home top banner

স্বাস্থ্য টিপ

মিছে রাগ করো না
২৯ অগাস্ট, ১৩
  Viewed#:   362

রাগ আর অনুরাগের মধ্যে কোথাও কি একটা সম্পর্ক রয়েছে? নাকি দুটো নেহাতই শব্দের পিঠে শব্দ গাঁথা? কবি শক্তি চট্টোপাধ্যায় লিখেছিলেন, 'ভালোবাসা পেলে সব লণ্ডভণ্ড করে চলে যাবো'।ভালবাসার জন্য প্রতীক্ষাতেই কবির এই রাগ পুষে রাখা, তা একবার পেয়ে গেলে রাগ ফুরিয়ে যাওয়ার কথাই বলেছিলেন তিনি।জেন-ওয়াইও অনেকটা এভাবেই মনে মনে লালন করছে রাগ।


ভালোবাসা না-পাওয়ার থেকে রাগ। অন্যজনের কাছ থেকে স্বীকৃতি না-পাওয়ার রাগ।কোনও কিছুর চাপে কোণঠাসা হতে হতে রাগ। সেই রাগ চট করে ঝেড়ে ফেলা যাচ্ছে না বলেই জেন-ওয়াইয়ের মধ্যে বাড়ছে অস্থিরতা। সেই কথাই বলছিল এক বেসরকারি কলেজের ছাত্রী ইচ্ছে শিপ্রা। 'মাঝে মাঝেই বিচ্ছিরি রকমের রাগ হয় আমার নিজের ওপর।এই রাগটা মাঝেমধ্যেই মেঘে ঢাকা সূর্যর মতন ফুটে বেরিয়ে আসে। তখন ইচ্ছে করে ছুঁড়ে ফেলে দিতে সব কিছু, সব। বাড়ি, নীল সেলফোন, প্রিয় হাতের কাজের সরঞ্জাম, ছোটবেলার খেলনার রূপকথা ভরা বাক্স, প্রেমিকের আঘাত ভরা ভালোবাসা, এমনকি বাবা মায়ের অকারণ স্নেহ- সবকিছু। বুকের মধ্যে কেবল বারে বারে গুমরে গুমরে ওঠে সকল চেপে থাকা কষ্ট, অভিযোগ, অভিমান। কিছুই যেন ঠিক হল না বলে মনে হয়। মনে হয়, কেউ আমায় বুঝতে পারছে না', বেশ মুখ ভার করেই কথাগুলো এক নিঃশ্বাসে বলে গেল মেয়ে।

মনোবিদরা মনে করেন, রাগের মধ্যে বেশির ভাগ সময়েই লুকিয়ে থাকে একটা ভালোবাসা না-পাওয়ার জায়গা। এই প্রসঙ্গে আসার আগে তিনি খেই ধরিয়ে দিলেন, রাগ আসলে কী! 'প্রত্যেক মানুষই জীবনের কোনো না কোনো সময় অন্যের ওপর রাগ করেছেন অথবা অন্যের রাগের শিকার হয়েছেন। রাগ কিন্তু রোগ নয়। নয় কোনো মানসিক সমস্যাও। বরং প্রকৃত সুস্থ মানুষের সম্পূর্ণ স্বাভাবিক একটি আবেগ বাইমোশন। সুস্থ মনের অত্যন্ত স্বাভাবিক উপাদান রাগ। কোনো কারণে সামান্য বিরক্তি থেকে শুরু করে প্রবল উত্তেজনা পর্যন্ত রাগ চাড়িয়ে যেতে পারে। আর এই সামান্য বিরক্তির পিছনেই দীর্ঘকালীন অথবা স্বল্পকালীন কারণ হিসেবে কাজ করে যায় ভালোবাসা না-পাওয়া অথবা যথেষ্ট অ্যাটেনশন না-পাওয়ার সমস্যা। মুশকিলটা হল, বিশ্বায়ণের দৌড়ে এখন কেউই কি আর নিজেকে ছেড়ে অন্যের কথা ভাবে? ফলে সম্পর্কে ভালোবাসা কমছে, কমছে সহমর্মিতা, তার থেকেই মেঘের মতো মনের আকাশে জমা হচ্ছে দারুণ রাগ। সব সময় সেটাকে চেপে রাখা যাচ্ছে না বলেই হঠাৎ হঠাৎ তা বেরিয়ে আসছে। অস্থির হয়ে পড়ছে জেন-ওয়াই', জানাচ্ছেন মনোবিদ।

