দেশের চিকিৎসা ব্যবস্থায় আস্থা হারিয়ে জীবন বাঁচাতে প্রতিদিন ভারতের ভেলোরের ক্রিশ্চিয়ান মেডিকেল কলেজ (সিএমসি) হাসপাতালে আসছেন শত শত বাংলাদেশী নাগরিক। হাসপাতালের আশপাশে কান পাতলেই শোনা যায় বাংলা কথা। জটিল রোগাক্রান্ত মানুষ এতে স্বস্তি পেলেও চিকিৎসা নিতে গিয়ে ভাষা ও বিধি-বিধানের বেড়াজালে আটকে নাজেহাল হচ্ছেন অনেকেই। তারপরও বিদেশ বিঁভূইয়ে উন্নত চিকিৎসাও মিলছে, তবে নানা জায়গায় ঠেকেই পাড়ি দিতে হয় এই অধ্যায়।
তামিলনাড়ু রাজ্যের মানুষের দুটি ভাষা- তামিল ও মালায়ালাম। সিএমসি হাসপাতালের চিকিৎসক এবং সহায়তাকরীরাও এই দুই ভাষাতেই দক্ষ, দক্ষতা রয়েছে ইংরেজীতেও। হিন্দিও চলতে পারে। কিন্তু বাংলাদেশ থেকে আসা বিপদাপন্ন মানুষদের অধিকাংশের এসব বিদেশী ভাষায় কোনো দখল নেই । তাই চিকিৎসার শুরুতে পদে পদে বিড়ম্বনা নিয়েই জীবন বাঁচাতে সংগ্রামে ব্যস্ত সেখানকার বাংলাদেশীরা।
ইংরেজি বা হিন্দি না জানা থাকলে অসুখ ও শারীরিক সমস্যা চিকিৎসক-নার্সদের বোঝানো হয়ে উঠে এক কঠিন কর্ম। যোগাযোগের এই সমস্যায় কষ্ট পায় রোগী ও স্বজনরা। তাই রোগীর সঙ্গে আসা মানুষের একজনের অন্তত হিন্দি বা ইংরেজি জানা একান্ত প্রয়োজন। খুবই জটিল মরণাপন্ন রোগী ছাড়া সেখানের ইমার্জেন্সিতে চিকিৎসা মেলে না। বহির্বিভাগে রোগী দেখিয়ে ভর্তির অনুমতি পেলে তবেই শুরু চিকিৎসা।
তবে চিকিৎসকের এপয়েন্টমেন্ট পাওয়া বা ভর্তি হওয়া সোনার হরিণের চেয়ে কম কিছু নয়। তাই ধৈর্য ধরে অপেক্ষা আর এই ভবন থেকে সেই ভবনে ছুটাছুটি। রোগের পরীক্ষা আর ওষুধ কিনতেও দীর্ঘ পদ্ধতি মানতেই হবে। প্রায় ১৭ হাজার ডাক্তার আর সহায়তাকারীর এই প্রতিষ্ঠানে প্রতিদিন চিকিৎসা মেলে প্রায় ৫০ হাজার মানুষের। তাই নিয়মগুলো অনুসরণের বিকল্প নেই। তবে চিকিৎসা পাওয়ার নির্দেশনাগুলো নেই বাংলায়। অথচ হাজার হাজার বাংলাদেশী রোগী সেখানে। বাংলাদেশ দূতাবাসও জানে না সেখানকার বাংলাদেশীদের জীবন-মরণযুদ্ধ।
হাসপাতালে চিকিৎসা নেয়ার পূর্ব শর্ত বিদেশী হিসেবে নিবন্ধন করতে হবে রোগী এবং স্বজনদের নাম। ফরম নিতে হবে এক ভবন থেকে, নিবন্ধন অন্য ভবনে। এরপর রোগের বর্ণনা দিয়ে চিকিৎসকের এপয়েন্টমেন্ট। দীর্ঘ অপেক্ষার প্রহর গুণতে হতে পারে এই প্রথম সাক্ষাতে। জরুরি রোগী জরুরি বিভাগে গিয়ে চেষ্টা করতে পারেন। আরো একটি ব্যবস্থা রয়েছে ডাক্তার দেখানোর সেটি আলফা ক্লিনিক। মূলত কনসালটেশন সেন্টার। একটু খরচ বেশি তবে জরুরি প্রয়োজনে কম সময়ে চিকিৎসা পেতে ব্যবস্থাটি যথেষ্ট ভালো।
হাসপাতালটির নিয়মে রয়েছে রাতের বেলায় রোগীর সঙ্গে একজন এটেনডেন্ট থাকতে পারবেন তবে তাকে নারী হতে হবে। জটিলকোনরোগী নারী এটেনডেন্ট ছাড়া ভেলোরে এসে চরম সমস্যায় পড়তে পারেন।
ভেলোর থাকার জন্য লজ (হোটেল) ভাড়া, পুলিশস্টেশনে ভেরিফিকেশন, মোবাইল ফোনের সংযোগ পাওয়া, ওষুধ সংগ্রহে ভাষার সীমাবদ্ধতা প্রধান প্রতিপক্ষ হয়ে দাঁড়ায়। বাঙালি আর অসমিয়া খাবার হোটেল সাময়িক সমাধান দিলেও দীর্ঘমেয়াদে থাকবার প্রয়োজনে রান্নার সরঞ্জাম যোগাড় করা যায়। আর রান্নার ব্যবস্থাও রয়েছে লজগুলোতে।
সমস্যার পাহাড় পেরিয়ে সান্ত্বনা একটাই চিকিৎসা রয়েছে ভেলোরে, চিকিৎসার নামে প্রতারণা নয়।
সূত্র - natunbarta.com

