এডেনয়েডে শিশুদের রোগ। এটা এক ধরনের লিম্ফয়েড টিস্যু, যা নাকের পেছনে গলবিলের উপরি ভাগে থাকে। সাধারণত দুই বছরের নিচের শিশুদের এডেনয়েড শুরু হয়, সাত বছর বয়সে বড় হয় এবং বারো বছর বয়সে সম্পূর্ণ মিলিয়ে যায়। তিন থেকে বারো বছরের মধ্যে যদি উপরের শ্বাসনালির বা এডেনয়েডের ইনফেকশন হয় তাহলে বিভিন্ন উপসর্গ দেখা দেয়।
উপসর্গ : শিশুর এডেনয়েডের জন্য উপসর্গ গুলোকে তিন ভাগে ভাগ করা যায়-
* নাক বন্ধ থাকা, গলবিল এবং মধ্য কর্ণের সংযোগকারী ইউস্টাশিয়ান টিউব বন্ধ থাকা
ইনফেকশন অথবা প্রদাহ থাকা
নাক বন্ধজনিত উপসর্গ
* শিশু মুখ দিয়ে শ্বাস নেয়
* সর্দি পড়তে থাকে
* শিশু মুখ হাঁ করে ঘুমায়
* সাইনোসাইটিস হতে পারে
* নাকের স্বরে কথা বলা
* ঘুমের মধ্যে নাক ডাকা
* ঘুম ভেঙে গেলে জোরে জোরে শ্বাস নেয়া।
* ঘুমের ব্যাঘাত ঘটে
ইউস্টাশিয়ান টিউব বন্ধ থাকার উপসর্গ
* মাঝে মাঝে কানে ব্যথা হয়।
* পর্দার পেছনে মধ্য কর্ণে পানি (ঊভভঁংরড়হ) জমে, যাকে অটাইটিস মিডিয়া উইথ ইফিউশন বলে।
* কানে কম শোনা
* অনেক সময় মধ্যকর্ণে ইনফেকশন হতে পারে
* স্কুলের পড়া লেখায় মনোযোগ কম হয়
* রেডিও-টেলিভিশন উচ্চ শব্দে শোনে
এডেনয়েডের জন্য জটিলতা
*শিশুর খেতে কষ্ট হয়- তাই শিশু এডেনয়েডের জন্য মুখ দিয়ে শ্বাস নেয়।
* খেতে অনেক সময় লাগে।
* পড়া লেখায় অমনোযোগী হয়।
* শারীরিক ও মানসিক বিকাশ ব্যাহত হয়।
* নাকের স্বাভাবিক বৃদ্ধি হয় না বলে নাক ছোট হয়ে যায়।
* নাক ও মুখের মাঝখানের খাঁজ থাকে না।
* মুখ দিয়ে লালা গড়িয়ে পড়ে।
* সামনের দাঁত উঁচু এবং এলোমেলো হয়ে যায়।
এই উপসর্গ গুলো থাকলে মুখমণ্ডল ভাবলেশহীন হয়ে যায় এবং আই কিউ কমে যায়। একে এডেনয়েড ফেসিস বলে। এ ধরনের শিশুর মুখ দেখলেই চেনা যায়।
রোগ নির্ণয় : রোগের ইতিহাস, পরীক্ষা-নিরীক্ষা এবং এক্সরের মাধ্যমে রোগ নির্ণয় করা যায়।
চিকিৎসা : এডেনয়েড যদি অল্প পরিমাণে বড় হয় তাহলে ওষুধের মাধ্যমে চিকিৎসা করা যায়।কিন্তু বেশি বড় হয়ে গেলে এবং শ্বাসনালিকে বাধাগ্রস্ত করলে এবং কোনো উপসর্গ দেখা দিলে অপারেশন করা ভালো।
সূত্র - যুগান্তর.কম

