home top banner

স্বাস্থ্য টিপ

মনের বাড়ি…
০৬ অক্টোবর, ১৩
Tagged In:  human mind  
  Viewed#:   245

মনে পড়ে, মনে লাগে, মনে আছে। কিংবা মনে কোনো দ্বিধা রেখে চলে যাবার প্রশ্নটা আপনি করতেই পারেন! নয়ন ভরা জল হলেও নয়ন দিয়ে তো দিব্যি দেখেন। কান দু’টি সর্বক্ষণ পাহারায় রেখে কানও পেতে থাকেন। কিন্তু এত যে হৃদয়ের কথা বলি সেটা কোথায় থাকে!

মন, হৃদয় বা অন্তর কোনো কিছুই তো খালি চোখে দেখি না! তবে কি মন বলে কিছুই নেই? কোথায় তার বাড়ি? এ মন কোন গাঁয়ের ছেলে বা মেয়ে! 

কারো তির্যক মন্তব্য যেমন মনে বড্ড ব্যাথা দেয়। আবার তীক্ষ্ণ বস্তুর খোঁচায় ‘আউ’ শব্দ করে বোঝাই শরীরের কোনো অংশে ব্যাথা পেলাম। ভয় পাবো জেনেও ভয়ের ছবি দেখে ভয় পেয়ে আনন্দ পাই। আর কারো পা পিছলে ধরণিপাতের দৃশ্য দেখে কেউ হন আনন্দিত, কেউবা ব্যথিত। কিন্তু কি ভাবে আমাদের মাঝে এ বিচিত্র  সব অনুভবের বা বোধের বিষয়টা সম্পন্ন হয়? হ্যাঁ ঠিকই ধরেছেন, মন মহাশয় নীরবে নাটাই ঘোরাচ্ছেন। 

আমাদের ত্বকে, চোখে, কানে, নাকে এমন কি  জিহ্বায় ‘রিসেপ্টর (স্নায়ুপ্রান্ত)’ থাকে। বলতে পারেন অভ্যর্থনাকারী। সে অভ্যর্থনাকারী শব্দ, দৃশ্য, আলো, স্পর্শ, কম্পন, তাপমাত্রা, স্বাদ, ঘ্রাণ ইত্যাদির সংকেত স্বভাবসুলভ ভঙ্গিতে স্নায়ুর পথ বেয়ে মগজের নানা অঞ্চলে পাঠায়। আর মগজে প্রেরিত সংকেত নানা অনুভূতির সৃষ্টি করে।

মগজে রিওয়ার্ড এবং পানিশমেন্ট সেন্টারের  উদ্দীপনা কিংবা নীরবতার কারণে প্রেরিত অনুভূতির সঙ্গে যুক্ত হয় ইতিবাচক বা নেতিবাচক ভাবনা। 

ধরুন, কাঁচা লঙ্কার স্বাদ। কাঁচা লঙ্কা মুখে পুরেই আগুন ঝাল! লঙ্কার ঝাল কারো মাঝে সুখানুভূতি আর কারো মাঝে নেতিবাচক অনুভূতি জাগায়। আর এ পুরো ঘটনার বারংবার পুনরাবৃত্তি মগজের ভাঁজে ভাঁজে স্মৃতি তৈরি করে। পরবর্তীতে ঐ  লঙ্কা মহাশয়কে  দেখে বা তার কথা ভেবে কেউ হন পুলকিত কেউবা বিরক্ত।

মাঝে মধ্যে স্মৃতি বেচারা স্বপ্নে দু’একবার লঙ্কার ছবি মনে করিয়ে দিরেও দিতে পারে। কিন্তু এখানেও মন কোথায়? এতো এক ধরনের অনুভূতির ব্যাখ্যা। হ্যাঁ এ ধরনের ছোট ছোট অনুভূতির মিশ্রনেই  তৈরি হয় স্মৃতি বা অভিজ্ঞতা। আর স্মৃতির হাত ধরে মনের থাকা না থাকা। 

