নগরীর সদরঘাট থানার মাঝিরঘাট এলাকায় একটি গুদামে বিপুল পরিমাণ পঁচা গম এবং মেয়াদোত্তীর্ণ সারের সন্ধান পেয়ে গুদামটি জেলা প্রশাসনের মাধ্যমে সিলগালা করে দিয়েছে পুলিশ। দুর্গন্ধযুক্ত এসব গম মাছের খাবার বলে জানিয়েছেন গুদামে মজুদকারী প্রতিষ্ঠানের মালিক আদনান ইসলাম।
গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বুধবার দুপুর ১টার দিকে নগরীর ১২৩, স্ট্যান্ড রোডের দোভাষ বিল্ডিং সংলগ্ন নিচতলার গুদামটিতে অভিযান শুরু করে সদরঘাট থানার ওসি প্রণব চৌধুরীর নেতৃত্বে একদল পুলিশ।
পঁচা গম এবং মেয়াদোত্তীর্ণ সারের সন্ধান পাবার পর পুলিশের আহ্বানে সেখানে যান জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ফারুক আহমেদ এবং বিএসটিআই’র কর্মকর্তা শাফায়াত হোসাইন। দুপুর সোয়া দু’টার দিকে গুদামটি সিলগালা করে দেন ম্যাজিস্ট্রেট।
পুলিশের জব্দ তালিকা অনুযায়ী গুদামটিতে প্রায় দু’হাজার বস্তাভর্তি প্রায় এক’শ টন পঁচা গম এবং মেয়াদোত্তীর্ণ ৫০ কার্টন বেঙ্গল ম্যাগ নামের ম্যাগনেসিয়াম সালফেট সার পাওয়া গেছে। প্রতি কার্টনে প্রতিটি এক কেজি করে ২৫টি সারের প্যাকেট পাওয়া গেছে। এ হিসেবে সার পাওয়া গেছে প্রায় ৭৫০ কেজি। এছাড়া এক বস্তা চুনাপাথর এবং কমপক্ষে ১৫টি গ্যালভানাইজিং তারের রোলও পাওয়া গেছে।
ওসি প্রণব কুমার চৌধুরী বাংলানিউজকে বলেন, ‘রাতে আমি গোপন সূত্রে জানতে পারি, আদনান নামের এক ব্যবসায়ী গুদামে বেশকিছু পঁচা গম এবং সার মজুদ করেছে। দুর্গন্ধযুক্ত মেয়াদোত্তীর্ণ এসব গম বাজারজাত হয়ে যাতে জনস্বাস্থ্যের হুমকি সৃষ্টি করতে না পারে, সেজন্য আমি গুদাম জেলা প্রশাসনের মাধ্যমে সিলগালা করেছি।’
ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা গেছে, গুদামে রাখা গমগুলো পঁচে, গলে জমাটবদ্ধ হয়ে কয়লার মত হয়ে গেছে। পঁচা গমের দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়েছে পুরো গুদাম এবং আশপাশের এলাকায়।
এছাড়া গুদামে রাখা সার ব্যবহারের সময়সীমা পেরিয়ে গেছে ২০১০ সালের ১ আগস্ট। ঢাকার সাউথ বেঙ্গল ফার্টিলাইজার মিলে উৎপাদিত এসব সারের প্যাকেটের গায়ে ব্যবহারের এ সময়সীমা উল্লেখ আছে।
গুদামের তত্তাবধায়ক মো.জাকির বাংলানিউজকে জানান, গুদামটির মালিক সেলিম খলিফা এবং গুদামে রাখা পণ্যের মালিক আগ্রাবাদ বারিক বিল্ডিং এলাকার জেনারেল এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী আদনান ইসলাম।
আদনান ইসলাম টেলিফোনে বাংলানিউজকে বলেন, ‘আমি গমগুলো তো নরমালি বিক্রির জন্য রাখিনি। সেগুলো মাছের খাদ্য হিসেবে রাজশাহী, বগুড়া, বরিশাল, খুলনা, জিরো পয়েন্ট, নরসিংদী এলাকার বিভিন্ন মাছের খামারে বিক্রির জন্য রাখা হয়েছিল। আমি ওসি সাহেবের কাছে মাছের খাদ্য হিসেবে বিক্রির চালানও পাঠিয়েছিলাম। কিন্তু এরপরও সেগুলো আটক করা হয়েছে।’
জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ফারুক আহমেদ বাংলানিউজকে বলেন, ‘পঁচা গমগুলো মাছেরও খাওয়ার উপযোগী নেই। এসব গম মাছ, মুরগী কিংবা অন্যান্য প্রাণীকে খাওয়ানোর পর সেসব মাছ-মুরগী যদি মানুষ খায়, তাতে তাদের জনস্বাস্থ্যও হুমকির মুখে পড়বে। গম এবং সারগুলো বিষাক্ত হয়ে গেছে।’
গুদামের তত্তাবধায়ক মো.জাকির বাংলানিউজকে জানান, সোমবার দু’ট্রাকে এবং মঙ্গলবার তিনটি ট্রাকে করে গমের বস্তাগুলো গুদামে আনা হয়। সারগুলো আগে থেকেই সেখানে মজুদ ছিল।
পঁচা গম-মেয়াদোত্তীর্ণ সারের মালিক আদনানের চাচাত ভাই সোহেল আহমেদ বাংলানিউজকে জানান, টিকে গ্রুপসহ আরও কয়েকজন আমদানিকারকের কাছ থেকে গমগুলো সংগ্রহ করা হয়েছে।
তবে আদনান ইসলাম দাবি করেছেন, মাছের খাদ্য হিসেবে ব্যবহারের জন্যই নিম্নমানের গমগুলো কেনা হয়েছে।
সোহেল আহমেদ বাংলানিউজকে বলেন, ‘মাছকে যদি ভাল মানের গম খাওয়াতে হয় তাহলে দেশে মাছের কেজি দু’হাজার টাকা হবে।
সদরঘাট থানার ওসি প্রণব কুমার চৌধুরী বাংলানিউজকে বলেন, ‘পঁচা গমগুলো কোন আমদানিকারকের কাছ থেকে সংগ্রহ করা হয়েছে সেটি আমরা তদন্ত করে দেখব।’
এ ঘটনায় বিশেষ ক্ষমতা আইনে মামলা দায়ের করা হবে বলেও ওসি জানান।
সূত্র - বাংলা নিউজ ২৪

