home top banner

স্বাস্থ্য টিপ

এইডস ।। প্রতিরোধেই মুক্তি
২২ মার্চ, ১৪
Tagged In:  hiv aids  AIDS prevent  
  Viewed#:   97

Prevent-AIDSআধুনিক চিকিত্সা বিজ্ঞানের কল্যাণে, উন্নত চিকিত্সার প্রভাবে এবং মানুষের সচেতনতার কারণে সংক্রামক রোগের সংখ্যা দিন-দিন কমে যাচ্ছে, বাড়ছে অসংক্রামক ব্যাধি। তারই একটি হল— এইডস।


এইচআইভি এবং এইডস কী?
এইডস এক আতঙ্কের নাম। মরণব্যাধি এক সংক্রামক রোগ। সারা বিশ্বেই আজ এ রোগের ছড়াছড়ি— এমনকী মহামারী। তবে খুব কম মানুষই এ রোগের সঠিক তথ্য সম্পর্কে অবগত আছেন। সত্যিকার অর্থে রোগটি ভীতিকর হলেও প্রতিরোধযোগ্য। হিউম্যান ইমিউনো ডেফিসিয়েনসি ভাইরাস (এইচআইভি) এ রোগের জীবাণু।

মানবদেহে এইচআইভি কী সমস্যা করে?
এই ভাইরাস শরীরে প্রবেশ করলে রোগ-প্রতিরোধক কোষ যেমন হেলপার টি সেল, মনোসাইট, ম্যাক্রফেজ, ডেনড্রাইটিক সেল, চর্মের ল্যাঙ্গারহেন্স সেল, মস্তিষ্কের প্লায়াল সেল ইত্যাদিকে আক্রমণ করে এবং সেগুলোকে ধীরে-ধীরে ধ্বংস করে দেয়। ফলে মানবদেহের স্বাভাবিক রোগ-প্রতিরোধ ক্ষমতা নষ্ট হয়ে যায়। তখন যে-কোনও সংক্রামক জীবাণু সহজেই এইচআইভি আক্রান্ত ব্যক্তিকে আক্রমণ করতে পারে। এইচআইভি ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে রোগ-প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যাওয়ার এ অবস্থাকে এইডস বলে। এ অবস্থায় শরীরে প্রতিরোধ করার মতো কোনও কার্যকরী কোষ না থাকায় যে-কোনও রোগ মারাত্মকভাবে ছড়িয়ে পড়ে এবং শরীরে নানা উপসর্গসহ এর বিস্তার ঘটে। এইডস রোগীর ক্ষেত্রে খুব সাধারণ সংক্রামক রোগও স্বাভাবিক চিকিত্সায় ভালো হয় না। ঘন-ঘন ডায়রিয়া, যক্ষ্মা, নিউমোনিয়া ইত্যাদি হয়। এমনকী কিছু বিশেষ ধরনের ক্যান্সার শরীরকে আক্রমণ করে। এছাড়া শরীরের ওজন হঠাত্ করে খুব বেশি কমে যায় এবং শরীর খুব বেশি দুর্বল হয়ে যেতে পারে। শেষ পর্যন্ত রোগীর মৃত্যু হয়।

এইচআইভির কিছু ইতিহাস
১৯৮০ সালে সর্বপ্রথম রোগটিকে শনাক্ত করা হয়। ১৯৮১ সালে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে কিছু নিউমোনিয়ার রোগী পাওয়া যায়, যার কারণ নিউমোসিস্টিস ক্যারিনিয়াই নামক একটি জীবাণু— যার বর্তমান নাম নিউমোসিস্টিস জিরোভেসি। পরে আফ্রিকায় প্রাদুর্ভাব ঘটে ক্যাপোসিস সারকোমা নামক একটি টিউমারের। ১৯৮৪ সালে সর্বপ্রথম এক ফরাসি বিজ্ঞানী এইডসের জীবাণু আবিষ্কার করেন, নাম দেন— এলএভি। পরে যুক্তরাষ্ট্রের বিজ্ঞানীরা নাম দেন— এইচটিএলভি। ১৯৮৬ সালে এর নামকরণ করা হয়— এইচআইভি, যা এখনও প্রচলিত। বর্তমানে রোগটি সারা বিশ্বে ছড়িয়ে পড়েছে।

এইচআইভি কীভাবে ছড়ায় এবং কারা ঝুঁকিপূর্ণ AIDS-prevent
অসচেতনতা। সঠিক দৃষ্টিভঙ্গির অভাব। সুস্থ জীবনের অনুশীলন না করাটাই এ রোগের প্রধান ঝুঁকি। এইচআইভি সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ার উল্লেখযোগ্য কারণ হল—
০ এইচআইভি আক্রান্ত ব্যক্তির সঙ্গে কনডম ছাড়া যৌন মিলনের মাধ্যমে।
০ সমকামী, বহুগামী ব্যক্তি এবং বাণিজ্যিক ও ভাসমান যৌনকর্মীরা বেশি ঝুঁকিতে থাকে।
০ আক্রান্ত ব্যক্তির রক্ত শরীরে গ্রহণের মাধ্যমে।
০ যুবসমাজের মধ্যে নেশার আধিক্য এবং ইনজেকশনের মাধ্যমে মাদকদ্রব্য গ্রহণ।
০ আক্রান্ত ব্যক্তির অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ যেমন— কিডনি, অস্থিমজ্জা, চোখের কর্নিয়া ইত্যাদি শরীরে সংস্থাপনের মাধ্যমে।
০ আক্রান্ত ব্যক্তির ব্যবহূত টুথব্রাশ ও ক্ষত সৃষ্টিকারী যন্ত্রপাতি যেমন— সুচ, সিরিঞ্জ, কাঁচি, ব্লেড, রেজার, ক্ষুর ইত্যাদি ব্যবহারের মাধ্যমে।
০ এইচআইভি আক্রান্ত মায়ের থেকে গর্ভাবস্থায়, প্রসবের সময় অথবা প্রসবের পর বুকের দুধের মাধ্যমে শিশুর হতে পারে।
০ এইচআইভি আক্রান্ত বিভিন্ন দেশের সঙ্গে নিবিড় ভৌগোলিক অবস্থান ও দীর্ঘ সীমান্ত এলাকার মানুষ।
০ অভিবাসী শ্রমিক।
০ মানবপাচার।
০ সর্বোপরি এইচআইভি সম্পর্কে সচেতনতা ও তথ্যের অভাব।