মোটকথা প্রাত্যহিক নানা ঘটনা অভিজ্ঞতা বা বিষয় আমাদের কাছে সুখানুভূতি বা নেতিবাচক অনুভূতি জাগায়। সে হতে পারে কোনো ব্যক্তি, বস্তু, স্থান, কাল যে কোনো কিছু। পরবর্তীতে জীবন চলার পথে বারবার সে অভিজ্ঞতার আলোকে এক ধরনের বিশ্বাস বা বোধ জন্মায়। ব্যক্তির মাঝে ওই বিষয়ে এক প্রকার দৃষ্টিভঙ্গি তৈরি হয়। মন্দ-ভালো, ন্যায়-অন্যায় ইত্যাদি। আর এ বিষয়গুলোর ওপরই মনের সার্বিক অবস্থা নির্ভর করে।

তাই  সাদামাটা ভাবে ‘মন কি’ এ প্রশ্নের উত্তর হলো- মগজের নানা অঞ্চলের স্নায়ুকোষের মাঝে এক অপূর্ব ছন্দময় কথোপোকথনের সারমর্ম। আরো সহজভাবে বললে, শ্বাস নেওয়ার  অঙ্গ যদি হয় ফুসফুস তবে মনের অঙ্গ মগজ বা মস্তিষ্ক।

আর মানুষের আচরণ সৃষ্ট দর্পণে আমরা মনের অস্তিত্বই দেখতে পাই।  কেউ নিশ্চুপ কিংবা ফুঁপিয়ে ফুঁপিয়ে কাঁদছেন এর মানে তার মন ভালো নেই। কষ্টে আছেন তিনি।

আবার প্রেমিক বা প্রেমিকার কাছে মনের বা হৃদয়ের আকুতি প্রকাশের জন্য গানে গানে কেউ কেউ হৃদয় চিরে  দেখানোর  ইচ্ছে প্রকাশ করেন। হৃদয় বা মন কি তবে বুকের মাঝখানে থাকে? কিন্তু বুকের পাঁজর সরিয়ে যা দেখা যায় তার নাম কি মন,সে তো ‘হৃদপিন্ড’!

তবে কি হৃদপিন্ড আর হৃদয় এক নয়! না হৃদপিন্ড আমাদের সারা গায়ে রক্ত ছড়িয়ে দিয়েই চুপ! চার প্রকোষ্ঠের সে ঘরে  নেই কোনো আক্ষেপ, উষ্মা, রাগ কিংবা ভালোবাসা! আপনার আকুতি বুঝতে সে একেবারেই অক্ষম। তার মাঝে শুধুই গতিময় রক্ত রস আর কণিকা।

হৃদয়হীনার কাছে হৃদয়ের দাম থাকা না থাকার বিষয়টি তাই পুরোপুরি হৃদয়হীনার মস্তিষ্কপ্রসূত বিষয়।  হৃদ মাঝারে রাখা মানে মগজে রাখা।

মনের সন্ধান পেতে চান? তবে মগজ খুঁড়ুন!


সূত্র -বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম

Please Login to comment and favorite this Health Tip
Next Health Tips: সেক্স সম্বন্ধীয় ১৩ টি অজানা তথ্য
Previous Health Tips: পেটে গ্যাস হয় কেন?

