home top banner

Health Tip

শরীরে লবণ কম-বেশি হলে
18 September,13
  Viewed#:   307

পরমাণু বিজ্ঞানী ও মেডিকেল ফিজিসিস্ট
ইলেকট্রোলাইটস বা তড়িৎবিশিষ্ট হচ্ছে শরীরের মধ্যস্থ কতগুলো খনিজ পদার্থ, যেগুলো মাংসপেশি, স্নায়ু এবং হৃৎপিণ্ড পরিচালনাসহ দেহের বিভিন্ন জটিল প্রক্রিয়া সঠিকভাবে পরিচালনা করে। এই ইলেকট্রোলাইটসগুলো তরল পদার্থের সামঞ্জস্য বজায় রাখে। চার্জযুক্ত খনিজ পদার্থের এই কণাগুলো বিদ্যুৎ পরিবহনে সহায়তার মাধ্যমে শরীরের বিভিন্ন বিক্রিয়া ঘটাতে সাহায্য করে। ক্যালসিয়াম, ম্যাগনেশিয়াম, ফসফেট, পটাশিয়াম, সোডিয়াম ইত্যাদি বিভিন্ন রূপে কণাগুলো রক্ত, রক্তরস, কোষকলা, মূত্র এবং দেহের অন্যান্য তরল পদার্থের মধ্যে বিদ্যমান থাকে।
তরল পদার্থ শরীরে কতটুকু শোষিত হবে বা নিঃসৃত হবে তা নিয়ন্ত্রিত হয় কিডনির সাহায্যে। মল, মূত্র ও ঘামের মাধ্যমে শরীর থেকে তরল পদার্থ বের হয়ে যায়। শরীর সুস্থ রাখার জন্য নির্দিষ্ট মাত্রায় ইলেকট্রোলাইটস তথা তরল পদার্থের প্রয়োজন আছে। আমাদের শরীরে কম বা বেশি ইলেকট্রোলাইটস থাকলে বিভিন্ন রকম সমস্যা দেখা দিতে পারে, এমনকি তা কখনও কখনও জীবনের জন্য হুমকিও।
কারণ
তরল পদার্থের পরিমাণের সামান্য তারতম্য ঘটতে থাকলে শরীরে তেমন কোনো সমস্যা দেখা দেয় না। কোনো কারণে শরীর অতিরিক্ত মাত্রায় পানিশূন্য হয়ে পড়লে বা কখনও কখনও বিভিন্ন ধরনের ইলেকট্রোলাইটিকের মাত্রা বেড়ে গেলে ভারসাম্যহীনতা থেকে বিভিন্ন ধরনের সমস্যা দেখা দেয়। সাধারণত সোডিয়াম, পটাশিয়াম বা ক্যালসিয়ামজনিত ভারসাম্যহীনতা হতে দেখা যায়। তবে ‘হাইপোন্যাট্রেমিয়া’ ধরনের ইলেকট্রোলাইটিক ভারসাম্যহীনতাই বেশি হতে দেখা যায়, যা সোডিয়ামের স্বল্পতা থেকে ঘটে থাকে। সাধারণভাবে কলেরা, ডায়রিয়া বা অতিরিক্ত মাত্রায় বমি হওয়াকে এ ধরনের অসুস্থতার প্রধান কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। তবে উত্তপ্ত আবহাওয়া বা অত্যধিক কায়িক পরিশ্রম, শরীরচর্চা বা রোদের মধ্যে দীর্ঘ সময় খেলাধুলা করার কারণে শরীর অত্যধিক ঘেমে গেলেও শরীরে ইলেকট্রোলাইটসের মাত্রা কমে যেতে