home top banner

Health Tip

দোষ না করেও সবার চোখে দোষী? কী করবেন তাহলে
01 June,14
Tagged In:  feeling guilty  
  Viewed#:   256

feeling-guiltyপ্রতিটি মানুষের জীবনেই কখনো না কখনো খারাপ সময় আসে। সবচেয়ে খারাপ পরিস্থিতি দাঁড়ায় তখনই, যখন মানুষ ভুল বোঝাবুঝির শিকার হয়, দোষ না করেও হতে হয় দোষী। তখন না যায় কাউকে বোঝানো, না যায় নিজের অবস্থান ঠিকমতো পরিষ্কার করা। মোটকথা জীবন লাইনচ্যুত হয়ে পড়ে তার পথ থেকে। এমন পরিস্থিতিতে মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন অনেকেই। এটা খুবই স্বাভাবিক ব্যাপার। যখন ভুল না করেও ভুলের শাস্তি পেতে হয়, দোষ না করেও দোষী হতে হয়, তখন ভেঙে পড়াটা খুবই স্বাভাবিক একটা ব্যাপার। এমনটা যদি ঘটে আপনার সাথে, কী করবেন তখন?


কেন এমন হচ্ছে? :
আপনাকেই সবাই দোষ দিচ্ছে কেন, তা খুঁজে করুন। আসলেই কি আপনি কোনো দোষ করেছেন, নাকি সকলে আপনাকে ভুল বুঝছে তা বোঝার চেষ্টা করুন। যে কাজের জন্য আপনাকে বারবার দোষী বলা হচ্ছে, সেটা নিয়ে গোড়া থেকে আবার ভাবুন।

সমস্যাটি ঠিক আসলে কোথায়, সেটা বোঝার চেষ্টা করুন। কারণ এমনও হতে পারে যে ভুলটা হয়তো আপনারই, কিন্তু তা আপনার চোখ এড়িয়ে গেছে। এমনটা হলে ক্ষমা চেয়ে নিন। আর যদি আপনার কোনো দোষই না থেকে থাকে, সেক্ষেত্রে আপনার নেয়ার রয়েছে বেশ ক’টি পদক্ষেপ।

নিজেকে সামলান :
প্রথমেই নিজেকে সামলাম। অযথা ভেঙে পড়বেন না। ঝোঁকে মাথায় এমন কোনো সিদ্ধান্ত নেবেন না বা কাজ করবেন না যাতে আপনাকে পরে পস্তাতে হয়। অনেকে দোষী না হয়েও পরিস্থিতির চাপে পড়ে নিজেকে দোষী ভাবতে শুরু করেন। নিজেকে অহেতুক দোষারোপ করবেন না। যা হবার তা হয়ে গেছে। বেশি আক্ষেপ করলে তা আপনাকে মানসিকভাবে আরো ক্ষতিগ্রস্ত করবে। মাথা ঠাণ্ডা রাখার চেষ্টা করুন। নিজের মধ্যে যে ঝড় বয়ে যাচ্ছে তা শান্ত হবার জন্য নিজেকে সময় দিন।

প্রমাণ করতে বলুন :
যে বা যাঁরা আপনাকে ভুল বুঝে দোষী সাব্যস্ত করছেন, সম্ভব হলে তাঁর বা তাঁদের সাথে খোলাখুলি আলোচনা করুন। কথা বলে কোনো সমাধান না হলে বলুন আপনার দোষ প্রমাণ করতে। আপনি যদি আদতেই দোষী না হয়ে থাকেন তাহলে আর আপনার ভয় কী? তবে হ্যা, মিথ্যা প্রমাণাদি দিয়ে যদি আপনাকে ফাঁসানো হয়ে থাকে, সেক্ষেত্রে প্রমাণ করার কথা বলার চেয়ে না বলাই ভালো।

