home top banner

Health Tip

বর্ষাকালের রোগবালাই এবং স্বাস্থ্য সচেতনতা
06 July,13
  Viewed#:   157

আকাশ ভরা ঘনঘনে রোদ। রোদের প্রতাপ যেতে না যেতেই মেঘে মেঘে ছেয়ে যায় আকাশ, প্রবল বর্ষায় ডুবতে থাকে চরাচর। বছরের এই সময়ে এভাবেই রোদ-বৃষ্টির খেলা চলে। আবহাওয়ার এই তারতম্যে শরীরকে ক্ষণ ক্ষণে নতুন পরিবেশে খাপ খাইয়ে নিতে হয়। বর্ষা ঋতুতে খাল-বিল জঞ্জালের পাহাড়, পথে নর্দমার কাদা, গর্তে জমে থাকা বৃষ্টির পানি, কখনও জমে থাকা পানিতে মশার বসতি, দূষিত পানিতে সয়লাব চারদিকÑখুবই পরিচিত দৃশ্য। এ সময় অণুজীবদের আবির্ভাব ঘটে অস্বাভাবিক হারে। শ্বাসযন্ত্রের রোগ, পেটের রোগ, ভাইরাস জাতীয় রোগ, ইত্যাদির জন্য অনুকূল পরিবেশ বর্ষাকাল। এই সময় রোগগুলো মাথাচাড়া দিয়ে ওঠে। তাই এই সময় নিজের ও পরিবারের সদস্যদের দিকে খেয়াল রাখতে হয় বেশি। সতর্কতার সাথে দেখভাল করা চাই-ই চাই, বিশেষ করে শিশু ও বয়স্কদের অসুখ-বিসুখ হওয়ার প্রবণতা থাকে বেশি।

যে কোন রোগবালাই হলে মন খারাপ থাকে, ফলে বাদল দিনের কদম ফুল দেখার আনন্দ বিলীন হয়ে যায়। বর্ষার যেসব রোগ হতে পারে তার মধ্যে অন্যতম ফ্লু জাতীয় রোগ, শ্বাসযন্ত্রের রোগ তথা হাঁপানি, সিওপিডি, ব্রঙ্কাইটিস, নিউমোনিয়া। বর্ষাকালে এই বার বার ভেজা, ভ্যাপসা ও ঠান্ডা আবহাওয়াতে হাঁপানি/ শ্বাসকষ্ট বাড়তেই পারে কারও কারও। বৃষ্টিতে ভিজে গায়ে কাপড় শুকালে ঠান্ডা লাগতে পারে। তাই এই সময় প্রত্যেকের উচিত ভারি কাপড় পরিহার করে হালকা-টিলেঢালা পোশাক পরিধান করা। বর্ষাকালের অধিকাংশ রোগই পানিবাহিত। প্রথমে বৃষ্টি যখন আসে ঘন গৌরবে তখন পেটের অসুখ, ডায়রিয়া, এমিবিয়াসিস, হেপাইটিস বা জন্ডিস হতে পারে। এ ছাড়াও আমাশয়, উদারময়, টাইফয়েড জ্বর দেখা যায় বেশি বর্ষা মৌসুমে দূষিত জল ও খাদ্য এসব রোগ সৃষ্টির পেছনে মূল কারণ হিসাবে কাজ করে। তাই সঠিকভাবে ব্যক্তিগত স্বাস্থ্যবিধি পালন এসময় খুবই জরুরি।

বৃষ্টিতে হতে পারে ত্বকের রোগ/ডার্মাটাইটিস। ছত্রাকের কারণে বেশি হয় ত্বকের রোগ। এলার্জিও হতে পারে। রাইনাইটিস, এটোপিক ডার্মাটাইটিস, নেত্রবর্ণ প্রদাহ  (চোখ উঠা) দেখা যায় বর্ষাকালে বেশি। মশাবাহিত রোগ : ম্যালেরিয়া ও ডেঙ্গু বর্ষার অসুখ। এই বাদল দিনে/বর্ষা মৌসুমে কী করে রক্ষা করতে পারি নিজেদের?

