home top banner

স্বাস্থ্য টিপ

ডেঙ্গু প্রতিরোধে করণীয়...
২৭ এপ্রিল, ১৪
Tagged In:  dengue fever  dengue prevent  
  Viewed#:   75

Dengue-fever

রোগটি প্রতিরোধযোগ্য, তার পরও প্রতিবছর অনেক লোক মৃত্যুবরণ করে ডেঙ্গু জ্বরে। চার ধরনের ডেঙ্গুর সব কিন্তু প্রাণঘাতী নয়। লিখেছেন ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডা. খান আবুল কালাম আযাদ


যে জ্বরটি আমাদের দেশে ডেঙ্গু নামে পরিচিত, তার আসল নাম ডেঙ্গি। এটি ভাইরাস সংক্রমিত একটি রোগ, যা মশার মাধ্যমে একজনের শরীর থেকে অন্যজনের শরীরে প্রবেশ করে। এই জ্বর বা রোগ ডেঙ্গু ভাইরাস নামের একটি ফ্লাভি ভাইরাস দিয়ে হয়।

বেশি হয়
দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া, ভারত-বাংলাদেশ, তাইওয়ান, চীন ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় দ্বীপদেশগুলোতে বেশি হয়। তবে আফ্রিকা, ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও আমেরিকাতেও হয়।

যেভাবে ছড়ায়
এডিস ইজিপ্টি নামের মশার কামড়ের মাধ্যমে ডেঙ্গু ভাইরাস মানব শরীরে প্রবেশ করে। এই মশা ভাইরাসবাহী কাউকে কামড়ানোর পর অন্য আরেকজনকে কামড়ালে সেই মানুষটি আক্রান্ত হয়। এই মশা স্থির পানিতে, যেমন পরিত্যক্ত টায়ার, পানির বোতল, কনটেইনার, ফুলের টব ও এয়ারকুলারের পানির মধ্যে বংশবৃদ্ধি করে। সাধারণত শহরাঞ্চলে রোগটি বেশি হয়, তুলনামূলকভাবে গ্রামে কম হয়।

এক রোগী থেকে অন্য মানুষের শরীরে সরাসরি ডেঙ্গু ছড়াতে পারে না। তাই রোগীর সংস্পর্শে গেলেই ডেঙ্গু হবে না।

ডেঙ্গুর রকমফের
চার ধরনের ডেঙ্গু ভাইরাস দেখা যায়। যেকোনো একটি দিয়ে একবার ডেঙ্গু হলে রোগী ওই ভাইরাস দিয়ে সাধারণত আর আক্রান্ত হয় না। শরীর ওই ভাইরাসের বিরুদ্ধে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা অর্জন করে। তবে অন্য ভাইরাস দিয়ে রোগী আবার আক্রান্ত হতে পারে।

ডেঙ্গু জ্বরকে আবার দুই ভাগে ভাগ করা যায়। ক্লাসিক্যাল ডেঙ্গু বা সাধারণ ডেঙ্গু জ্বর। আরেকটির নাম ডেঙ্গু হেমোরেজিক।

ডেঙ্গুর লক্ষণ dengue-mosquito
জীবাণু শরীরে প্রবেশের দুই থেকে সাত দিন পর সাধারণত লক্ষণ দেখা দেয়। সবার ক্ষেত্রে একই ধরনের লক্ষণ না-ও দেখা যেতে পারে। অন্য সব ভাইরাস জ্বরের মতো তীব্র মাথা ব্যথা বা শরীর ব্যথা কিংবা তীব্র জ্বর হয়ে রোগ ভালো হয়ে যেতে পারে। যদি জ্বর ভালো হয়ে যায়, তবে সেটি সাধারণ ডেঙ্গু জ্বর।