আরও স্বাস্থ্য টিপ

গাইনি ডাক্তারের কাছে যে বিষয়গুলো কখনোই লুকাবেন না

মেয়েলী যে কোনো সমস্যা হলেই গাইনি ডাক্তারের শরণাপন্ন হতে হয়। আর গাইনি ডাক্তারের শরনাপন্ন হতে অনেক নারীই কিছুটা দ্বিধাবোধ করেন। বিশেষ করে ডাক্তার যদি পুরুষ হয়ে থাকেন তাহলে অধিকাংশ সমস্যার কথাই জানাতে পারেন না নারীরা। গাইনি ডাক্তারের কাছে কিছু বিষয় লজ্জায় এড়িয়ে যান বেশিরভাগ রোগী। কিন্তু অত্যন্ত... আরও দেখুন

ত্বকের ক্লান্তি ভাব লুকাবেন যেভাবে

বেসরকারি ফার্মে চাকরি করেন অর্ষা। প্রায়ই বাসায় ফেরার পর তাকে রাত জেগে অফিসের কাজ করতে হয়। রাত জেগে কাজ করার ফলে ভালো ঘুম হয় না। তাই পরদিন সকালে অফিসে যাওয়ার পর খুবই ক্লান্তি লাগে তার। মাঝেমধ্যে এ বিষয় নিয়ে তিনি দুশ্চিন্তায় পড়ে যান। ঠিকমতো ঘুমের অভাবে চোখের নিচেও কালি পড়েছে। প্রায়ই অফিসের... আরও দেখুন

পেয়ারার স্বাস্থ্য উপকারিতা

ছোট থেকে বড় সকলের কাছেই পেয়ারা খুবই প্রিয় একটি ফল৷ পেয়ারায় বিভিন্ন স্বাস্থ্য উপকারিতা রয়েছে, আর এই কারণেই এটি ‘সুপার ফ্রুট’ নামে পরিচিত৷ আপনিও জেনে নিন এই ‘সুপার ফ্রুট’এর গুণাগুণ৷ •    শরীরের অতিরিক্ত শর্করা শুষে নিতে পারে পেয়ারা৷ এছাড়াও এতে... আরও দেখুন

গ্যাস্ট্রিক বা এসিডিটির সমস্যা ও সহজ সমাধান

গ্যাস্ট্রিক বা এসিডিটির সমস্যা আমাদের দেশে খুবই স্বাভাবিক ব্যপার। অনেককে বছরের প্রায় সময়ই ভূগতে হয় এ সমস্যায়। আধুনিক চিকিৎসা বিজ্ঞানে এর প্রতিকার হিসাবে পাওয়া যায় অনেক নামি দামি ওষুধ। কিন্তু আমাদের হাতের কাছের বিভিন্ন প্রকৃতিক জিনিস দিয়ে যদি করা যায় এর নিরাময়, তাহলে বাড়তি টাকা খরচ করার কি... আরও দেখুন

ওজন কমাতে রাতের বিশেষ খাবার ‘দই-ফল’

ওজনটা নিয়ে অনেকেই বেশ বিপাকে আছেন। ওজন যত সহজে বাড়ে তত সহজে কমে না। কঠিন ডায়েট চার্ট, দীর্ঘ সময় ব্যায়াম করে ঘাম ঝরানোর কাজটাও খুবই কঠিন। তাই ওজন কমানোর ইচ্ছে থাকলেও কমানো হয়ে ওঠে না। যারা চট জলদি ওজন কমাতে চান একেবারে কষ্ট ছাড়াই তারা রাতের খাবারের মেন্যুটা একটু বদলে ফেলুন। রাতের খাবারে অন্য সব... আরও দেখুন

ডিম খাওয়ার লাভ-লোকসান!

ট্রেন কিংবা বাস স্টেশনে, লঞ্চঘাটে, স্টেডিয়ামে, হাট-বাজারে এখনো শোনা যায় ফেরিওয়ালার ডাক—‘এই ডিম ডিম ডিম...সেদ্ধ ডিম...মুরগির ডিম...হাঁসের ডিম।’ আর তা হবেইবা না কেন? সহজলভ্য পুষ্টির উত্স হিসেবে ডিমের তুলনা কেবল ডিমই হতে পারে। তাই বাড়িতে বা রেস্তোরাঁয় সকাল-বিকেলের নাশতাতেই হোক... আরও দেখুন

healthprior21 (one stop 'Portal Hospital')