* ফুটানো (ইড়রষবফ/ঋরষঃবৎবফ) পানি পান করতে হবে। বর্ষায় বারবার হাত ধোয়ার অভ্যাস করা উচিত। রাস্তার ধারে ফুটপাতে তৈরি ফলের জুস; লাচ্ছি, শরবত এড়িয়ে চলতে হবে।

* সুষম খাদ্য, প্রচুর ফলমূল ও শাকসবজি খাওয়া, যেগুলোতে বেশি আছে ভিটামিন ‘সি’। তবে ফল ও শাকসবজি বাজার থেকে আনার পর খুব ভালো করে ধুয়ে নিতে হবে, কারণ এগুলোতে জীবাণুর লার্ভা ও রাস্তার ধুলাবালি লেগে থাকে।

* ঠিকমতো ঘুমানো। বৃষ্টি ও ঠান্ডা থেকে নিজেকে রক্ষা করা। ছাতা ও বর্ষাতি ব্যবহার করা চাই। বৃষ্টির মধ্যে রেইনকোট পরে বেরুনো উচিত। ভেজা কাপড় চটজলদি বদলে ফেলা।

* ত্বক যতদূর সম্ভব শুকনো রাখা। বর্ষাকালে বাজারে ভালো ব্রান্ডের ট্যালকম পাউডার ব্যবহার করা উচিত। পাউডার ত্বকের  ছত্রাক জাতীয় রোগ প্রতিরোধ করে।

* বর্ষাকালে রাস্তাঘাট নর্দমার কাদা ও গর্তে জমে থাকা ময়লা পানিতে সয়লাব থাকে। আজকাল অল্প বৃষ্টিতে শহরের রাস্তাগুলো হাঁটু পানিতে তলিয়ে যায়। যা হাঁটার সময় আমাদের গায়ে লাগে এবং জুতায় প্রবেশ করে। এই কাদা ও ময়লা পানি ব্যাকটেরিয়া ও ছত্রাকের বেড়ে উঠার জন্য অনুকূল পরিবেশ তৈরি করে। তাই বাইরে থেকে আসা মাত্রই পা ভালো করে সাবান দিয়ে ধোয়ার পাশা-পাশি জুতাও পরিষ্কার করে শুকাতে দিতে হবে। ডায়বেটিস রোগীদের বর্ষকালে পায়ের অতিরিক্ত যত্ন নিতে হবে (উরধনবঃরপ ভড়ড়ঃ) থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য।

* দূষিত জল দিয়ে জামা-কাপড়, থালা-বাসন না ধোয়াই উচিত।

* ফুলের টবে, টায়ারে, ঘরের চালে যেন জল না জমে, যেন পরিষ্কার থাকে আঙিনা। জমে থাকা পানি থেকে জন্ম হয় এডিস মশার। বর্ষার সময় ডেঙ্গু জ্বর থেকে  রক্ষা পেতে মশারির নীচে শোয়া উচিত।


পরিশেষে বলি অসুস্থ হলে নিজে নিজে ওষুধ না খেয়ে প্রয়োজনে ডাক্তার দেখাবেন। ডাক্তারের পরামর্শ নিবেন। সতর্ক থাকতে হবে শরীরের প্রয়োজনে। বৃষ্টির আভাস থাকলেই বাইরে যাওয়ার সময় একটু কষ্ট করে ছাতা সঙ্গে রাখুন। 

 


সূত্র - দৈনিক ইনকিলাব

Please Login to comment and favorite this Health Tip
Next Health Tips: ব্রণ হলে জানতে হবে
Previous Health Tips: হঠা ৎ হাত-পা কেটে গেলে...

