home top banner

স্বাস্থ্য টিপ

মেছতাকে না বলুন
০৭ জুন, ১৪
Tagged In:  skin care  skin problem  
  Viewed#:   92

skin-rashমেছতা কি?
মেছতা বা melasma হল মুখের ত্বকে হাইপার পিগমেন্টেশন অর্থাৎ অস্থায়ী বিবর্ণতা । সাধারণত মেছতা হলে কপালে, গালে ও ঠোঁটের উপরে, চিবুকে ছোপ ছোপ কালো, বাদামি বা নীলচে ধূসর দাগ পড়ে। এই দাগ গুলো দিন দিন বাড়তে থাকে ও সুর্যের রশ্মি পড়লে দাগ গাঢ় হয়ে যায়। 


কেন হয়?
মেছতা বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই মেয়েদের বেশি হয়ে থাকে। মেয়েদের এস্ট্রোজেন ও প্রোজেস্টেরন হরমোনের সমস্যা থাকলে সাধারণত মেছতা হওয়ার প্রবণতা বেড়ে যায়। বংশগত, গর্ভাবস্থা, জন্মনিয়ন্ত্রণ, হরমোন প্রতিস্থাপন, অ্যাড্রিনাল ক্লান্তির কারণে মেছতা হতে পারে মেয়েদের। ছেলেদের মেছতা খুব কম হয়ে থাকে।

কিভাবে দূর করবেন?
মেছতা কমানো বা দূর করা যায় অনেক ক্ষেত্রে। এক্ষেত্রে আপনাকে অনেক দিন অপেক্ষা করতে হবে ভালো ফলাফলের জন্য। যদি ৬ মাসের মধ্যে আপনার মেছতার উন্নতি না হয় তাহলে অবশ্যই আপনার উচিত হবে ভালো কোন ডার্মাটোলজিস্টের পরামর্শ নেয়া। জেনে নিন আপনি কি কি করতে পারেনঃ

মেছতা ও সূর্য দুইজন দুইজনের চির শত্রু। তাই যত পারবেন সূর্যের রশ্মি থেকে নিজেকে বাঁচানোর চেষ্টা করুন। বাইরে গেলে ছাতা ও সানগ্লাস ব্যবহার করবেন ও বের হওয়ার ২০ মিনিট আগে spf-30 (সর্বনিম্ন) পাওয়ার যুক্ত সান-স্ক্রিন লোশন বা ক্রিম লাগিয়ে যাবেন ত্বকে। দরকার হলে প্রথমে spf-15 যুক্ত সান-স্ক্রিন ক্রিম লাগিয়ে তার উপরে spf-30 যুক্ত সান-স্ক্রিন ক্রিম লাগাবেন। এতে দ্বিগুণ রক্ষা পাবেন।
    
ক্লান্তি মেছতার বন্ধু। তাই আপনি যত ক্লান্ত থাকবেন আপনার মেছতা হওয়ার প্রবণতা বেড়ে যাবে। ক্লান্তি দূর করতে সমস্যা হলে ইয়োগা বা মেডিটেশন করুন। এছাড়া ভোরে পার্কে হেটে আসলে বা সুন্দর কোন বই পড়লেও আপনার মানসিক ক্লান্তি দূর হবে।
    
কান্ডিডা (candida) প্রজননভুক্ত খাবার খাওয়া কমান। অতিরিক্ত চিনি, গ্লুটেন ও ইস্ট জাতীয় খাবার এর আওতায় পরে। 
   
এমন ক্রিম খুঁজুন যাতে হাইডোকুইনোন(hydroquinon), কোজিক এসিড(kojic acid) বা মেলাপ্লেক্স(melaplex) আছে। এগুলো হাইপার পিগমেন্টেশন ও কালো দাগ দূর করতে পারে। তবে এসব রাসায়নিক পদার্থ ত্বকের ক্ষতি করতে পারে। তাই স্কিন স্পেশালিস্টের পরামর্শ নিয়ে এসব ক্রিম লাগাবেন।
    