হেমোরেজিক ডেঙ্গুতে জ্বর শুরু হওয়ার দুই-তিন দিনের মধ্যে গায়ে লালচে চাকা চাকা বা জমাট রক্তবিন্দুর মতো দেখা দিতে পারে। চোখের সাদা অংশে রক্ত জমাট হয়ে লালচে হয়ে যেতে পারে। শরীরের বিভিন্ন অংশ যেমন নাক দিয়ে, দাঁতের মাড়ি থেকে, প্রস্রাবের রাস্তা দিয়ে রক্ত যেতে পারে। ডেঙ্গুর মধ্যে এটাই মারাত্মক। এতেই মূলত প্রাণহানি ঘটে।

এ ধরনের লক্ষণ দেখা মাত্র রোগীকে হাসপাতালে ভর্তি করতে হবে। বহু ক্ষেত্রে রোগীকে রক্ত দিতে হয়।

যদি রক্তক্ষরণের সঙ্গে সঙ্গে শরীরের রক্তচাপও কমে যায় তাহলে রোগী অজ্ঞান হয়ে যেতে পারে, যা ডেঙ্গু হেমোরেজিক শক নামে পরিচিত। এ পরিস্থিতি রোগীর মৃত্যুর কারণ হতে পারে। শক থেকে রোগীর লিভার, অগ্ন্যাশয়, মস্তিষ্ক আক্রান্ত হতে পারে, যা এক্সটেন্ডেড ডেঙ্গু সিনড্রোম।

কী করবেন
* তীব্র জ্বরের সঙ্গে শরীর ব্যথা, মাথা ব্যথা, চোখ ব্যথা ইত্যাদি লক্ষণ থাকলে অবশ্যই বিশ্রাম নিতে হবে। কমপক্ষে তিন দিন এই বিশ্রাম চলবে।

* প্রচুর পানি ও ফলের রস পান করতে হবে। কোনো অবস্থাতেই শরীরে যেন তরলের ঘাটতি না হয়।

* জ্বর নিয়ন্ত্রণের জন্য প্যারাসিটামল সেবন করতে হবে। ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া অন্য কোনো ব্যথার ওষুধ সেবন করবেন না। হেমোরেজিক ডেঙ্গু জ্বরে কিছু ব্যথার ওষুধ রক্তক্ষরণ বাড়িয়ে বিপদ ঘটাতে পারে।

* জ্বর হওয়ার তিন দিন পরও শরীরে তাপমাত্রা বেশি মনে হলে অবশ্যই ডাক্তারের পরামর্শ নিতে হবে।

* শরীরের কোথাও রক্তবিন্দুর মতো দাগ, চোখ লাল হয়ে যাওয়া, নাক বা মাড়ি থেকে রক্ত পড়ার মতো যেকোনো লক্ষণে দেরি না করেই হাসপাতালে নিতে হবে।

* আক্রান্ত রোগীকে অবশ্যই মশারি দিয়ে আলাদা করে রাখতে হবে, অন্যথায় তাকে কামড়ের পর মশা যখন নতুন কাউকে কামড় দেবে, সেও আক্রান্ত হবে।

প্রতিরোধ
* মশারি টাঙাতে হবে। সম্ভব হলে দিনের বেলা ঘুমানোর সময়ও মশারি টাঙানো ভালো। শিশুদের অবশ্যই মশারির ভেতরে রাখবেন।

* ঘরের আশপাশে কৌটা, ফলের খোসা, টব, বোতল ইত্যাদিতে পানি যেন না জমে থাকে সেটা লক্ষ রাখুন।

* ডেঙ্গু মশা শুধু দিনে কামড়ায়- এটা কিন্তু ঠিক নয়। তাই দিন-রাত সব সময়ই ঘর মশামুক্ত রাখার ব্যবস্থা নিন।

সূত্র  দৈনিক কালের কণ্ঠ

Please Login to comment and favorite this Health Tip
Next Health Tips: ওজন কমাতে সাইকেলিং
Previous Health Tips: ক্যানসার প্রতিরোধে কার্যকর ৭ মসলা