পারে। ডায়াবেটিস, কিডনির অসুস্থতা থেকে বেশি বা কম মাত্রায় মূত্র নির্গমণের ফলে, খাদ্যে লবণের মাত্রা প্রয়োজনের তুলনায় অধিক বা কম হলে, অ্যাডরিনাল গ্রন্থি থেকে হরমোন নিঃসরণের মাত্রা হ্রা পেলে, বেশি মাত্রায় অগ্নিদগ্ধ হলে, বিভিন্ন ধরনের ওষুধ, অ্যান্টিবায়োটিক, কেমোথেরাপিক ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া থেকে এ ধরনের অসুস্থতার কারণ হতে পারে। ক্ষুধামন্দা (অ্যানোরেক্সিয়া), ক্ষুধা বিকৃতি (বুলিমিয়া) দ্বারা আক্রান্ত ব্যক্তিদের মধ্যেও এ রোগের প্রবণতা বেশি থাকে। উঠতি বয়সী ছেলেমেয়ে, মহিলা এবং বৃদ্ধ ব্যক্তিরা এ রোগে আক্রান্ত হতে পারে।
সোডিয়ামের আধিক্যকে ‘হাইপারন্যাট্রেমিয়া’ বলে। সোডিয়ামের মাত্রাধিক্যের ফলে রোগী অলসতা ও দুর্বলতা অনুভব করতে থাকে। অতিরিক্ত মাত্রা বৃদ্ধির ফলে অবসাদগ্রস্ততা, অচেতন (কোমা) হয়ে যাওয়া, মনস্তাত্বিক বিশৃংখলা থেকে শুরু করে কোনো কোনো ক্ষেত্রে মৃত্যুর আশংকাও দেখা দেয়।
বেশি মাত্রায় মদ বা মাদক সেবনের ফলে দেহস্থ মাংসপেশি ভেঙে গিয়ে রক্তে পটাশিয়ামের মাত্রা বৃদ্ধি পেতে পারে। পটাশিয়ামের মাত্রার বৃদ্ধিকে ‘হাইপারক্যালেমিয়া’ এবং স্বল্পতাকে ‘হাইপোক্যালেমিয়া’ বলা হয়। দীর্ঘদিন ধরে শরীরে পটাশিয়ামের মাত্রা কম থাকলে শরীরে ইনসুলিন কম উৎপাদিত হয় এবং রক্তে শর্করার পরিমাণ বৃদ্ধি পায়, মাংসপেশিতে দুর্বলতা বা খিঁচুনি, মতিভ্রম ইত্যাদি সমস্যা দেখা দিতে পারে। পটাশিয়ামের মাত্রা বেশি কমে গেলে প্যারালাইসিস দেখা দেয়া ছাড়াও হৃদযন্ত্রের সমস্যা থেকে মৃত্যু হতে পারে। পটাশিয়ামের উচ্চমাত্রার কারণেও হৃদযন্ত্রের সমস্যা থেকে মৃত্যু ঘটার আশংকা থাকে।
ক্যালসিয়ামের মাত্রা কমে গেলে অস্থি সন্ধিগুলোতে অসাড়তা দেখা দেয়, হাড়গুলো ভঙ্গুর হয়ে ওঠে এবং শরীর দুর্বল লাগে। অতিরিক্ত মাত্রার ক্যালসিয়াম স্বল্পতা থেকে মতিভ্রম এবং খিঁচুনি দেখা দেয় এবং উচ্চমাত্রার ক্যালসিয়াম থেকে ক্ষুধামন্দা, বমিভাব, পানিশূন্যতা এবং দুর্বলতা দেখা দিতে পারে। দীর্ঘ সময় ধরে ক্যালসিয়ামের মাত্রা বেশি থাকলে রোগী ‘কোমা’য় চলে যেতে পারে এবং মৃত্যুর আশংকা থাকে।
