home top banner

স্বাস্থ্য টিপ

রমজানের বৈচিত্র্যময় ইফতার কি স্বাস্থ্য ঝুঁকি?
০৭ অগাস্ট, ১৩
  Viewed#:   115

সাম্প্রতিক বছর গুলোতে রমজানে ইফতারের খাবারের ধরণে যোগ হয়েছে নতুন মাত্রা।

সারাদিন রোজা রাখার পর ইফতারির আয়োজনে থাকছে নানা পদের খাবার, যা মুখরোচক হলেও তার পরিমাণ ও স্বাস্থ্যগুণ নিয়ে পুষ্টিবিজ্ঞানীরা উদ্বিগ্ন। পুষ্টিবিজ্ঞানীরা বলছেন সম্প্রতি ইফতার ও সেহরিতে যেসব খাবার খাওয়া হচ্ছে তার পরিমাণ ও গুণগত মান স্বাস্থ্যের জন্য বেশ ক্ষতিকর । দোকানগুলোতে ইফতার ও সেহরি উপলক্ষে বিক্রি হচ্ছে হরেক রকমের খাবার।

ঢাকার সদরঘাট থেকে বসির আহমেদ রোজকার-মতো ইফতার কিনতে এসেছেন। পরিবারের সদস্য সংখ্যা মোট ৮ জন- তাই ইফতারের আয়োজন একটু বেশি। বসির বলছেন,  প্রতিবছরের মতো তিনি ইফতারে ঐতিহ্যবাহী খাবারগুলো কেনার চেষ্টা করেন। তিনি বলছিলেন, চিকেন রোস্ট, গরুর মাংসের কাবাব তিনি কিনেছেন আর এখন ফ্রাইড চিকেন কেনার চেষ্টা করছেন। এই সব খাবার কিনছেন তিনি ইফতারে খাওয়ার জন্য।

চকবাজারের ইফতার
ঢাকার ইফতারের সবচেয়ে বড় বাজারটা বসে পুরান ঢাকার চকবাজারে। রাস্তার দুপাশে সারি সারি খাবারের দোকান। দুপুরের পরেই ভিড় বাড়তে থাকে। ঢাকার বিভিন্ন এলাকা থেকে এখানে মানুষজন আসেন ইফতার কিনতে।

সেখানে ফলের দোকান দু-একটি থাকলেও সবচেয়ে বেশি চোখে পড়ে মূলত মাংস দিয়ে তৈরি বিভিন্ন রকমের খাবারের দোকান। মুরগির রোস্ট, সুতি কাবাব, খাশির রেজালা, কোয়েল পাখির রোস্ট, ফুচকা, দই বড়া, হালিম, মাঠা, পরোটা আরও নানা পদের খাবার। নআর শাহী জিলাপি তো আছেই। প্রচলিত একটি ধারণা হচ্ছে চকবাজারে যেসব ইফতারের আয়োজন করা হয় সেগুলো মোঘল আমলে রাজা বাদশারা খেতেন। তাই দোকানীদের মুখ থেকেও শোনা যায় এমন কথা - “বড় বাপের পোলা খায়, ঠোঙ্গা ভরে নিয়ে যায়” - এধরনের কথা দিয়েই তারা ক্রেতাদের আকৃষ্ট করার চেষ্টা করেন। এই সব ইফতার আয়োজন যারা কেনেন তারা সবাই উচ্চবিত্ত পরিবারের।

চক বাজারের পাশেই থাকেন রিফাত হোসেন । প্রতিদিনের ইফতার তিনি এখান থেকেই কেনেন। তিনি বলছিলেন বছরে একটি বার এই সুযোগ আসে, তাই তার পরিবারের সবাই আশায় থাকেন চকবাজারের ঐহিত্যবাহী খাবারগুলো খাওয়ার জন্য। কিন্তু কতটা উপকারী এসব খাবার?

