রোজায় ভাজাপোড়া খাবার প্রায় সবারই প্রিয়। কিন্তু এ ভাজাপোড়াজাতীয় ইফতারিসামগ্রী গ্রহণের
ফলেই অনেক রোজাদার শারীরিক অস্বস্তিতে ভোজন বলে উল্লেখ করেছে 'ইন্টারন্যাশনাল জার্নাল
অব রমাদান ফাস্টিং রিসার্চ'-এ প্রকাশিত একটি গবেষণালব্ধ নিবন্ধ। এতে বলা হয়েছে ভাজাপোড়া,
অতি মসলাযুক্ত ও অতিরিক্ত মিষ্টিজাতীয় খাবার গ্রহণের কারণে অনেকেই রোজা রেখে অসুস্থ হয়ে
পড়েন। তবে রোজার পর এদের অধিকাংশই ক্রমান্বয়ে সুস্থ হয়ে ওঠেন। হঠাৎ করে এক সঙ্গে এসব
খাবার গ্রহণের ফলে বদহজম, বুকজ্বালা এবং ওজন বৃদ্ধির সমস্যা দেখা দেয়। রোজা রাখার সময়
যাতে এসিডিটি দেখা না দেয় তা প্রতিরোধের জন্য অাঁশযুক্ত খাবার, শাকসবজি ও ফলমূল খাওয়ার
পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। এজাতীয় খাবার পাকস্থলীর মাংসপেশির সংকোচন প্রসারণ প্রক্রিয়া
বাড়িয়ে দেয় পেটফাঁপা যেমন প্রতিরোধ করে, তেমনি খাবারগুলোকে ভেঙে ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র অংশে পরিণত
করে। ফলে খাবার সহজেই হজম হয়ে যায়, এসিডিটি দেখা দেয়ার প্রবণতা হ্রাস পায়। উল্লেখ্য, রোজায়
বাজারে তৈরি ভাজাপোড়া খাবারের অধিকাংশই ভাজা হয় পুরনো তেলে। একই তেলে বারবার ভাজা
খাবার স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর। এর ফলে ক্ষতিকর রাসায়নিক পদার্থের সৃষ্টি হয় সেই তেলে। এসব
রাসায়নিক পদার্থ ক্যান্সার সৃষ্টিকারী পদার্থ হিসেবে পরিচিত। একইভাবে ক্যান্সারের উদ্রেককারী
আরেকটি উপাদান হচ্ছে রঙিন শরবতে ব্যবহৃত কৃত্রিম রঙ। ইফতারের পর ঘুমানোর আগ পর্যন্ত
শরীরে সারা দিনের পানিস্বল্পতা এবং শরীরকে দূষণমুক্ত করার জন্য পানি গ্রহণের কথা বলা হয়েছে এ
নিবন্ধে। সেহরির পর অনেকেই চা পান করেন। চা অনেক উপকারী_ এ কথাও প্রায় সবার জানা। কিন্তু
এ নিবন্ধে গবেষকরা সেহরির পর চা পান থেকে বিরত থাকতে বলেছেন একটি ভিন্ন কারণে। গবেষকরা
বলছেন, চায়ের মধ্যে ক্যাফেইন থাকে। এ ক্যাফেইন প্রস্রাবের পরিমাণ বাড়িয়ে দেয়। ফলে শরীরে খনিজ
লবণ ও পানিস্বল্পতা দেখা দিয়ে থাকে। এ পানিস্বল্পতা রোজাদারের জন্য কাম্য নয়। বরং সেহরির পর
কলা খাওয়া যেতে পারে। কলায় রয়েছে পটাশিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম এবং কার্বোহাইড্রেট। তবে কলা কারো
কারো ক্ষেত্রে কোষ্ঠকাঠিন্য করে থাকে। এ ক্ষেত্রে অাঁশযুক্ত খাবার সঙ্গে খেলে আর কোনো
সমস্যা দেখা দেয়ার কথা নয়। রোজায় সুষম খাবার পরিমাণ মতো গ্রহণ করলেই শরীর সুস্থ থাকবে
বলে জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। সুষম খাবার খেয়ে রোজা রেখে ইফতারের আগে হাত-পা সঞ্চালন জাতীয়
হালকা ব্যায়াম এবং সময়মতো নামাজ আদায় করলেই অতিরিক্ত ওজন সমস্যায় আক্রান্ত ব্যক্তিরা
রোজা থেকে ওজন কমানোর সুযোগ পাবেন বলেও উল্লেখ রয়েছে এ নিবন্ধে। রোজার সময় গভীর
নিদ্রার ব্যাপারে গুরুত্ব দেয়া হয়েছে। তাই তারাবি নামাজের পর যতদ্রুত সম্ভব সামান্য ঘুমানোই
উত্তম।
সূত্র - যায়যায়দিন

