়োটেকনোলজি বিভাগের চেয়ারম্যান ড. আফতাবউদ্দিন ও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ফার্মেসি বিভাগের অধ্যাপক এম. শাহাবুদ্দীন কবির চৌধুরী বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন।
বাংলাদেশ হারবার প্রডাক্টস ম্যানুফ্যাকচারিং অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক হাসিবুর রহমান স্বাগত বক্তব্যে তার সংগঠনের কার্যক্রমের পাশাপাশি ওষুধি উদ্ভিদ ও ভেষজ ওষুধের উন্নয়নে জীব-বৈচিত্র্য রক্ষা, উন্নত কৃষিচর্চা, উন্নত উৎপাদনচর্চা ও ফেয়ারট্রেডের উপর গুরুত্ব আরোপ করেন।
বাংলাদেশ হারবাল প্রডাক্টস ম্যানুফেকচারিং অ্যাসোসিয়েশনের সিনিয়র সহ-সভাপতি ডা. আলমগীর মতি ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফার্মেসি বিভাগের অধ্যাপক ড. সীতেশ চন্দ্র বাচার, হেলভেটাস সুইস ইন্টার কো-অপারেশনের ভ্যালু চেইন কো-অর্ডিনেটর শামীম হোসেন ও স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেডের আসাদ উল্লাহ প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন।
সূত্র - নতুন বার্তা