সদ্য কলেজ পাশ করে কর্পোরেট জগতে চাকরি করতে ঢোকা শিহাবও যেমন কথায় কথায় রাগ হয়। সে কথা বলছিলেন ওর মা, “আত্মীয়স্বজন যদিও বলেন  শিহাব নাকি খুব নম্র শান্ত ছেলে; হঠাৎ হঠাৎ রাগের তোড় একমাত্র আমিই টের পাই। পছন্দের শার্টটা নিখুঁতভাবে ইস্ত্রি করতে চেয়েও সকাল থেকে বার বার তাল কাটছে। তাতেও রাগ! এক কথা বার বার মা কেন বলছে তাতেও রেগে ওঠে ! অফিসের অ্যাসাইনমেন্ট ফুলফিল হয়নি সময় মতো, মাথা একেবারে আগুন! এ সবের সঙ্গেই যতটা সম্ভব মানিয়েচলি আমরা। এখন ছেলে রেগে গেলে আর তর্কাতর্কি করি না। রাগটা কমলে তখন আবার কথা বলি!”

শিপ্রা বা শিহাবের মতো এই শহরে, অনেকেরই এমন রাগ আছে। অকারণে বা কারণে রেগে যাওয়ায় কেউ কেউ ক্ষতি করেন জিনিস পত্রের, কেউ বা নিজের।
নিজের বা প্রিয় মানুষের ওপর রাগ যখন সীমা ছাড়িয়ে যায়, চাপ বাড়ে মনে, সাফার করে যার জন্য অনেক কিছু। কষ্ট পান চারপাশের মানুষরাও। 'কথায় কথায় রাগ হলে থেরাপির মতো করে সেটাকে কমানোর চেষ্টা করা উচিত। রাগের ফলে বেশ কিছু শারীরবৃত্তীয় পরিবর্তন দেখা যায়, হৃৎপিণ্ডের গতি ও রক্তচাপ বেড়ে যায়।অবদমিত রাগ থেকে হতে পারে নানাবিধ মানসিক ও শারীরিক সমস্যা। বাড়তে পারে বিষণ্ণতা, উচ্চ রক্তচাপ, খিটখিটে মেজাজে বদলে যেতে পারে হাসিখুশি স্বভাব।মনে বাসা বাঁধতে পারে গভীর ডিপ্রেশন', সতর্ক করে দিচ্ছেন মনোবিদরা।পাশাপাশি, তারা জানিয়ে দিচ্ছেন রাগ কমানোর কিছু সহজ উপায়।

রাগের লাগাম হিসেবে যুক্তির বিকল্প নেই। কারো ওপর বা কোনো ঘটনার ওপর রাগ করলে সবার প্রথমে ঠান্ডা মাথায় ভেবে দেখুন ঘটনাটি কেন ঘটেছে। আপনার রাগ করার যথার্থ কারণ থাকলেও নানা যুক্তির প্রয়োগে আপনি সেই কারণটিকে এক পাশে সরিয়ে রাখতে পারেন। রাগের কোনো বিষয়কে কেবল নিজের দিক থেকে না দেখে অপর পক্ষের দিক থেকেও দেখার চেষ্টা করুন। তাতে সহজে মাথা ঠান্ডা হয়ে যাবে। বেশিরাগের ঘটনা ঘটলে প্রয়োজনে ঘটনাস্থল থেকে কিছু সময়ের জন্য দূরে চলে যান।নিজেকে একটুক্ষণের জন্য একা করে ফেলুন। তাহলেই একসময়ে প্রিয় মানুষদের জন্যমন কাঁদবে, রাগও পড়ে আসবে। রাগের কারণ ঘটলে নিজেকে যতটা সম্ভব রিল্যাক্স করে ফেলুন। বড় করে শ্বাস নিন। মনে মনে নিজের প্রতি ‘ঠিক আছে’ ‘শান্ত হও’ জাতীয় কিছু বারবার উচ্চারণ করতে পারেন। ভাল কোনও সুন্দর দৃশ্য, আপনার প্রিয়জনের মুখ মনে করতে পারেন। রাগ যাতে চট করে না-হয়, তার জন্য মেডিটেশনের বিকল্প নেই। প্রত্যেক দিন আধ ঘণ্টা থেকে এক ঘণ্টা মতো মেডিটেট করলেই মন-মেজাজ অনেকটা শান্ত থাকবে।

প্রতিদিনের কর্মব্যস্ততার মধ্যে কিছু না কিছু সময় নিজেকে দিন। নিজেকে নিয়ে প্রতিদিন অন্তত ১০ মিনিট ভাবুন। আর এর কোনোটাতেই যদি কাজ না-হয়? তাহলে বড় বিপদ! তখন 'পলকের পরে থাকে বুক ভ'রে চিরজনমের বেদনা'! সাধে কি আর কবি বলেছেন, বঁধু, মিছে রাগ করো না'! অগত্যা রাগ নিয়ন্ত্রণ কৌশল আয়ত্ত করার জন্য মনোচিকিৎসক, মনোবিজ্ঞানী বা কাউন্সিলরের সাহায্য নেয়া ছাড়া আর উপায় কী!