বাংলাদেশে মুসলমানদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব ঈদ উল ফিতরের আগে রমজান মাসের এক মাস রোজা রাখেন মুসলমানেরা। সারাদিন না খেয়ে রোজা রাখার পর সন্ধ্যায় সূর্যাস্তের সাথে সাথে খাবার খেয়ে রোজা ভাঙ্গার নিয়ম। সাম্প্রতিক বছর গুলোতে ইফতার আয়োজনে ব্যাপক পরিবর্তন লক্ষ্য করা যাচ্ছে। প্রতিটি পাড়া, মহল্লা, বড় বড় সড়কের পাশের দোকান থেকে অভিজাত হোটেলগুলোতে থাকছে নানা পদের খাবার। সেখানে বিভিন্ন রকমের ফলের পাশাপাশি পাওয়া যাচ্ছে তেলে ভাজা বিভিন্ন ভারী খাবার। সারাদিন রোজার রাখার পর এই ধরণের তেলেভাজা ভারী খাবার আর ভুরিভোজন আসলে স্বাস্থ্যের জন্য কতটা উপকারী?

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের খাদ্য ও পুষ্টি বিজ্ঞান ইন্সটিটিউটের অধ্যাপক নাজমা শাহিন বলছিলেন ১২ থেকে ১৪ ঘণ্টা একেবারেই না খেয়ে থাকার ফলে শরীরে সবচেয়ে ঘাটতি তৈরি হয় পানির। সেক্ষেত্রে পানি বা সরবত জাতীয় খাবার ইফতার ও ইফতার পরবর্তী সময়ে সবচেয়ে বেশি খাওয়া উচিত বলে তিনি জানান। ইফতার আয়োজনে নানা রকম ডালের তৈরি তেলে ভাজা খাবার সম্পর্কে নাজমা শাহিন বলছিলেন তেলে ভাজা এইসব খাবার সারাদিন রোজা রাখার পর খেলে তা স্বাস্থ্যর ঝুঁকি বাড়ায়। তিনি বলেন হার্ট ও কিডনির নানা রোগের কারণ হতে পারে এসমস্ত খাবার। তিনি বলেন, খাবারগুলো যে তেলে ভাজা হয় সেগুলো রি-সাইকেল করা। অর্থাৎ একই তেলে বার বার ভাজার ফলে সেগুলো শরীরে মারাত্মক প্রভাব ফেলে।

দোকানের তেলে ভাজা খাবারের ওপর ভরসা না থাকায় বেশ বড় পরিবারের ইফতার তিনি নিজেই বাসায় তৈরি করেন। তাই দুপুর থেকেই শুরু হয়ে যায় তার আয়োজন।তিনি বলছিলেন, তার পরিবারে সব বয়সের মানুষে রয়েছেন। শিশুদের জন্য যেমন তিনি খাবার রাখেন তেমনি বড়দের জন্যও খাবার তৈরি করেন। আর সেখানে থাকে অনেক তেলে ভাজা খাবার।

আইভি মোনালিসা বলছিলেন, ''এসব খাবার শরীরের জন্য ক্ষতিকর, তাও করি কারণ পরিবারের সবাই সারাদিন রোজার পর কিছু মুখরোচক খাবার খেতে পছন্দ করেন।'' চকবাজারের যেসব দোকানে মাংসের বিভিন্ন রকমের খাবার পাওয়া যায় তারা বলছেন আগের দিন রাত থেকে চলে তাদের রান্নার আয়োজন, দুপুর ১২টা মধ্যে রান্না শেষ করে দোকান তা সাজিয়ে বসে যান। বেগুনি, চপ, ছোলা, জিলাপির মত খাবারগুলো তাৎক্ষণিক ভাবে ভেজে দেয়া হয় ক্রেতাদের। আর ক্রেতা যারা আসেন এইসব খাবার কিনতে তারা এর স্বাস্থ্য ঝুঁকির ব্যাপারে কিছুটা আশঙ্কা প্রকাশ করলেও তা যে তারা খুব বেশি আমলে নেন - তা মনে হলো না। সূত্র: বিবিসি।

 

সূত্র - natunbarta.com

 

Please Login to comment and favorite this Health Tip
Next Health Tips: শিশুর নৈতিকতাবোধের বিকাশ
Previous Health Tips: ডাবের পানির কতগুন!