আত্মবিশ্বাস ফিরিয়ে আনুন :
আপনি দোষী হন আর না হন, মিথ্যা অপবাদে আত্মবিশ্বাস হারিয়ে ফেলে যে কেউ। নিজের প্রতি নিজের হারানো বিশ্বাস ফিরিয়ে আনুন। এটা আপনার জন্য খুবই জরুরি। কারণ নিজের উপর ভরসা না থাকলে একজন মানুষের বেঁচে থাকাটা দায় হয়ে পড়ে। আপনি যে দোষী নন, নিজেই নিজেকে বারবার সেটা বোঝাতে থাকুন। নিজের ভালো দিকগুলোর কথা ভাবুন। লোকজনের কাছ থেকে নিজেকে আড়াল করে রাখবেন না। বরং মানুষজনের সাথে মিশুন এবং মন খুলে কথা বলুন। নির্ভয় হয়ে কোনো নতুন কাজ শুরু করুন। এতে আপনার আত্মবিশ্বাস দ্রুত ফিরে আসবে।

আত্মোন্নয়ন করুন :
নিজেক একজন সফল মানুষ হিসেবে গড়ে তোলার জন্য আত্মোন্নয়ন করা সবচেয়ে জরুরি। আপনার সাথে যেটাই ঘটে থাকুক না কেন, নিজের আত্মিক উন্নয়ন করুন। নিজের দোষ-গুণ নিয়ে ভাবুন, নিজের আত্মসমালোচনা করুন। নিজের গুণাবলিকে বিকশিত করতে সচেষ্ট হোন। নিজের ভুলগুলো শুধরে নিন। নিজেকে নিয়ে কখনোই নেতিবাচক কিছু ভাববেন না। বরং নিজের প্রতি এবং নিজের কাজের প্রতি ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি রাখুন।

লোকের কথায় কান দেবেন না :
যারা আপনাকে বিনা করাণেই দোষী হিসেবে চিহ্নিত করছে, তারা স্বভাবতই আপনাকে বোঝে না। যারা আপনাকে বোঝে না, বিপদে আপনার পাশে দাঁড়ায় না, তাদের কথায় কান দেয়া কি উচিত হবে? মোটেও না! আপনার নামে তারা কুত্‍সা রটাবে, কটু কথা বলবে, এসব আমলে নিলে আপনি নিজেই কষ্ট পাবেন। তাই এসব মানুষদের কাছ থেকে দূরে থাকুন এবং তাদের কথা কানে তুলবেন না মোটেও!

হয়ে উঠুন সুদক্ষ :
আপনি যে ক্ষেত্রেই কাজ করুন না কেন, কাজে নিজের দক্ষতা আরো বাড়ান। একজন দক্ষ মানুষের প্রয়োজন থাকে সব জায়গাতেই। তাই আপনার কাছের অভাব হবে না মোটেও। আর একজন দক্ষ মানুষের কাজ নিয়ে প্রশ্ন ওঠে না সহজে। ফলে তাঁকে হঠাত্‍ করে দোষী বলতেও দ্বিধা করবে লোকে। তাই নিজেকে কাজ-কর্মে করে তুলুন সুদক্ষ। এর পাশাপাশি আপনার কাজে লাগবে এমন বাড়তি কিছু বিষয়েও নিজের স্কিল বাড়ান। এতে বাড়তি সুবিধা পাবেন আপনি নিজেই।

নিজেই হয়ে উঠুন নিজের অনুপ্রেরণা :
নতুন কাজ করতে, নতুন দায়িত্ব নিতে নিজেকে উত্‍সাহিত করুন। যা হবে তা ভালোর জন্যেই হবে – এমনটা ভাবলে দেখবেন সিদ্ধান্ত নিতে দ্বিধাবোধ করছেন না। আনন্দ বোধ করেন এমন কাজের সাথে জড়িত থাকুন। মহান ব্যক্তিদের জীবন সম্পর্কে জানুন, এতে আপনি অনুপ্রেরিত হবেন। আপনার পাশে যদি কেউ নাও থাকে, নিজের ওপর আস্থা রাখুন যে আপনি একাই সব সামলে নিতে পারবেন।

তথ্যসূত্র: প্রিয় লাইফ

Please Login to comment and favorite this Health Tip
Next Health Tips: দুশ্চিন্তা থেকে রেহাই পাওয়ার উপায়
Previous Health Tips: ডায়াবেটিস রোগীরা দিনে কয়বার খাবেন?