সূত্র: সংবাদসংস্থা।

 
সূত্র - natunbarta.com
 

Please Login to comment and favorite this Health Tip
Next Health Tips: জেনে রাখুন বাত সম্পর্কিত কিছু তথ্য
Previous Health Tips: টুপ করে আবর্জনা পড়ল গায়ে

আরও স্বাস্থ্য টিপ

গাইনি ডাক্তারের কাছে যে বিষয়গুলো কখনোই লুকাবেন না

মেয়েলী যে কোনো সমস্যা হলেই গাইনি ডাক্তারের শরণাপন্ন হতে হয়। আর গাইনি ডাক্তারের শরনাপন্ন হতে অনেক নারীই কিছুটা দ্বিধাবোধ করেন। বিশেষ করে ডাক্তার যদি পুরুষ হয়ে থাকেন তাহলে অধিকাংশ সমস্যার কথাই জানাতে পারেন না নারীরা। গাইনি ডাক্তারের কাছে কিছু বিষয় লজ্জায় এড়িয়ে যান বেশিরভাগ রোগী। কিন্তু অত্যন্ত... আরও দেখুন

ত্বকের ক্লান্তি ভাব লুকাবেন যেভাবে

বেসরকারি ফার্মে চাকরি করেন অর্ষা। প্রায়ই বাসায় ফেরার পর তাকে রাত জেগে অফিসের কাজ করতে হয়। রাত জেগে কাজ করার ফলে ভালো ঘুম হয় না। তাই পরদিন সকালে অফিসে যাওয়ার পর খুবই ক্লান্তি লাগে তার। মাঝেমধ্যে এ বিষয় নিয়ে তিনি দুশ্চিন্তায় পড়ে যান। ঠিকমতো ঘুমের অভাবে চোখের নিচেও কালি পড়েছে। প্রায়ই অফিসের... আরও দেখুন

পেয়ারার স্বাস্থ্য উপকারিতা

ছোট থেকে বড় সকলের কাছেই পেয়ারা খুবই প্রিয় একটি ফল৷ পেয়ারায় বিভিন্ন স্বাস্থ্য উপকারিতা রয়েছে, আর এই কারণেই এটি ‘সুপার ফ্রুট’ নামে পরিচিত৷ আপনিও জেনে নিন এই ‘সুপার ফ্রুট’এর গুণাগুণ৷ •    শরীরের অতিরিক্ত শর্করা শুষে নিতে পারে পেয়ারা৷ এছাড়াও এতে... আরও দেখুন

গ্যাস্ট্রিক বা এসিডিটির সমস্যা ও সহজ সমাধান

গ্যাস্ট্রিক বা এসিডিটির সমস্যা আমাদের দেশে খুবই স্বাভাবিক ব্যপার। অনেককে বছরের প্রায় সময়ই ভূগতে হয় এ সমস্যায়। আধুনিক চিকিৎসা বিজ্ঞানে এর প্রতিকার হিসাবে পাওয়া যায় অনেক নামি দামি ওষুধ। কিন্তু আমাদের হাতের কাছের বিভিন্ন প্রকৃতিক জিনিস দিয়ে যদি করা যায় এর নিরাময়, তাহলে বাড়তি টাকা খরচ করার কি... আরও দেখুন

ওজন কমাতে রাতের বিশেষ খাবার ‘দই-ফল’

ওজনটা নিয়ে অনেকেই বেশ বিপাকে আছেন। ওজন যত সহজে বাড়ে তত সহজে কমে না। কঠিন ডায়েট চার্ট, দীর্ঘ সময় ব্যায়াম করে ঘাম ঝরানোর কাজটাও খুবই কঠিন। তাই ওজন কমানোর ইচ্ছে থাকলেও কমানো হয়ে ওঠে না। যারা চট জলদি ওজন কমাতে চান একেবারে কষ্ট ছাড়াই তারা রাতের খাবারের মেন্যুটা একটু বদলে ফেলুন। রাতের খাবারে অন্য সব... আরও দেখুন

ডিম খাওয়ার লাভ-লোকসান!

ট্রেন কিংবা বাস স্টেশনে, লঞ্চঘাটে, স্টেডিয়ামে, হাট-বাজারে এখনো শোনা যায় ফেরিওয়ালার ডাক—‘এই ডিম ডিম ডিম...সেদ্ধ ডিম...মুরগির ডিম...হাঁসের ডিম।’ আর তা হবেইবা না কেন? সহজলভ্য পুষ্টির উত্স হিসেবে ডিমের তুলনা কেবল ডিমই হতে পারে। তাই বাড়িতে বা রেস্তোরাঁয় সকাল-বিকেলের নাশতাতেই হোক... আরও দেখুন

healthprior21 (one stop 'Portal Hospital')