আরও স্বাস্থ্য টিপ

গাইনি ডাক্তারের কাছে যে বিষয়গুলো কখনোই লুকাবেন না

মেয়েলী যে কোনো সমস্যা হলেই গাইনি ডাক্তারের শরণাপন্ন হতে হয়। আর গাইনি ডাক্তারের শরনাপন্ন হতে অনেক নারীই কিছুটা দ্বিধাবোধ করেন। বিশেষ করে ডাক্তার যদি পুরুষ হয়ে থাকেন তাহলে অধিকাংশ সমস্যার কথাই জানাতে পারেন না নারীরা। গাইনি ডাক্তারের কাছে কিছু বিষয় লজ্জায় এড়িয়ে যান বেশিরভাগ রোগী। কিন্তু অত্যন্ত... আরও দেখুন

ত্বকের ক্লান্তি ভাব লুকাবেন যেভাবে

বেসরকারি ফার্মে চাকরি করেন অর্ষা। প্রায়ই বাসায় ফেরার পর তাকে রাত জেগে অফিসের কাজ করতে হয়। রাত জেগে কাজ করার ফলে ভালো ঘুম হয় না। তাই পরদিন সকালে অফিসে যাওয়ার পর খুবই ক্লান্তি লাগে তার। মাঝেমধ্যে এ বিষয় নিয়ে তিনি দুশ্চিন্তায় পড়ে যান। ঠিকমতো ঘুমের অভাবে চোখের নিচেও কালি পড়েছে। প্রায়ই অফিসের... আরও দেখুন

পেয়ারার স্বাস্থ্য উপকারিতা

ছোট থেকে বড় সকলের কাছেই পেয়ারা খুবই প্রিয় একটি ফল৷ পেয়ারায় বিভিন্ন স্বাস্থ্য উপকারিতা রয়েছে, আর এই কারণেই এটি ‘সুপার ফ্রুট’ নামে পরিচিত৷ আপনিও জেনে নিন এই ‘সুপার ফ্রুট’এর গুণাগুণ৷ •    শরীরের অতিরিক্ত শর্করা শুষে নিতে পারে পেয়ারা৷ এছাড়াও এতে... আরও দেখুন

গ্যাস্ট্রিক বা এসিডিটির সমস্যা ও সহজ সমাধান

গ্যাস্ট্রিক বা এসিডিটির সমস্যা আমাদের দেশে খুবই স্বাভাবিক ব্যপার। অনেককে বছরের প্রায় সময়ই ভূগতে হয় এ সমস্যায়। আধুনিক চিকিৎসা বিজ্ঞানে এর প্রতিকার হিসাবে পাওয়া যায় অনেক নামি দামি ওষুধ। কিন্তু আমাদের হাতের কাছের বিভিন্ন প্রকৃতিক জিনিস দিয়ে যদি করা যায় এর নিরাময়, তাহলে বাড়তি টাকা খরচ করার কি... আরও দেখুন

ওজন কমাতে রাতের বিশেষ খাবার ‘দই-ফল’

ওজনটা নিয়ে অনেকেই বেশ বিপাকে আছেন। ওজন যত সহজে বাড়ে তত সহজে কমে না। কঠিন ডায়েট চার্ট, দীর্ঘ সময় ব্যায়াম করে ঘাম ঝরানোর কাজটাও খুবই কঠিন। তাই ওজন কমানোর ইচ্ছে থাকলেও কমানো হয়ে ওঠে না। যারা চট জলদি ওজন কমাতে চান একেবারে কষ্ট ছাড়াই তারা রাতের খাবারের মেন্যুটা একটু বদলে ফেলুন। রাতের খাবারে অন্য সব... আরও দেখুন

ডিম খাওয়ার লাভ-লোকসান!

ট্রেন কিংবা বাস স্টেশনে, লঞ্চঘাটে, স্টেডিয়ামে, হাট-বাজারে এখনো শোনা যায় ফেরিওয়ালার ডাক—‘এই ডিম ডিম ডিম...সেদ্ধ ডিম...মুরগির ডিম...হাঁসের ডিম।’ আর তা হবেইবা না কেন? সহজলভ্য পুষ্টির উত্স হিসেবে ডিমের তুলনা কেবল ডিমই হতে পারে। তাই বাড়িতে বা রেস্তোরাঁয় সকাল-বিকেলের নাশতাতেই হোক... আরও দেখুন

healthprior21 (one stop 'Portal Hospital')