home top banner

খবর

শিক্ষা গ্রহণে রয়েছে নানা প্রতিবন্ধকতা
৩০ জুন, ১৩
 Posted By:   Healthprior21
  Viewed#:   35

‘মুখে মুখেই কবিতা বানাতে পারি। তবে এখনো লিখে রাখি না। বড় হয়ে যখন খুব ভালো কবিতা লিখব, তখন লিখে রাখব।’ আয়েশা বেশ দৃঢ়তার সঙ্গেই বলল কথাগুলো, যেন রীতিমতো এক কবি! আয়েশা পড়ছে দ্বিতীয় শ্রেণীতে। পাশে দাঁড়িয়ে ছিল মোহিনী আক্তার। ও আবৃত্তি করে শোনাল নির্মলেন্দু গুণের কবিতা ‘স্বাধীনতা এই শব্দটি কীভাবে আমাদের হলো’। সহপাঠী কলি, রিমু, সালমা শুনছে কবিতা আবৃত্তি। এই শিশুরা সবাই দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী। পড়ছে জাতীয় প্রতিবন্ধী ফাউন্ডেশনের দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী বিদ্যালয়ে। সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন রাজধানীর মিরপুরে অবস্থিত এই ফাউন্ডেশনে জাতীয় বিশেষ শিক্ষাকেন্দ্র নামে একটি কেন্দ্র পরিচালিত হচ্ছে। এই কেন্দ্রে দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী বিদ্যালয় ছাড়াও রয়েছে শ্রবণপ্রতিবন্ধী, বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী ও অটিস্টিক শিশুদের জন্য বিদ্যালয়। এই চারটি ছাড়া প্রতিবন্ধী শিশুদের জন্য সারা দেশে সরকারিভাবে পরিচালিত হচ্ছে আরও ৫৫টি বিদ্যালয়। কিন্তু এসব বিদ্যালয়ে আসনসংখ্যা সীমিত। তাই চাইলেও অনেক প্রতিবন্ধী শিশু এখানে ভর্তি হতে পারে না।
সমাজের সব প্রতিবন্ধী শিশুর শিক্ষা গ্রহণের ক্ষেত্রে রয়েছে নানা প্রতিবন্ধকতা। নানাভাবে ব্যাহত হচ্ছে তাদের শিক্ষার অধিকার। ২০০৪ সালে সরকার প্রাথমিক শিক্ষা উন্নয়ন কর্মসূচি (পিইডিপি-২) চালু করার আগে সারা দেশে একটি জরিপ চালায়। তাতে দেখা যায়, প্রতিবন্ধী শিশুদের মাত্র ৪ শতাংশ বিদ্যালয়ে পড়ালেখার সুযোগ পেয়েছে। আমাদের সংবিধানের ১৭ অনুচ্ছেদে শিশুদের নির্দিষ্ট স্তর পর্যন্ত অবৈতনিক ও বাধ্যতামূলক শিক্ষা পাওয়ার কথা বলা হয়েছে। একই সঙ্গে ১৯ ও ২৮ অনুচ্ছেদের বিষয়গুলোতে প্রতিবন্ধী শিশুদের সাধারণ বিদ্যালয়ে পড়ানোর রাষ্ট্রীয় দায়দায়িত্বের সুস্পষ্ট উল্লেখ রয়েছে। কিন্তু প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে প্রতিবন্ধী শিশুদের ভর্তি নেওয়ার ব্যাপারে অনীহা দেখা যায়। সেটারও কারণ বাধ্যতামূলক প্রাথমিক শিক্ষা আইন। ১৯৯০ সালে দেশে ৬ থেকে ১০ বছর বয়সী সব শিশুর জন্য বাধ্যতামূলক প্রাথমিক শিক্ষা আইন জারি করা হয়। এই আইনের ধারা-৩-এ বলা হয়েছে, কোনো বিদ্যালয় প্রতিবন্ধী শিশুকে ভর্তি করতে বাধ্য নয়। আর এ কারণেই মূলধারার বিদ্যালয়ে শিক্ষা গ্রহণ থেকে প্রতিবন্ধী শিশুরা বঞ্চিত হচ্ছে। অনেক অভিভাবক চাইলেও সন্তানকে বিদ্যালয়ে ভর্তি করতে পারেন না।
