home top banner

News

রাজধানীতে বর্জ্যদূষণে স্বাস্থ্যঝুঁকিতে নগরবাসী
04 July,13
 Posted By:   Healthprior21
  Viewed#:   43

বর্জ্যদূষণে মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকিতে রাজধানীবাসী। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রাণঘাতী আবর্জনার ছড়াছড়িতে টাইফয়েডের মতো পানিবাহিত রোগসহ হেপাটাইটিস বি, হেপাটাইটিস সি, যক্ষ্মা, ডিপথেরিয়া, এমনকি বাড়ছে এইডসের মতো মরণব্যাধির ঝুঁকি।
পরিবেশবাদী সংগঠন বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলনের সেক্রেটারি আবদুল মতিন বুধবার জানান, নগরীর ডাস্টবিনগুলো থেকে সিটি করপোরেশন ৪৫-৫০ শতাংশ বর্জ্য পরিষ্কার করছে। অব্যবস্থাপনার ফলে বাকি বর্জ্য রাস্তায় পড়ে থাকে এবং জুতো-স্যান্ডেলের মাধ্যমে ঘরবাড়ি পর্যন্ত পেঁৗছে যায়। ফলে জানা-অজানা প্রাণঘাতী আবর্জনায় বিভিন্ন ধরনের সংক্রামক রোগে আক্রান্ত হয় রাজধানীর সাধারণ মানুষ।
সিটি করপোরেশন সূত্রে জানা গেছে, রাজধানীতে প্রতিদিন প্রায় সাড়ে চার হাজার মেট্রিক টন আবর্জনা উৎপাদন হয়। এর মধ্যে ৬০ শতাংশ শিল্পবর্জ্য, ৩০ শতাংশ সিটি করপোরেশন ও ওয়াসার বর্জ্য। বাকি ১০ শতাংশ বেসরকারি বর্জ্য। যার ৪০-৪৫% ডাম্পিং করা হয়। আর ২০ ভাগ স্থানীয়ভাবে বেসরকারি উদ্যোগে বিশেষ করে টোকাইদের মাধ্যমে সংগ্রহ করে রিসাইক্লিং হয়।
সরেজমিনে দেখা গেছে, নগরীর এমন কোনো সড়ক, অলিগলি নেই যেখানে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা আবর্জনা দেখা যায় না। সরকারি নির্দেশনা ভঙ্গ করে যথাযথভাবে না ঢেকেই ঢাকা শহরে দিন-দুপুরে চলছে আবর্জনা পরিবহন কার্যক্রম।
সিটি করপোরেশন সূত্রে জানা গেছে, সিটি করপোরেশন যে বর্জ্য সংগ্রহ করে, তার পুরোটাই বুলডোজার, টায়ারডোজার ও প্লেলোডার দিয়ে চাপ দিয়ে মাটির সঙ্গে মিশিয়ে দেয়। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সুষ্ঠু বর্জ্য ব্যবস্থাপনা থাকলে এ বর্জ্যকেই সম্পদে রূপান্তর করা যেত। বর্জ্য থেকেই উৎপাদন করা যেত বিদ্যুৎ, জৈব সারসহ মূল্যবান সম্পদ।
জানা গেছে, নগরীর ময়লা-আবর্জনা ব্যবস্থাপনা থেকে হাসপাতাল-ক্লিনিকের আবর্জনাকে আলাদা করা হয় না। এগুলো ফেলা হয় ডাস্টবিন, রাস্তাঘাটসহ যেখানে-সেখানে। নিক্ষিপ্ত ময়লা-আবর্জনার তালিকায় রয়েছে ব্যবহৃত সুঁচ, সিরিঞ্জ, রক্ত ও পুঁজযুক্ত তুলা, গজ, ব্যান্ডেজ, মানব প্রত্যঙ্গ, ওষুধের শিশি, ব্যবহৃত স্যালাইন, রক্তের ব্যাগ ও রাসায়নিক দ্রব্যসহ সবধরনের চিকিৎসাজাত ময়লা-আবর্জনা।
সিটি করপোরেশন দৈনিক যে পরিমাণ ময়লা-আবর্জনা ডাম্পিং করছে, এর ৫ শতাংশই প্রাণঘাতী। এছাড়াও ঢাকা শহরের সবচেয়ে বেশি দূষণ ঘটাচ্ছে শিল্প-কলকারখানার আবর্জনা। হাজারীবাগসহ ঢাকার নদীগুলোর তীরে রয়েছে সাত হাজারের বেশি শিল্প ইউনিট। শিল্পবর্জ্যরে ৯০ শতাংশই কেমিক্যাল। রাজধানীর আশপাশের এসব শিল্প-কারখানায় নেই বর্জ্য শোধনাগার কেন্দ্র (ইটিপি)। বাসাবাড়ির বিভিন্ন আবর্জনার সঙ্গে মানববর্জ্য (মলমূত্র) ওয়াসার স্টর্ম স্যুয়ারেজ লাইনের মাধ্যমে নদীতে এসে যোগ হচ্ছে, যা বাড়িয়ে দিচ্ছে স্বাস্থ্যঝুঁকি।
সরেজমিন দেখা গেছে, রাজধানীর জুড়াইন, যাত্রাবাড়ী, আজিমপুর, সদরঘাট, শ্যামবাজার, কাপ্তানবাজার, ধোলাইখাল, দয়াগঞ্জ, বাসাবো, ফকিরাপুল, বেইলি রোড, রামপুরা, বাংলামটর, নিউমার্কেট, হাতিরপুল, কারওয়ান বাজার, নাখালপাড়া, মহাখালী, মিরপুর এলাকায় প্রতিদিনই আবর্জনার স্তূপ জমে থাকছে। কোথাও কোথাও পথিমধ্যে ফেলে রাখা কনটেইনার ঘিরে আবর্জনার স্তূপ জমে যায়। বৃষ্টি হলে এ আবর্জনা পানির সঙ্গে মিশে গিয়ে চারদিকে ভয়াবহ দুর্গন্ধ ছড়াতে থাকে।