আপনি যদি হরমোন প্রতিস্থাপন থেরাপি বা জন্মনিয়ন্ত্রণ পিল নিয়ে থাকেন তাহলে তা বন্ধ করে দিন। এগুলো মেছতা হওয়ার অন্যতম কারণ।
    
কেমিক্যাল পিল মেছতা দূর করতে পারে। এটি এমন এক পিল যাতে সাধারণত গ্লাইকোলিক এসিড/ল্যাকটিক এসিড ব্যবহার করা হয়। প্রফেশনালের সাহায্য না নিয়ে ্কেমিক্যাল পিল করাতে যাবেন না কিন্তু। এতে হিতে বিপরীত হতে পারে। ভালো পার্লারে বা ডার্মাটোলজিস্টের কাছে গিয়ে কেমিক্যাল পিল করিয়ে নিতে পারেন। এতে খরচ বেশি পড়বে। 
    
এছাড়া পার্লারে গিয়ে নিয়মিত ফেসিয়াল করতে পারেন। দাগ কমতে থাকবে তাহলে।

এছাড়া প্রাথমিক লেভেলের মেছতা বাসায় বসে প্রাকৃতিক জিনিস দিয়েই কমানো সম্ভব। কিভাবে জেনে নিন-

    
ছোলা পানিতে ১ ঘন্টা ভিজিয়ে রেখে সেই পানি দিয়ে বেটে নিয়ে মেছতার উপর লাগাতে হবে। শুকিয়ে গেলে মুখ ধুয়ে ফেলতে হবে। মাস খানেকের মধ্যে দাগ কমে যাবে ও অনেকের ক্ষেত্রে দাগ চলেও যাবে।
    
১ চা চামচ ভিনেগার ও ১ চা চামচ পানি মিশিয়ে সপ্তাহে ৪ দিন মেছতার উপরে লাগান। দাগ আস্তে আস্তে কমবে
    
চালের গুড়া, ডিম ও অ্যালো ভেরা একত্রে মিশিয়ে মেছতার উপরে লাগান ও ২০ মিনিট রেখে দিন। এক দিন পর পর এটি লাগান। দাগ কমবে ও উজ্জ্বলতা বৃদ্ধি পাবে।
    
লেবুর একটি টুকরা নিয়ে মেছতার উপর লাগিয়ে রাখুন ১০ মিনিট। প্রতিদিন এটি করবেন। 
    
শুধু লেবু মাখলে কারও সমস্যা হলে লেবুর সাথে ডিম মেখে ত্বকে লাগিয়ে রাখবেন ২০ মিনিট। সপ্তাহে ৪/৫ বার।

উপরে যে মাস্ক গুলো দেয়া আছে তার মধ্যে যে কোন একটি বাসায় বসে ট্রাই করতে থাকুন। ত্বক ভেদে ৪-৬ মাস লাগবে দাগ চলে যেতে। মনে রাখবেন সবুরে মেওয়া ফলে।

সূত্র - urboshi

Please Login to comment and favorite this Health Tip
Next Health Tips: স্যাতস্যাতে আবহাওয়ায় কাপড়ে ফাঙ্গাস পরা রোধ করার উপায়
Previous Health Tips: জেনে নিন ব্যথাটা কিডনির না কোমরের?

