‘কয়েক সপ্তাহ আগের কথা। বাসায় ফিরছি আর হঠাৎ করেই নামল ঝুম বৃষ্টি। কাকভেজা হয়ে দৌড়ে আশ্রয় নিলাম পাশের সুউচ্চ অ্যাপার্টমেন্ট হাউজিংয়ের গেটের সামনে। বলা নেই কওয়া নেই, বজ্রপাতের মতো হঠাৎ দেখলাম ওপর থেকে পলিথিন ভর্তি আবর্জনা সোজা রাস্তার মাঝখানে পড়ল। সঙ্গে সঙ্গেই ওপরে তাকিয়ে দেখি কেউ নেই। ফ্ল্যাটের কোন তলা থেকে কে অবিবেচকের মতো ময়লা ফেলল, তা জানতেই পারলাম না।’ এভাবেই উঁচু বিল্ডিংয়ের ফ্ল্যাট থেকে নিচে ময়লা ফেলা নিয়ে অভিযোগ করলেন মিরপুরের আহমদনগর এলাকার বাসিন্দা মঞ্জুর মোর্শেদ। উঁচু উঁচু দালানের ফ্ল্যাট-অ্যাপার্টমেন্টে ঘেরা এই নগরে ফ্ল্যাট-বাসা থেকে ময়লা ফেলা ধীরে ধীরে সামাজিক সমস্যা হিসেবে দেখা যাচ্ছে।
বাসা বাড়ি থেকে আশপাশে যততত্র ময়লা ফেললে বাড়ির আশপাশের দৃষ্টিনন্দন পরিবেশ নষ্ট হয়। পাশাপাশি অন্যান্য প্রতিবেশীর জন্য তা বিরাট সমস্যা হয়ে দেখা দেয়।ধানমন্ডি ১৩ নম্বর রোডের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ১৫ তলা ফ্ল্যাট কমপ্লেক্সের মালিক সমিতির সভাপতি জানান, জানালা দিয়ে ফ্ল্যাটের আশপাশে যত্রতত্র ময়লা ফেলা এখন অনেক ফ্ল্যাট বাসিন্দার নিয়মিত অভ্যাসে পরিণত হয়েছে। এতে ফ্ল্যাটের চারপাশের পরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। দেখা যায়, ময়লা ভবনের নিরাপত্তা বেষ্টনীর আশ পাশে ও জানালার কার্নিশে জমা পড়ে। কাঁটাতারে ঘেরা এসব বেষ্টনী নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা শ্রমসাধ্য ব্যাপার। এসব জায়গার ময়লা বছরের একটা নির্দিষ্ট সময়ে পরিষ্কার করতে হয় বলে সারা বছর ধরে সেই ময়লা-আবর্জনা পচে দুর্গন্ধ ছড়ায়।
বাসাবাড়ি থেকে বাইরে ময়লা ফেললে সেটা রাস্তা ঘাটে এলোমেলো ভাবে ছড়িয়ে পড়ে। এমনিতেই ঢাকা শহরের রাস্তাগুলো প্রশস্তে কম, ফুটপাতে চলাচলের জায়গাটুকুতে অবৈধ দখলদার ভিড় করে, সেখানে ফ্ল্যাট-বাসা থেকে ময়লা ফেললে রাস্তা ব্যবহারকারীদের জন্য তা সমস্যা সৃষ্টি করে। ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রধান পরিচ্ছন্নতা ব্যবস্থাপকবিপিন কুমার সাহা বলেন, ‘সিটি করপোরেশনের পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা কর্মীদের জন্য বাড়ির আশপাশ, আনাচকানাচের উন্মুক্ত ময়লা পরিষ্কার করা বেশ কষ্টসাধ্য। অবশ্যই আমরা চেষ্টা করব। তবে এ বিষয়ে ভবনের বাসিন্দাদের ও ফ্ল্যাট মালিক সমিতিকে বেশি সচেতন ও উদ্যোগী হতে হবে।’
এসব ময়লা-আবর্জনা শুধু পরিবেশই নষ্ট করে তা নয়, এর থেকে রোগবালাই হওয়ার আশঙ্কাও থাকে। বাসাবাড়ি থেকে রাস্তাঘাট বা বাড়ির আনাচকানাচে ফেলা ময়লা জনস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক হুমকির কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে। এই ধরনের ময়লা-আবর্জনা থেকে বায়ুবাহিত নানা রোগ, যেমন শ্বাসতন্ত্রের সংক্রমণ, সর্দি, কাশি, ইনফ্লুয়েঞ্জা দেখা দিতে পারে। এ ছাড়া উন্মুক্ত ময়লা থেকে পানিবাহিত নানা রোগেরও ঝুঁকি রয়েছে। জানা গেল বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিসিন অনুষদের ডিন এ বি এম আবদুল্লাহর কাছ থেকে।
খেয়াল রাখুন l প্রায় সব ফ্ল্যাট বা অ্যাপার্টমেন্ট কমপ্লেক্সের নিজস্ব ময়লা-আবর্জনা সংগ্রহের সেবা রয়েছে; তার মাধ্যমে বাসার ময়লা ফেলুন। l আপনার পরিবারের শিশুরা যেন জানালা দিয়ে ময়লা ফেলা থেকে বিরত থাকে, সেদিকে খেয়াল রাখুন। l অ্যাপার্টমেন্ট কমপ্লেক্সের মালিক সমিতি বা সিটি করপোরেশনের পরিচ্ছন্নতা কর্মীদের সহায়তায় জানালার কার্নিশের ময়লা পরিষ্কার করুন। l সাধারণ ময়লা পরিবহনের জন্য নির্দিষ্ট ডাস্টবিন বা বালতি নিয়মিত পরিষ্কার রাখুন। l মেডিকেল কিংবা রাসায়নিক ময়লা-আবর্জনা কখনোই জানালা দিয়ে উন্মুক্ত জায়গায় ফেলবেন না।
সূত্র - প্রথম আলো

