home top banner

স্বাস্থ্য টিপ

জীবনের জন্য রক্ত পরিশোধন পদ্ধতি ‘ডায়ালিসিস’
২৮ সেপ্টেম্বর, ১৩
Tagged In:  dialysis method  
  Viewed#:   143

কিডনির কাজ হলো শরীরের বিষাক্ত পদার্থ মূত্রের মাধ্যমে বের করে দেয়া৷ এছাড়া শরীরে পানি ও লবণের ভারসাম্য রক্ষা করে কিডনি৷ আর এই অঙ্গটি অচল হয় পড়লে ডায়ালিসিস ছাড়া জীবন রক্ষার আর কোনো উপায় থাকে না৷

৪০ বছর ধরে ভিলি কোলার ডায়ালিসিসে আবদ্ধ৷ সপ্তাহে তিনদিন তাকে ডায়ালিসিস নিতে হয়। প্রতিবার আট ঘণ্টা৷ তার কিডনি যে কাজটি করতে পারে না, সেটির ভার নেয় মেশিন৷ পরিশোধন করে রক্ত৷

প্রেরণা জাগায় ডায়ালিসিস 
১৫ বছর বয়সে ডাক্তার জানান যে তার কিডনির মাত্র ছয় মাস কাজ করতে পারবে৷ এটা রীতিমত একটা ‘শক' ছিল, বলেন ভিলি কোলার৷ প্রথম দিকে হাল ছেড়ে দিয়েছিলেন তিনি৷ নিজের ঘরে মন খারাপ করে বসে থাকতেন৷ কিন্তু কিছুদিন পর উঠে দাঁড়ান৷ ‘‘জীবন তো এগিয়ে যাবে৷ ডায়ালিসিস তো মৃত্যর পরোয়ানা নয়৷ বরং উল্টোটাই৷ আমি খুব শিগগরই বুঝতে পারি, এই মেশিনই আমার জীবন রক্ষা করবে৷ যা আসলে ইতিবাচক'', বলেন ভিলি কোলার৷

রক্ত শুধু পুষ্টিকর পদার্থই নয় বিষাক্ত পদার্থও পরিবহণ করে৷ কিডনি এই বিষাক্ত পদার্থ ফিল্টার করে এবং তা প্রস্রাব হয়ে শরীর থেকে বের হয়ে যায়৷

যাদের কিডনি ঠিক মতো কাজ করে না, যেমন ভিলি কোলারের মতো মানুষদের বেলায় সেই কাজটি করে থাকে ডায়ালিসিস মেশিন৷ রোগীর শরীর থেকে রক্ত একটি নলের মাধ্যমে ডায়ালিসিস মেশিনে আনা হয়৷ সেখানে বিষাক্ত পদার্থ আলাদা করা হয়, যা মূত্র আকারে বের হয়ে যায়৷ অন্যদিকে পরিশোধিত রক্ত আবার শরীরে ঢোকানো হয়৷ এইভাবে সপ্তাহে তিনবার রক্তশোধন করা হয়৷

কিডনি রোগীর সংখ্যা কম নয়
জার্মানিতে প্রায় ৮০০০০ ডায়ালিসিস রোগী রয়েছেন৷ ৮৫ থেকে ৯০ শতাংশ রোগী ডায়ালিসিস কেন্দ্রে গিয়ে রক্তশোধন করান৷ অল্পসংখ্যক রোগী বাড়িতেই এই কাজটা সারেন৷

ভিলি কোলারও কিছুদিন বাড়িতে ডায়ালিসিস করেছেন৷ কিন্তু তার মতে এতে সুবিধার চেয়ে অসুবিধাই বেশি৷ তার ভাষায়, ‘‘বাড়িতে ডায়ালিসিস করলে সবকিছুই নিজের করতে হয়৷ শিরায় সুঁই ফোটাতে হয়৷ এই কাজটা আবার নিজে করা যায় না, প্রয়োজন হয় অন্যের সাহায্য৷ তাই স্বামী বা স্ত্রীর ওপর চাপ পড়ে৷''

কোলারের কাছে এটা অস্বস্তিকর মনে হয়েছে৷ তিনি স্ত্রীকে চাপ দিতে চাননি৷ তাই ডায়ালিসিস কেন্দ্রে গিয়েই কাজটা করাচ্ছেন৷ ‘‘আমাকে ডায়ালিসিস করাতেই হবে৷ নয়ত মারা যাব'', বলেন কোলার৷

শান্ট' পদ্ধতি 
ডায়ালিসিস করার সময় একটি সুঁই শিরার ভেতর দিয়ে ঢুকিয়ে দেয়া হয়৷ লক্ষ্য রাখা হয় যতটা সম্ভব বেশি রক্ত দ্রুত শরীর থেকে বের করে নেয়া যায়৷ সেজন্য রক্ত বের করার পথটি বড় হতে হবে৷ এক্ষেত্রে তথাকথিত একটি শান্ট ব্যবহার করা হয়৷ বাহুতে একটি ছোট অপারেশন করে শিরা ও ধমনিকে সংযুক্ত করা হয়৷