এ রকম একজন অভিভাবক সাজিদা রহমান। তাঁর ছেলে সিয়াম উল করিম একজন অটিস্টিক শিশু। অটিস্টিক শিশুদের অভিভাবকদের সংগঠন প্যারেন্টস ফোরাম ফর ডিফারেন্টলি অ্যাবলড চিলড্রেনের সংগঠক সাজিদা রহমান বলেন, ‘চিকিৎসক পরামর্শ দিয়েছিলেন ছেলেকে মূলধারার স্কুলে ভর্তি করতে। তাকে স্কুলে ভর্তি করাতে আমি সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছি। প্রায় ৩০টি স্কুলে গিয়েছি। কেউই ওকে ভর্তি করেনি। পরে ইউনিসেফের সহায়তায় রেড ব্রিক স্কুলে ভর্তি করাই।’
১৯ জুন মিরপুর ১৪ নম্বরে জাতীয় প্রতিবন্ধী ফাউন্ডেশনে অবস্থিত প্রতিবন্ধী শিশুদের বিদ্যালয়গুলোতে যাই। সেখানে কথা হয় শ্রবণপ্রতিবন্ধী বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সাইদুর রহমানের সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘এই স্কুলে বর্তমানে ১৪০ জন শিক্ষার্থী আছে। ৬ থেকে ১০ বছরের শিশুদের ভর্তি করানো হয়। এখানকার শিক্ষার্থীরা ইশারা ভাষা, বোর্ড, মডেল, তালিকা, শারীরিক ভঙ্গিসহ বিভিন্ন মাধ্যমে শিক্ষা গ্রহণ করে। ২০০৯ সাল থেকে এই স্কুলের শিশুরা প্রাথমিক সমাপনী পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছে। ২০১২ সাল থেকে জেএসসি পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছে এবং আশার কথা হলো, ওরা শতভাগ পাস করেছে।’
সাইদুর রহমান অভিযোগ করে বলেন, ‘এই শিশুরা মূলধারার শিক্ষার্থীদের চেয়ে অনেক পিছিয়ে আছে। এদের পক্ষে মূলধারার সিলেবাস আয়ত্ত করা কঠিন। তাই আমাদের দাবি, ওদের জন্য বিশেষ পাঠ্যক্রমের ব্যবস্থা করা হোক।’
সাইদুর আরও জানান, এখানে শিক্ষার্থীদের জন্য হোস্টেল রয়েছে। তাই দূরদূরান্ত থেকে আসা অভিভাবকেরা চান তাঁদের সন্তানকে হোস্টেলে রেখে পড়ালেখা করাতে। কিন্তু হোস্টেলে আসনসংখ্যা অনেক কম। তাই অনেক শিক্ষার্থীই ঢাকায় আত্মীয়স্বজনের বাসায় থেকে পড়ালেখা করছে। আরও একটি বড় সংকটের জায়গা হচ্ছে, এই বিদ্যালয়ে অষ্টম শ্রেণী পর্যন্ত শিক্ষা গ্রহণ করা যায়। তাই এখান থেকে পড়ালেখা শেষ করে শিক্ষার্থীদের বেশির ভাগই ঝরে পড়ে।
দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী বিদ্যালয়ের শিক্ষক জাহাঙ্গীর আলম জানান, দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীরা পঞ্চম শ্রেণী পর্যন্ত পড়ার সুযোগ পায়। বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বলেন, আগে শিক্ষকের পদ ছিল ১০টি। এখনো তা-ই আছে। অথচ এখন শিক্ষার্থীর সংখ্যা আগের চেয়ে অনেক বেড়েছে।