 

সূত্র - যায়যায়দিন

Please Login to comment and favorite this News
Next Health News: নার্সিং কলেজের শিক্ষার্থীদের অনশন ভঙ্গ
Previous Health News: ওষুধি উদ্ভিদের অবদান নিয়ে সেমিনার

More in News

রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায় অ্যান্টিবায়োটিক!

সম্প্রতি এক গবেষণায় জানা গেছে, কম বয়সে অ্যান্টিবায়োটিক খেলে পরবর্তী ক্ষেত্রে মানব শরীর বিভিন্ন ধরনের রোগ প্রতিরোধ করতে সক্ষম থাকে৷ কলোম্বিয়ার ব্রিটিশ বিশ্ববিদ্যায়লের এ গবেষণা অনুযায়ী, অন্ত্রে বিভিন্ন ধরনের ব্যাকটেরিয়া বিরাজ করে, যা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা স্বাস্থ্যকর রাখে৷ কিন্তু... See details

ঢাবিতে মানসিক স্বাস্থ্যবিষয়ক আন্তর্জাতিক সম্মেলন উদ্বোধন

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগ ও বাংলাদেশ ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি সোসাইটির যৌথ উদ্যোগে  ‘Mental Health Gap in Bangladesh: Resources and Response’ শীর্ষক চার দিনের চতুর্থ মানসিক স্বাস্থ্যবিষয়ক আন্তর্জাতিক সম্মেলনের উদ্বোধন  হয়েছে। বুধবার ঢাকা... See details

৯টি ভয়ংকর সত্যি, যা আপনাকে ডাক্তাররা জানান না!

অনেক সময় কোনো ওষুধ একটি রোগ সারিয়ে তুললে, সেই ওষুধই অন্য একটি অসুখকে আমন্ত্রণ জানিয়ে রাখে। এমনকি এক্স রে রশ্মিও আমাদের শরীরে ক্যান্সারের মতো মারণ রোগের জন্ম দেয়। ওষুধের প্রভাবে কী কী পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হতে পারে ১. ওষুধে ডায়াবিটিস বাড়তে পারে: সাধারণত ইনসুলিনের অভাবে ডায়াবিটিস হয়।... See details

প্রাকৃতিক ভায়াগ্রা হর্নি গোটউইড

চীনের একটি গাছের নাম হর্নি গোটউইড। এই গাছ থেকেই অদূর ভবিষ্যতে সস্তায় মিলবে ভায়াগ্রার বিকল্প ওষুধ। পুরুষাঙ্গকে দৃঢ়তা প্রদানের জন্য যে যৌগটি দরকার, সেই আইকারিন প্রচুর পরিমাণে রয়েছে হর্নি গোটউইডে। এই উপদানটিকে প্রকৃতিক ভায়াগ্রা হিসেবে শনাক্ত করেছেন ইউনিভার্সিটি অফ মিলানের গবেষক ডা. মারিও ডেল... See details

ব্রেন ক্যানসার থেকে মুক্তি দেবে ‘সোনা’

ব্রেন ক্যানসার চিকিৎসায় এবার ব্যবহৃত হবে সোনা৷ কারণ সোনা নাকি ব্রেন ক্যানসার থেকে মুক্তি  দিতে পারে৷ বিজ্ঞান পত্রিকা ন্যানোস্কেল অনুযায়ী, ব্রেন ক্যানসারের  চিকিৎসার সোনার একটি অতি সুক্ষ টুকরো সাহায্যকারী প্রমাণিত হতে পারে৷ বৈজ্ঞানিকরা একটি সোনার টুকরোকে গোলাকৃতি করে... See details

যৌবন ধরে রাখতে অশ্বগন্ধা

বাতের ব্যথা, অনিদ্রা থেকে বার্ধক্যজনিত সমস্যা। এ সবের নিরাময়ে অশ্বগন্ধার বিকল্প নেই। তেমনটাই তো বলেন বিশেষজ্ঞরা। এমনকি যৌবন ধরে রাখতেও অশ্বগন্ধার উপকারিতা অনস্বীকার্য। ত্বকের সমস্যাতেও দারুণ কাজ দেয় অশ্বগন্ধার ভেষজ গুণ। বিদেশেও এর চাহিদা ব্যাপক। সে কারণেই অশ্বগন্ধা চাষ অত্যন্ত লাভজনক।... See details

healthprior21 (one stop 'Portal Hospital')