More in Health Tip

গাইনি ডাক্তারের কাছে যে বিষয়গুলো কখনোই লুকাবেন না

মেয়েলী যে কোনো সমস্যা হলেই গাইনি ডাক্তারের শরণাপন্ন হতে হয়। আর গাইনি ডাক্তারের শরনাপন্ন হতে অনেক নারীই কিছুটা দ্বিধাবোধ করেন। বিশেষ করে ডাক্তার যদি পুরুষ হয়ে থাকেন তাহলে অধিকাংশ সমস্যার কথাই জানাতে পারেন না নারীরা। গাইনি ডাক্তারের কাছে কিছু বিষয় লজ্জায় এড়িয়ে যান বেশিরভাগ রোগী। কিন্তু অত্যন্ত... See details

ত্বকের ক্লান্তি ভাব লুকাবেন যেভাবে

বেসরকারি ফার্মে চাকরি করেন অর্ষা। প্রায়ই বাসায় ফেরার পর তাকে রাত জেগে অফিসের কাজ করতে হয়। রাত জেগে কাজ করার ফলে ভালো ঘুম হয় না। তাই পরদিন সকালে অফিসে যাওয়ার পর খুবই ক্লান্তি লাগে তার। মাঝেমধ্যে এ বিষয় নিয়ে তিনি দুশ্চিন্তায় পড়ে যান। ঠিকমতো ঘুমের অভাবে চোখের নিচেও কালি পড়েছে। প্রায়ই অফিসের... See details

পেয়ারার স্বাস্থ্য উপকারিতা

ছোট থেকে বড় সকলের কাছেই পেয়ারা খুবই প্রিয় একটি ফল৷ পেয়ারায় বিভিন্ন স্বাস্থ্য উপকারিতা রয়েছে, আর এই কারণেই এটি ‘সুপার ফ্রুট’ নামে পরিচিত৷ আপনিও জেনে নিন এই ‘সুপার ফ্রুট’এর গুণাগুণ৷ •    শরীরের অতিরিক্ত শর্করা শুষে নিতে পারে পেয়ারা৷ এছাড়াও এতে... See details

গ্যাস্ট্রিক বা এসিডিটির সমস্যা ও সহজ সমাধান

গ্যাস্ট্রিক বা এসিডিটির সমস্যা আমাদের দেশে খুবই স্বাভাবিক ব্যপার। অনেককে বছরের প্রায় সময়ই ভূগতে হয় এ সমস্যায়। আধুনিক চিকিৎসা বিজ্ঞানে এর প্রতিকার হিসাবে পাওয়া যায় অনেক নামি দামি ওষুধ। কিন্তু আমাদের হাতের কাছের বিভিন্ন প্রকৃতিক জিনিস দিয়ে যদি করা যায় এর নিরাময়, তাহলে বাড়তি টাকা খরচ করার কি... See details

ওজন কমাতে রাতের বিশেষ খাবার ‘দই-ফল’

ওজনটা নিয়ে অনেকেই বেশ বিপাকে আছেন। ওজন যত সহজে বাড়ে তত সহজে কমে না। কঠিন ডায়েট চার্ট, দীর্ঘ সময় ব্যায়াম করে ঘাম ঝরানোর কাজটাও খুবই কঠিন। তাই ওজন কমানোর ইচ্ছে থাকলেও কমানো হয়ে ওঠে না। যারা চট জলদি ওজন কমাতে চান একেবারে কষ্ট ছাড়াই তারা রাতের খাবারের মেন্যুটা একটু বদলে ফেলুন। রাতের খাবারে অন্য সব... See details

ডিম খাওয়ার লাভ-লোকসান!

ট্রেন কিংবা বাস স্টেশনে, লঞ্চঘাটে, স্টেডিয়ামে, হাট-বাজারে এখনো শোনা যায় ফেরিওয়ালার ডাক—‘এই ডিম ডিম ডিম...সেদ্ধ ডিম...মুরগির ডিম...হাঁসের ডিম।’ আর তা হবেইবা না কেন? সহজলভ্য পুষ্টির উত্স হিসেবে ডিমের তুলনা কেবল ডিমই হতে পারে। তাই বাড়িতে বা রেস্তোরাঁয় সকাল-বিকেলের নাশতাতেই হোক... See details

healthprior21 (one stop 'Portal Hospital')