More in Health Tip

গাইনি ডাক্তারের কাছে যে বিষয়গুলো কখনোই লুকাবেন না

মেয়েলী যে কোনো সমস্যা হলেই গাইনি ডাক্তারের শরণাপন্ন হতে হয়। আর গাইনি ডাক্তারের শরনাপন্ন হতে অনেক নারীই কিছুটা দ্বিধাবোধ করেন। বিশেষ করে ডাক্তার যদি পুরুষ হয়ে থাকেন তাহলে অধিকাংশ সমস্যার কথাই জানাতে পারেন না নারীরা। গাইনি ডাক্তারের কাছে কিছু বিষয় লজ্জায় এড়িয়ে যান বেশিরভাগ রোগী। কিন্তু অত্যন্ত... See details

ত্বকের ক্লান্তি ভাব লুকাবেন যেভাবে

বেসরকারি ফার্মে চাকরি করেন অর্ষা। প্রায়ই বাসায় ফেরার পর তাকে রাত জেগে অফিসের কাজ করতে হয়। রাত জেগে কাজ করার ফলে ভালো ঘুম হয় না। তাই পরদিন সকালে অফিসে যাওয়ার পর খুবই ক্লান্তি লাগে তার। মাঝেমধ্যে এ বিষয় নিয়ে তিনি দুশ্চিন্তায় পড়ে যান। ঠিকমতো ঘুমের অভাবে চোখের নিচেও কালি পড়েছে। প্রায়ই অফিসের... See details

পেয়ারার স্বাস্থ্য উপকারিতা

ছোট থেকে বড় সকলের কাছেই পেয়ারা খুবই প্রিয় একটি ফল৷ পেয়ারায় বিভিন্ন স্বাস্থ্য উপকারিতা রয়েছে, আর এই কারণেই এটি ‘সুপার ফ্রুট’ নামে পরিচিত৷ আপনিও জেনে নিন এই ‘সুপার ফ্রুট’এর গুণাগুণ৷ •    শরীরের অতিরিক্ত শর্করা শুষে নিতে পারে পেয়ারা৷ এছাড়াও এতে... See details

গ্যাস্ট্রিক বা এসিডিটির সমস্যা ও সহজ সমাধান

গ্যাস্ট্রিক বা এসিডিটির সমস্যা আমাদের দেশে খুবই স্বাভাবিক ব্যপার। অনেককে বছরের প্রায় সময়ই ভূগতে হয় এ সমস্যায়। আধুনিক চিকিৎসা বিজ্ঞানে এর প্রতিকার হিসাবে পাওয়া যায় অনেক নামি দামি ওষুধ। কিন্তু আমাদের হাতের কাছের বিভিন্ন প্রকৃতিক জিনিস দিয়ে যদি করা যায় এর নিরাময়, তাহলে বাড়তি টাকা খরচ করার কি... See details

ওজন কমাতে রাতের বিশেষ খাবার ‘দই-ফল’

ওজনটা নিয়ে অনেকেই বেশ বিপাকে আছেন। ওজন যত সহজে বাড়ে তত সহজে কমে না। কঠিন ডায়েট চার্ট, দীর্ঘ সময় ব্যায়াম করে ঘাম ঝরানোর কাজটাও খুবই কঠিন। তাই ওজন কমানোর ইচ্ছে থাকলেও কমানো হয়ে ওঠে না। যারা চট জলদি ওজন কমাতে চান একেবারে কষ্ট ছাড়াই তারা রাতের খাবারের মেন্যুটা একটু বদলে ফেলুন। রাতের খাবারে অন্য সব... See details

ডিম খাওয়ার লাভ-লোকসান!

ট্রেন কিংবা বাস স্টেশনে, লঞ্চঘাটে, স্টেডিয়ামে, হাট-বাজারে এখনো শোনা যায় ফেরিওয়ালার ডাক—‘এই ডিম ডিম ডিম...সেদ্ধ ডিম...মুরগির ডিম...হাঁসের ডিম।’ আর তা হবেইবা না কেন? সহজলভ্য পুষ্টির উত্স হিসেবে ডিমের তুলনা কেবল ডিমই হতে পারে। তাই বাড়িতে বা রেস্তোরাঁয় সকাল-বিকেলের নাশতাতেই হোক... See details

healthprior21 (one stop 'Portal Hospital')