আরও স্বাস্থ্য টিপ

গাইনি ডাক্তারের কাছে যে বিষয়গুলো কখনোই লুকাবেন না

মেয়েলী যে কোনো সমস্যা হলেই গাইনি ডাক্তারের শরণাপন্ন হতে হয়। আর গাইনি ডাক্তারের শরনাপন্ন হতে অনেক নারীই কিছুটা দ্বিধাবোধ করেন। বিশেষ করে ডাক্তার যদি পুরুষ হয়ে থাকেন তাহলে অধিকাংশ সমস্যার কথাই জানাতে পারেন না নারীরা। গাইনি ডাক্তারের কাছে কিছু বিষয় লজ্জায় এড়িয়ে যান বেশিরভাগ রোগী। কিন্তু অত্যন্ত... আরও দেখুন

ত্বকের ক্লান্তি ভাব লুকাবেন যেভাবে

বেসরকারি ফার্মে চাকরি করেন অর্ষা। প্রায়ই বাসায় ফেরার পর তাকে রাত জেগে অফিসের কাজ করতে হয়। রাত জেগে কাজ করার ফলে ভালো ঘুম হয় না। তাই পরদিন সকালে অফিসে যাওয়ার পর খুবই ক্লান্তি লাগে তার। মাঝেমধ্যে এ বিষয় নিয়ে তিনি দুশ্চিন্তায় পড়ে যান। ঠিকমতো ঘুমের অভাবে চোখের নিচেও কালি পড়েছে। প্রায়ই অফিসের... আরও দেখুন

পেয়ারার স্বাস্থ্য উপকারিতা

ছোট থেকে বড় সকলের কাছেই পেয়ারা খুবই প্রিয় একটি ফল৷ পেয়ারায় বিভিন্ন স্বাস্থ্য উপকারিতা রয়েছে, আর এই কারণেই এটি ‘সুপার ফ্রুট’ নামে পরিচিত৷ আপনিও জেনে নিন এই ‘সুপার ফ্রুট’এর গুণাগুণ৷ •    শরীরের অতিরিক্ত শর্করা শুষে নিতে পারে পেয়ারা৷ এছাড়াও এতে... আরও দেখুন

গ্যাস্ট্রিক বা এসিডিটির সমস্যা ও সহজ সমাধান

গ্যাস্ট্রিক বা এসিডিটির সমস্যা আমাদের দেশে খুবই স্বাভাবিক ব্যপার। অনেককে বছরের প্রায় সময়ই ভূগতে হয় এ সমস্যায়। আধুনিক চিকিৎসা বিজ্ঞানে এর প্রতিকার হিসাবে পাওয়া যায় অনেক নামি দামি ওষুধ। কিন্তু আমাদের হাতের কাছের বিভিন্ন প্রকৃতিক জিনিস দিয়ে যদি করা যায় এর নিরাময়, তাহলে বাড়তি টাকা খরচ করার কি... আরও দেখুন

ওজন কমাতে রাতের বিশেষ খাবার ‘দই-ফল’

ওজনটা নিয়ে অনেকেই বেশ বিপাকে আছেন। ওজন যত সহজে বাড়ে তত সহজে কমে না। কঠিন ডায়েট চার্ট, দীর্ঘ সময় ব্যায়াম করে ঘাম ঝরানোর কাজটাও খুবই কঠিন। তাই ওজন কমানোর ইচ্ছে থাকলেও কমানো হয়ে ওঠে না। যারা চট জলদি ওজন কমাতে চান একেবারে কষ্ট ছাড়াই তারা রাতের খাবারের মেন্যুটা একটু বদলে ফেলুন। রাতের খাবারে অন্য সব... আরও দেখুন

ডিম খাওয়ার লাভ-লোকসান!

ট্রেন কিংবা বাস স্টেশনে, লঞ্চঘাটে, স্টেডিয়ামে, হাট-বাজারে এখনো শোনা যায় ফেরিওয়ালার ডাক—‘এই ডিম ডিম ডিম...সেদ্ধ ডিম...মুরগির ডিম...হাঁসের ডিম।’ আর তা হবেইবা না কেন? সহজলভ্য পুষ্টির উত্স হিসেবে ডিমের তুলনা কেবল ডিমই হতে পারে। তাই বাড়িতে বা রেস্তোরাঁয় সকাল-বিকেলের নাশতাতেই হোক... আরও দেখুন

healthprior21 (one stop 'Portal Hospital')