স্মার্টফোন ছাড়া বর্তমান জীবন সত্যিই কল্পনা করা যায় না। সত্যি বলতে কী আমরা স্বীকার করি বা নাই করি দিনে দিনে স্মার্টফোনের উপর আমাদের নির্ভরশীলা বাড়ছেই।
চক্ষু রোগ বিশেষজ্ঞ ডা. কালকি মেহতা বলেন, ‘স্মার্টফোনে সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো এটি চোখের খুব কাছাকাছি ধরা হয়। দীর্ঘ সময় এটি চোখে কাছে ধরে থাকার ফলে চোখে ব্যথা, শুষ্কতা এবং মাথা ব্যথার সৃষ্টি হয়।’
আর যদি আপনি এরইমধ্যে কন্ট্রাক্ট লেন্স ব্যবহার করে থাকেন তাহলে তো সমস্যা আরো প্রকট। এর কারণ হলো আপনার চোখ এরইমধ্যে কন্ট্রাক্ট লেন্সে অভ্যস্ত হয়ে পড়েছে।
লেন্সের ক্ষেত্রে স্মার্টফোনের ছোট অক্ষরগুলো তাদের আসল রূপে নয়, বরং একটু লম্বাটে দেখায়। এছাড়া যারা দীর্ঘ সময় ওয়েব ব্যবহার করে বা ক্ষুদে বার্তা আদান-প্রদানে ব্যস্ত থাকেন তাদের চক্ষুরোগ বেশি হয়। যারা গাড়িতে স্মার্টফোন ব্যবহার করেন তাদের ক্ষেত্রেও এই সমস্যা সৃষ্টি হয়।
গবেষণায় দেখা গেছে কিশোর-কিশোরীদের মধ্যে মায়োপিয়া নামক চক্ষুরোগের প্রবণতা সম্প্রতি ভয়াবহ আকারে বাড়ছে। এর মূল কারন স্মার্টফোনের ব্যবহার। বিশ্বব্যাপী পরিচালিত এক জরিপে দেখা গেছে সম্প্রতিক বছরগুলোতে মায়োপিয়ায় আক্রান্ত রোগির সংখ্যা ৩৫ শতাংশ পর্যন্ত বেড়েছে। তবে শুধু স্মার্টফোনই নয় দৈনন্দিন কম্পিউটার ব্যবহারও এর অন্যতম কারণ বলে জানান ডা. মেহতা।
অতিরিক্ত স্মার্টফোন ব্যবহারের ফলে মাথাব্যথা, পড়তে সমস্যা হওয়া, চোখের শুষ্কতা ইত্যাদি সমস্যা দেখা দেয়।
এমনকি অনেকেই ইদানিং স্মার্টফোনে উপন্যাস পড়ে থাকেন। যা মূলত চোখের জন্য ভয়াবহ বিপর্যয় ডেকে আনে বলেই জানালেন চক্ষু বিশেষজ্ঞরা। একদিনে সর্বোচ্চ এক ঘন্টার কিছু কম সময় আপনি স্মার্টফোনে পড়তে পারেন। এছাড়া মোবাইলের নীল আলোর ছটাও ঘুমে ব্যাঘাত ঘটায়।
এছাড়া দীর্ঘ সময় স্মার্টফোন একই অবস্থায় ধরে রাখলে ঘাড় এবং কাঁধেও ব্যথা হতে পারে। এ থেকে একপর্যায়ে মেরুদন্ড ক্ষতিগ্রস্থ হয়।
সূত্র -dhakatimes24.com