রোগ-নির্ণয়
রক্ত এবং মূত্র পরীক্ষার মাধ্যমে শরীরে ইলেকট্রোলাইটিক ভারসাম্যহীনতা নির্ণয় করা হয়। কিডনিতে কোনো ধরনের সমস্যা আছে কিনা তা নির্ণয়ের জন্য এক্স-রে বা আলট্রাসনোগ্রাফি করা হতে পারে।
চিকিৎসা
চিকিৎসা প্রদানের ক্ষেত্রে অসুস্থতার সঠিক কারণ চিহ্নিত করা এবং সে অনুযায়ী চিকিৎসা প্রদান জরুরি। স্বল্পমাত্রার ইলেকট্রোলাইটের ঘাটতি দেখা দিলে বিভিন্ন ইলেকট্রোলাইট সমৃদ্ধ খাদ্য গ্রহণের পরিমাণ বাড়িয়ে আর আধিক্য দেখা দিলে কমিয়ে ভারসাম্য ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করা হয়। শাক-সবজি ও ফলমূল সমৃদ্ধ সুষম খাদ্য ইলেকট্রোলাইটিক ভারসাম্য বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। পানীয় বা খাদ্যের বিকল্প হিসেবে ব্যবহৃত বিভিন্ন ধরনের পথ্যও ব্যবহার করা যায়।
জটিল ক্ষেত্রে শিরার মাধ্যমে ‘স্যালাইন’ বা অন্য কোনো ধরনের ইলেকট্রোলাইট সমৃদ্ধ তরল প্রয়োগ করা হয়। কখনও কখনও ওষুধ প্রয়োগের মাধ্যমে মূত্রের পরিমাণ কমিয়ে বা বৃদ্ধি করেও ভারসাম্য ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করা হয়।
টমেটো এবং কলা ইলেকট্রোলাইটিক ভারসাম্য দ্রুত ফিরিয়ে আনতে সাহায্য করে। আপেল, তরমুজ, আনারসও কার্যকর। মিষ্টি আলু, কলা, কমলা, পটাশিয়ামের, পাতাসমৃদ্ধ সবুজ শাক-সবজি ম্যাগনেশিয়ামের এবং দুধ, দই ও কম চর্বিযুক্ত পনির ক্যালসিয়ামের উৎকৃষ্ট উৎস।
প্রতিরোধ
ব্যায়ামের পর পানি গ্রহণ করার আগে শরীর ঠাণ্ডা করে আনা হলে তা শরীরে পানি ধরে রেখে ইলেকট্রোলাইটিক ভারসাম্য বজায় রাখতে সাহায্য করে। ম্যাগনেশিয়াম সালফেট মিশ্রিত ঈষদুষ্ণ পানিতে গোসল করলে তা ত্বকের মাধ্যম্যে সরাসরি শরীরে প্রবেশ করে। উচ্চমাত্রার শরীরচর্চার ক্ষেত্রে বিশেষ করে খেলোয়াড়দের প্রতি ১৫-২০ মিনিট পরপর পটাশিয়াম ও সোডিয়াম মিশ্রিত পানীয় পান করা উচিত। ডায়রিয়া বা বেশি মাত্রায় বমি হলেও ইলেকট্রোলাইট সমৃদ্ধ পানীয় পান করা জরুরি। তবে মাত্রাতিরিক্ত পানীয় পান করার ফলে শরীরে পানির পরিমাণ বৃদ্ধি পেয়ে পানির আধিক্যজনিত সমস্যা না দেখা দেয় সে ব্যাপারেও লক্ষ রাখতে হবে।