আরও স্বাস্থ্য টিপ

গাইনি ডাক্তারের কাছে যে বিষয়গুলো কখনোই লুকাবেন না

মেয়েলী যে কোনো সমস্যা হলেই গাইনি ডাক্তারের শরণাপন্ন হতে হয়। আর গাইনি ডাক্তারের শরনাপন্ন হতে অনেক নারীই কিছুটা দ্বিধাবোধ করেন। বিশেষ করে ডাক্তার যদি পুরুষ হয়ে থাকেন তাহলে অধিকাংশ সমস্যার কথাই জানাতে পারেন না নারীরা। গাইনি ডাক্তারের কাছে কিছু বিষয় লজ্জায় এড়িয়ে যান বেশিরভাগ রোগী। কিন্তু অত্যন্ত... আরও দেখুন

ত্বকের ক্লান্তি ভাব লুকাবেন যেভাবে

বেসরকারি ফার্মে চাকরি করেন অর্ষা। প্রায়ই বাসায় ফেরার পর তাকে রাত জেগে অফিসের কাজ করতে হয়। রাত জেগে কাজ করার ফলে ভালো ঘুম হয় না। তাই পরদিন সকালে অফিসে যাওয়ার পর খুবই ক্লান্তি লাগে তার। মাঝেমধ্যে এ বিষয় নিয়ে তিনি দুশ্চিন্তায় পড়ে যান। ঠিকমতো ঘুমের অভাবে চোখের নিচেও কালি পড়েছে। প্রায়ই অফিসের... আরও দেখুন

পেয়ারার স্বাস্থ্য উপকারিতা

ছোট থেকে বড় সকলের কাছেই পেয়ারা খুবই প্রিয় একটি ফল৷ পেয়ারায় বিভিন্ন স্বাস্থ্য উপকারিতা রয়েছে, আর এই কারণেই এটি ‘সুপার ফ্রুট’ নামে পরিচিত৷ আপনিও জেনে নিন এই ‘সুপার ফ্রুট’এর গুণাগুণ৷ •    শরীরের অতিরিক্ত শর্করা শুষে নিতে পারে পেয়ারা৷ এছাড়াও এতে... আরও দেখুন

গ্যাস্ট্রিক বা এসিডিটির সমস্যা ও সহজ সমাধান

গ্যাস্ট্রিক বা এসিডিটির সমস্যা আমাদের দেশে খুবই স্বাভাবিক ব্যপার। অনেককে বছরের প্রায় সময়ই ভূগতে হয় এ সমস্যায়। আধুনিক চিকিৎসা বিজ্ঞানে এর প্রতিকার হিসাবে পাওয়া যায় অনেক নামি দামি ওষুধ। কিন্তু আমাদের হাতের কাছের বিভিন্ন প্রকৃতিক জিনিস দিয়ে যদি করা যায় এর নিরাময়, তাহলে বাড়তি টাকা খরচ করার কি... আরও দেখুন

ওজন কমাতে রাতের বিশেষ খাবার ‘দই-ফল’

ওজনটা নিয়ে অনেকেই বেশ বিপাকে আছেন। ওজন যত সহজে বাড়ে তত সহজে কমে না। কঠিন ডায়েট চার্ট, দীর্ঘ সময় ব্যায়াম করে ঘাম ঝরানোর কাজটাও খুবই কঠিন। তাই ওজন কমানোর ইচ্ছে থাকলেও কমানো হয়ে ওঠে না। যারা চট জলদি ওজন কমাতে চান একেবারে কষ্ট ছাড়াই তারা রাতের খাবারের মেন্যুটা একটু বদলে ফেলুন। রাতের খাবারে অন্য সব... আরও দেখুন

ডিম খাওয়ার লাভ-লোকসান!

ট্রেন কিংবা বাস স্টেশনে, লঞ্চঘাটে, স্টেডিয়ামে, হাট-বাজারে এখনো শোনা যায় ফেরিওয়ালার ডাক—‘এই ডিম ডিম ডিম...সেদ্ধ ডিম...মুরগির ডিম...হাঁসের ডিম।’ আর তা হবেইবা না কেন? সহজলভ্য পুষ্টির উত্স হিসেবে ডিমের তুলনা কেবল ডিমই হতে পারে। তাই বাড়িতে বা রেস্তোরাঁয় সকাল-বিকেলের নাশতাতেই হোক... আরও দেখুন

healthprior21 (one stop 'Portal Hospital')