বিষযুক্ত আমে মানবদেহের জন্য মারাত্মক ক্ষতি- অভিমত বিশেষজ্ঞদের
১৭ জুন, ১৩
Posted By: Healthprior21
Viewed#: 101
বাজার সয়লাব হয়ে যাওয়া কেমিক্যালযুক্ত আম না খাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন দেশের বিশেষজ্ঞ চিকিত্সক ও ওষুধ প্রযুক্তিবিদরা। এসব আম মানবদেহের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর উল্লেখ করে তারা বলেছেন, আমে প্রচুর পুষ্টি থাকায় সাধারণত চিকিত্সকরা গর্ভবতী মা, শিশুসহ রোগীদের এটি খাওয়ার পরামর্শ দিয়ে থাকেন। কিন্তু সেই আম যদি হয় বিষাক্ত, তাহলে পুষ্টির পরিবর্তে প্রকারান্তরে রোগীদের বিষ খাওয়ারই পরামর্শ দেয়া হবে। বিশেষজ্ঞ চিকিত্সকরা ইত্তেফাককে জানান, কেমিক্যাল যুক্ত আম খাওয়া আর বিষ খাওয়ার মধ্যে কোন পার্থক্য নেই। দেশে ক্যান্সারসহ কিডনি ও লিভারের নানা মরণব্যাধি দেশে আশংকাজনক হারে বাড়ছে। এর অন্যতম কারণ আমসহ বিভিন্ন বিষাক্ত ফল খাওয়া। এছাড়া বিকলাঙ্গ শিশু জন্ম নেয়ার পেছনেও কেমিক্যালযুক্ত ফলসহ অন্যান্য খাদ্য সামগ্রী দায়ী। তাই বিষাক্ত আম না খেলে পরিবারের সদস্যরা সুস্থ ও স্বাভাবিক থাকবেন বলে তারা দাবি করেছেন।
ফার্মাসিউটিক্যালস সোসাইটির সভাপতি ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ওষুধ প্রযুক্তি বিভাগের অধ্যাপক আবম ফারুক বলেন, বিষাক্ত আম খেলে মরণব্যাধি হওয়ার আশংকা বেশি। সাধারণত শিশুদের হার্ট, কিডনি, বোনম্যারো ও লিভার অপরিপক্ব থাকে। সেই শিশুদের অভিভাবকরা আমের নামে বিষ খাওয়ালে তারা অসুস্থ হতে বাধ্য। এ অবস্থায় আমসহ ফরমালিনযুক্ত ফল না খাওয়ার পরামর্শ দেন তিনি। তিনি আরো বলেন, অতি মুনাফালোভী, ফড়িয়া ও ব্যবসায়ী, আড়তদার ও বাগান মালিকরা আমসহ বিভিন্ন ফলে কেমিক্যাল মেশায়। তারা জেল-জরিমানা ও মোবাইল কোর্টের অভিযানকে তোয়াক্কা করে না। তাই 'টাকা দিয়ে বিষ কিনবো না, কেমিক্যালযুক্ত আম কিংবা ফল খাবো না'- এই শ্লোগান বাস্তবায়নের জন্য তিনি সকলের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।
জানা গেছে, মুকুল থেকে শুরু করে গাছ থেকে পাড়ার আগ পর্যন্ত দফায় দফায় আমে নানা ধরনের কীটনাশক, কেমিক্যাল ও বিষ দেয়া হয়। এরপর নির্ধারিত সময়ের অনেক আগেই অপরিপক্ব থাকা অবস্থায় কেমিক্যাল দিয়ে আম পাকানো হয়। সেই আম পচনরোধে এবং দীর্ঘদিন তাজা রেখে বিক্রির জন্য মেশানো হয় ফরমালিন। এসব কেমিক্যাল জনস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর বলে বিশেষজ্ঞ চিকিত্সকরা বার বার সতর্ক করে দিলেও সাধারণ মানুষ টাকা দিয়ে ফলের নামে 'মরণব্যাধি' কিনছেন।
মহাখালী ক্যান্সার ইনস্টিটিউটের পরিচালক অধ্যাপক ডা. গোলাম মোস্তফা ও অধ্যাপক সৈয়দ আকরাম হোসাইন বলেছেন, এ ধরনের বিষ মেশানো আম না খেলে ক্যান্সারের ঝুঁকি কমবে। তারা এই বিষাক্ত আম বর্জনের জন্য সকল স্তরের জনগণের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। ঢাকা শিশু হাসপাতালের পরিচালক অধ্যাপক ডা. মুনজুর হোসেন বলেন, এ ধরনের বিষাক্ত ফল খেয়ে শিশুদের মরণব্যাধিতে আক্রান্তের হার প্রতিমাসেই বাড়ছে। শিশুদের জীবন রক্ষার্থে টাকা দিয়ে বিষযুক্ত আম না খাওয়ার পরামর্শ দেন তিনি।
বাংলাদেশ কেমিস্ট অ্যান্ড ড্রাগিস্ট সমিতির কর্মকর্তা মনির হোসেন বলেন, 'টাকা দিয়ে বিষযুক্ত আম খাবো না'- এই স্লোগান বাস্তবায়িত হলে আতি মুনাফা লোভী ব্যবসায়িদের টনক নড়বে। তিনি সমিতির সাড়ে তিন লাখ সদস্যকে এই আন্দোলনে শরীক হওয়ার আহ্বান জানান।
এদিকে কাওরান বাজার ও বাদামতলী ফলের আড়তের কয়েকজন মালিক ও কর্মচারি ইত্তেফাকের এই প্রতিনিধিকে বলেন, ১০ টাকার ফরমালিন দিয়ে এক হাজার টাকা লাভ করা যায়। অসময়ে আম পাকাতে ও দীর্ঘদিন রেখে বিক্রির জন্য এটা করা হয়। এসব নিয়ে কাজ করতে গিয়ে কর্মচারিদের হাতে ঘা হচ্ছে ও চামড়া উঠে যাচ্ছে। তারা আরও জানান, এ ধরনের কেমিক্যালের তেজ খুব বেশি। কাঁচা আমে ওই কেমিক্যাল দেয়ার ঘন্টা খানেক পরই আম হলুদ হয়ে যায়। রং দেখে ক্রেতা আম কেনার জন্য উত্সাহিত হয়। সাধারণত কেমিক্যালমুক্ত আম সুন্দর দেখায় না। অপেক্ষাকৃত বোকা ক্রেতারা তাজা ও হলুদ রং দেখে কেমিক্যাল মেশানো আম কিনে থাকেন বলে তারা জানান।
সূত্র - দৈনিক ইত্তেফাক