উত্স: যুগান্তর

 

Please Login to comment and favorite this Health Tip
Next Health Tips: অনেক দানার বেদানা
Previous Health Tips: 10 Mysterious Pains you shouldn’t Ignore Part - 5

More in Health Tip

গাইনি ডাক্তারের কাছে যে বিষয়গুলো কখনোই লুকাবেন না

মেয়েলী যে কোনো সমস্যা হলেই গাইনি ডাক্তারের শরণাপন্ন হতে হয়। আর গাইনি ডাক্তারের শরনাপন্ন হতে অনেক নারীই কিছুটা দ্বিধাবোধ করেন। বিশেষ করে ডাক্তার যদি পুরুষ হয়ে থাকেন তাহলে অধিকাংশ সমস্যার কথাই জানাতে পারেন না নারীরা। গাইনি ডাক্তারের কাছে কিছু বিষয় লজ্জায় এড়িয়ে যান বেশিরভাগ রোগী। কিন্তু অত্যন্ত... See details

ত্বকের ক্লান্তি ভাব লুকাবেন যেভাবে

বেসরকারি ফার্মে চাকরি করেন অর্ষা। প্রায়ই বাসায় ফেরার পর তাকে রাত জেগে অফিসের কাজ করতে হয়। রাত জেগে কাজ করার ফলে ভালো ঘুম হয় না। তাই পরদিন সকালে অফিসে যাওয়ার পর খুবই ক্লান্তি লাগে তার। মাঝেমধ্যে এ বিষয় নিয়ে তিনি দুশ্চিন্তায় পড়ে যান। ঠিকমতো ঘুমের অভাবে চোখের নিচেও কালি পড়েছে। প্রায়ই অফিসের... See details

পেয়ারার স্বাস্থ্য উপকারিতা

ছোট থেকে বড় সকলের কাছেই পেয়ারা খুবই প্রিয় একটি ফল৷ পেয়ারায় বিভিন্ন স্বাস্থ্য উপকারিতা রয়েছে, আর এই কারণেই এটি ‘সুপার ফ্রুট’ নামে পরিচিত৷ আপনিও জেনে নিন এই ‘সুপার ফ্রুট’এর গুণাগুণ৷ •    শরীরের অতিরিক্ত শর্করা শুষে নিতে পারে পেয়ারা৷ এছাড়াও এতে... See details

গ্যাস্ট্রিক বা এসিডিটির সমস্যা ও সহজ সমাধান

গ্যাস্ট্রিক বা এসিডিটির সমস্যা আমাদের দেশে খুবই স্বাভাবিক ব্যপার। অনেককে বছরের প্রায় সময়ই ভূগতে হয় এ সমস্যায়। আধুনিক চিকিৎসা বিজ্ঞানে এর প্রতিকার হিসাবে পাওয়া যায় অনেক নামি দামি ওষুধ। কিন্তু আমাদের হাতের কাছের বিভিন্ন প্রকৃতিক জিনিস দিয়ে যদি করা যায় এর নিরাময়, তাহলে বাড়তি টাকা খরচ করার কি... See details

ওজন কমাতে রাতের বিশেষ খাবার ‘দই-ফল’

ওজনটা নিয়ে অনেকেই বেশ বিপাকে আছেন। ওজন যত সহজে বাড়ে তত সহজে কমে না। কঠিন ডায়েট চার্ট, দীর্ঘ সময় ব্যায়াম করে ঘাম ঝরানোর কাজটাও খুবই কঠিন। তাই ওজন কমানোর ইচ্ছে থাকলেও কমানো হয়ে ওঠে না। যারা চট জলদি ওজন কমাতে চান একেবারে কষ্ট ছাড়াই তারা রাতের খাবারের মেন্যুটা একটু বদলে ফেলুন। রাতের খাবারে অন্য সব... See details

ডিম খাওয়ার লাভ-লোকসান!

ট্রেন কিংবা বাস স্টেশনে, লঞ্চঘাটে, স্টেডিয়ামে, হাট-বাজারে এখনো শোনা যায় ফেরিওয়ালার ডাক—‘এই ডিম ডিম ডিম...সেদ্ধ ডিম...মুরগির ডিম...হাঁসের ডিম।’ আর তা হবেইবা না কেন? সহজলভ্য পুষ্টির উত্স হিসেবে ডিমের তুলনা কেবল ডিমই হতে পারে। তাই বাড়িতে বা রেস্তোরাঁয় সকাল-বিকেলের নাশতাতেই হোক... See details

healthprior21 (one stop 'Portal Hospital')