শান্ট পদ্ধতি ৬০-এর দশকের প্রথম দিকে শুরু হয়েছে, বলেন ক্রেফেল্ড-এর কিডনি সেন্টারের প্রফেসর ডিটার বাখ৷ তার ভাষায়, ‘‘এই পদ্ধতিতে একটি বড়, চওড়া, লম্বা শিরা পাওয়া যায়, যার মাধ্যমে ভালোভাবে রক্ত প্রবাহিত হতে পারে৷'' 

সুত্র - natunbarta.com

Please Login to comment and favorite this Health Tip
Next Health Tips: জিংকের ছোঁয়ায় দেহের সৌন্দর্য
Previous Health Tips: জেনে রাখা ভালো

আরও স্বাস্থ্য টিপ

গাইনি ডাক্তারের কাছে যে বিষয়গুলো কখনোই লুকাবেন না

মেয়েলী যে কোনো সমস্যা হলেই গাইনি ডাক্তারের শরণাপন্ন হতে হয়। আর গাইনি ডাক্তারের শরনাপন্ন হতে অনেক নারীই কিছুটা দ্বিধাবোধ করেন। বিশেষ করে ডাক্তার যদি পুরুষ হয়ে থাকেন তাহলে অধিকাংশ সমস্যার কথাই জানাতে পারেন না নারীরা। গাইনি ডাক্তারের কাছে কিছু বিষয় লজ্জায় এড়িয়ে যান বেশিরভাগ রোগী। কিন্তু অত্যন্ত... আরও দেখুন

ত্বকের ক্লান্তি ভাব লুকাবেন যেভাবে

বেসরকারি ফার্মে চাকরি করেন অর্ষা। প্রায়ই বাসায় ফেরার পর তাকে রাত জেগে অফিসের কাজ করতে হয়। রাত জেগে কাজ করার ফলে ভালো ঘুম হয় না। তাই পরদিন সকালে অফিসে যাওয়ার পর খুবই ক্লান্তি লাগে তার। মাঝেমধ্যে এ বিষয় নিয়ে তিনি দুশ্চিন্তায় পড়ে যান। ঠিকমতো ঘুমের অভাবে চোখের নিচেও কালি পড়েছে। প্রায়ই অফিসের... আরও দেখুন

পেয়ারার স্বাস্থ্য উপকারিতা

ছোট থেকে বড় সকলের কাছেই পেয়ারা খুবই প্রিয় একটি ফল৷ পেয়ারায় বিভিন্ন স্বাস্থ্য উপকারিতা রয়েছে, আর এই কারণেই এটি ‘সুপার ফ্রুট’ নামে পরিচিত৷ আপনিও জেনে নিন এই ‘সুপার ফ্রুট’এর গুণাগুণ৷ •    শরীরের অতিরিক্ত শর্করা শুষে নিতে পারে পেয়ারা৷ এছাড়াও এতে... আরও দেখুন

গ্যাস্ট্রিক বা এসিডিটির সমস্যা ও সহজ সমাধান

গ্যাস্ট্রিক বা এসিডিটির সমস্যা আমাদের দেশে খুবই স্বাভাবিক ব্যপার। অনেককে বছরের প্রায় সময়ই ভূগতে হয় এ সমস্যায়। আধুনিক চিকিৎসা বিজ্ঞানে এর প্রতিকার হিসাবে পাওয়া যায় অনেক নামি দামি ওষুধ। কিন্তু আমাদের হাতের কাছের বিভিন্ন প্রকৃতিক জিনিস দিয়ে যদি করা যায় এর নিরাময়, তাহলে বাড়তি টাকা খরচ করার কি... আরও দেখুন

ওজন কমাতে রাতের বিশেষ খাবার ‘দই-ফল’

ওজনটা নিয়ে অনেকেই বেশ বিপাকে আছেন। ওজন যত সহজে বাড়ে তত সহজে কমে না। কঠিন ডায়েট চার্ট, দীর্ঘ সময় ব্যায়াম করে ঘাম ঝরানোর কাজটাও খুবই কঠিন। তাই ওজন কমানোর ইচ্ছে থাকলেও কমানো হয়ে ওঠে না। যারা চট জলদি ওজন কমাতে চান একেবারে কষ্ট ছাড়াই তারা রাতের খাবারের মেন্যুটা একটু বদলে ফেলুন। রাতের খাবারে অন্য সব... আরও দেখুন

ডিম খাওয়ার লাভ-লোকসান!

ট্রেন কিংবা বাস স্টেশনে, লঞ্চঘাটে, স্টেডিয়ামে, হাট-বাজারে এখনো শোনা যায় ফেরিওয়ালার ডাক—‘এই ডিম ডিম ডিম...সেদ্ধ ডিম...মুরগির ডিম...হাঁসের ডিম।’ আর তা হবেইবা না কেন? সহজলভ্য পুষ্টির উত্স হিসেবে ডিমের তুলনা কেবল ডিমই হতে পারে। তাই বাড়িতে বা রেস্তোরাঁয় সকাল-বিকেলের নাশতাতেই হোক... আরও দেখুন

healthprior21 (one stop 'Portal Hospital')