সরকার সারা দেশে ৬৪ জেলায় ৬৪টি উচ্চবিদ্যালয়ে দৃষ্টিপ্রতিবন্ধীদের জন্য সমন্বিত শিক্ষাব্যবস্থা চালু করেছে। সেই বিদ্যালয়গুলোতে ১০ জন করে দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী শিক্ষার্থী ভর্তি হতে পারে। এসব বিদ্যালয়ের কয়েকটিতে প্রতিবন্ধী শিশুদের থাকার জন্য হোস্টেলও রয়েছে।
তবে এই সমন্বিত শিক্ষাব্যবস্থার একটা ত্রুটি রয়েছে। এখানে ৬৪টি বিদ্যালয়ই বালক বিদ্যালয়। তাই দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী ছাত্রীরা ভর্তি হতে পারে না।
প্রতিবন্ধী শিশুদের সার্বিক শিক্ষাব্যবস্থা নিয়ে কথা হলো জাতীয় প্রতিবন্ধী ফোরামের পরিচালক নাফিসুর রহমানের সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘প্রতিবন্ধী শিশুদের শিক্ষার ব্যাপারে সরকারকে আরও মনোযোগী হতে হবে। প্রাথমিক শিক্ষায় প্রতিবন্ধীদের অংশগ্রহণ এখন পর্যন্ত সীমিত। প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব থাকলেও প্রতিবন্ধীদের শিক্ষাসহ সব বিষয় দেখছে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়। ১৯৯০ সালে সরকার সব শিশুর জন্য বাধ্যতামূলক প্রাথমিক শিক্ষাব্যবস্থা চালু করে। কিন্তু প্রতিবন্ধী শিশুরা মূলধারার বিদ্যালয়গুলোতে ভর্তি হতে পারছে না। এসব বিদ্যালয়ে প্রতিবন্ধীদের জন্য কোনো অবকাঠামো নেই। শিক্ষকদের প্রতিবন্ধী শিশুদের পড়ানোর জন্য কোনো প্রশিক্ষণ নেই। পিটিআইয়ে প্রতিবছর বহু শিক্ষককে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। কিন্তু প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীকে শিক্ষা দেওয়ার ব্যাপারে কার্যকর কোনো প্রশিক্ষণ দেওয়া হয় না।’
নাফিসুর রহমান আরও জানান, তবে অন্য অনেক ক্ষেত্রে পরিবর্তন এসেছে। যেমন নতুন যে বিদ্যালয়গুলো নির্মিত হচ্ছে, সেগুলোতে প্রতিবন্ধী শিশুদের উপযোগী শৌচাগার তৈরি হচ্ছে; তাদের চলাচলের সুবিধার জন্য র‌্যাম্প তৈরি করা হচ্ছে। তবে সেটা সঠিক আয়তনে বানানো হচ্ছে না।
তিনি জানান, প্রতিবন্ধী শিশুদের শিক্ষার অধিকার নিশ্চিত করতে সার্বিকভাবে পুরো কাঠামোতে পরিবর্তন প্রয়োজন। এক্ষেত্রে এগিয়ে আসতে হবে প্রতিবন্ধী শিশুদের পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, সমাজ ও রাষ্ট্রকে। তাদের প্রতি ইতিবাচক মানসিকতা গড়ে তুলতে হবে। তাহলেই এই বিশেষ শিশুরা শিক্ষার অধিকার থেকে বঞ্চিত হবে না বলে তিনি মনে করেন।

 

সূত্র - প্রথম আলো

Please Login to comment and favorite this News
Next Health News: ভিটামিন ক্যাপসুলে স্বাস্থ্য ঝুঁকি
Previous Health News: সব শিশু পাচ্ছে না সেবা

আরও খবর

রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায় অ্যান্টিবায়োটিক!

সম্প্রতি এক গবেষণায় জানা গেছে, কম বয়সে অ্যান্টিবায়োটিক খেলে পরবর্তী ক্ষেত্রে মানব শরীর বিভিন্ন ধরনের রোগ প্রতিরোধ করতে সক্ষম থাকে৷ কলোম্বিয়ার ব্রিটিশ বিশ্ববিদ্যায়লের এ গবেষণা অনুযায়ী, অন্ত্রে বিভিন্ন ধরনের ব্যাকটেরিয়া বিরাজ করে, যা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা স্বাস্থ্যকর রাখে৷ কিন্তু... আরও দেখুন

ঢাবিতে মানসিক স্বাস্থ্যবিষয়ক আন্তর্জাতিক সম্মেলন উদ্বোধন

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগ ও বাংলাদেশ ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি সোসাইটির যৌথ উদ্যোগে  ‘Mental Health Gap in Bangladesh: Resources and Response’ শীর্ষক চার দিনের চতুর্থ মানসিক স্বাস্থ্যবিষয়ক আন্তর্জাতিক সম্মেলনের উদ্বোধন  হয়েছে। বুধবার ঢাকা... আরও দেখুন

৯টি ভয়ংকর সত্যি, যা আপনাকে ডাক্তাররা জানান না!

অনেক সময় কোনো ওষুধ একটি রোগ সারিয়ে তুললে, সেই ওষুধই অন্য একটি অসুখকে আমন্ত্রণ জানিয়ে রাখে। এমনকি এক্স রে রশ্মিও আমাদের শরীরে ক্যান্সারের মতো মারণ রোগের জন্ম দেয়। ওষুধের প্রভাবে কী কী পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হতে পারে ১. ওষুধে ডায়াবিটিস বাড়তে পারে: সাধারণত ইনসুলিনের অভাবে ডায়াবিটিস হয়।... আরও দেখুন

প্রাকৃতিক ভায়াগ্রা হর্নি গোটউইড

চীনের একটি গাছের নাম হর্নি গোটউইড। এই গাছ থেকেই অদূর ভবিষ্যতে সস্তায় মিলবে ভায়াগ্রার বিকল্প ওষুধ। পুরুষাঙ্গকে দৃঢ়তা প্রদানের জন্য যে যৌগটি দরকার, সেই আইকারিন প্রচুর পরিমাণে রয়েছে হর্নি গোটউইডে। এই উপদানটিকে প্রকৃতিক ভায়াগ্রা হিসেবে শনাক্ত করেছেন ইউনিভার্সিটি অফ মিলানের গবেষক ডা. মারিও ডেল... আরও দেখুন

ব্রেন ক্যানসার থেকে মুক্তি দেবে ‘সোনা’

ব্রেন ক্যানসার চিকিৎসায় এবার ব্যবহৃত হবে সোনা৷ কারণ সোনা নাকি ব্রেন ক্যানসার থেকে মুক্তি  দিতে পারে৷ বিজ্ঞান পত্রিকা ন্যানোস্কেল অনুযায়ী, ব্রেন ক্যানসারের  চিকিৎসার সোনার একটি অতি সুক্ষ টুকরো সাহায্যকারী প্রমাণিত হতে পারে৷ বৈজ্ঞানিকরা একটি সোনার টুকরোকে গোলাকৃতি করে... আরও দেখুন

যৌবন ধরে রাখতে অশ্বগন্ধা

বাতের ব্যথা, অনিদ্রা থেকে বার্ধক্যজনিত সমস্যা। এ সবের নিরাময়ে অশ্বগন্ধার বিকল্প নেই। তেমনটাই তো বলেন বিশেষজ্ঞরা। এমনকি যৌবন ধরে রাখতেও অশ্বগন্ধার উপকারিতা অনস্বীকার্য। ত্বকের সমস্যাতেও দারুণ কাজ দেয় অশ্বগন্ধার ভেষজ গুণ। বিদেশেও এর চাহিদা ব্যাপক। সে কারণেই অশ্বগন্ধা চাষ অত্যন্ত লাভজনক।... আরও দেখুন

healthprior21 (one stop 'Portal Hospital')