মনে রাখতে হবে এইচআইভি রোগের কোনও লক্ষণ প্রকাশ না করেও এ ভাইরাস মানুষের শরীরে বছরের পর বছর সুপ্ত অবস্থায় থাকতে পারে এবং এ সময় অন্যকে সংক্রমিত করতে পারে। কারও শরীরে এইচআইভি আছে কি না, তা বাইরে থেকে অনেক সময় বোঝা যায় না। শুধু রক্ত পরীক্ষা করে এ ভাইরাসের সংক্রমণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যায়। তাই দেখা যায়, অনেকে নিজের অজান্তেই এ রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন।

এইচআইভি কীভাবে ছড়ায় না
মনে রাখা দরকার, কেউ এইচআইভিতে আক্রান্ত হলেই অন্য কাউকে ছড়ায় না। নিম্নে কিছু উদাহরণ দেওয়া হল, যার ফলে এইচআইভি ছড়ানোর আশঙ্কা একেবারেই নেই। 
০ আক্রান্ত ব্যক্তির সঙ্গে করমর্দন বা একই ঘরে বসবাস করলে।
০ আক্রান্ত ব্যক্তির সঙ্গে মেলামেশা, চলাফেরা ও খেলাধুলা করলে বা তাকে স্পর্শ করলে।
০ একই পায়খানা ও বাথরুম ব্যবহার করলে।
০ আক্রান্ত ব্যক্তির ব্যবহূত থালা-বাসন, গ্লাস, বিছানা, বালিশ ইত্যাদি ব্যবহার করলে।
০ আক্রান্ত ব্যক্তির হাঁচি, কাশি, থুতু বা শ্বাস-প্রশ্বাসের মাধ্যমে।

সূত্র - দৈনিক আমাদের সময়

Please Login to comment and favorite this Health Tip
Next Health Tips: একটোপিক প্রেগনেন্সির সাতকাহন
Previous Health Tips: এক গ্লাস উষ্ণ লেবু পানি

আরও স্বাস্থ্য টিপ

গাইনি ডাক্তারের কাছে যে বিষয়গুলো কখনোই লুকাবেন না

মেয়েলী যে কোনো সমস্যা হলেই গাইনি ডাক্তারের শরণাপন্ন হতে হয়। আর গাইনি ডাক্তারের শরনাপন্ন হতে অনেক নারীই কিছুটা দ্বিধাবোধ করেন। বিশেষ করে ডাক্তার যদি পুরুষ হয়ে থাকেন তাহলে অধিকাংশ সমস্যার কথাই জানাতে পারেন না নারীরা। গাইনি ডাক্তারের কাছে কিছু বিষয় লজ্জায় এড়িয়ে যান বেশিরভাগ রোগী। কিন্তু অত্যন্ত... আরও দেখুন

ত্বকের ক্লান্তি ভাব লুকাবেন যেভাবে

বেসরকারি ফার্মে চাকরি করেন অর্ষা। প্রায়ই বাসায় ফেরার পর তাকে রাত জেগে অফিসের কাজ করতে হয়। রাত জেগে কাজ করার ফলে ভালো ঘুম হয় না। তাই পরদিন সকালে অফিসে যাওয়ার পর খুবই ক্লান্তি লাগে তার। মাঝেমধ্যে এ বিষয় নিয়ে তিনি দুশ্চিন্তায় পড়ে যান। ঠিকমতো ঘুমের অভাবে চোখের নিচেও কালি পড়েছে। প্রায়ই অফিসের... আরও দেখুন

পেয়ারার স্বাস্থ্য উপকারিতা

ছোট থেকে বড় সকলের কাছেই পেয়ারা খুবই প্রিয় একটি ফল৷ পেয়ারায় বিভিন্ন স্বাস্থ্য উপকারিতা রয়েছে, আর এই কারণেই এটি ‘সুপার ফ্রুট’ নামে পরিচিত৷ আপনিও জেনে নিন এই ‘সুপার ফ্রুট’এর গুণাগুণ৷ •    শরীরের অতিরিক্ত শর্করা শুষে নিতে পারে পেয়ারা৷ এছাড়াও এতে... আরও দেখুন

গ্যাস্ট্রিক বা এসিডিটির সমস্যা ও সহজ সমাধান

গ্যাস্ট্রিক বা এসিডিটির সমস্যা আমাদের দেশে খুবই স্বাভাবিক ব্যপার। অনেককে বছরের প্রায় সময়ই ভূগতে হয় এ সমস্যায়। আধুনিক চিকিৎসা বিজ্ঞানে এর প্রতিকার হিসাবে পাওয়া যায় অনেক নামি দামি ওষুধ। কিন্তু আমাদের হাতের কাছের বিভিন্ন প্রকৃতিক জিনিস দিয়ে যদি করা যায় এর নিরাময়, তাহলে বাড়তি টাকা খরচ করার কি... আরও দেখুন

ওজন কমাতে রাতের বিশেষ খাবার ‘দই-ফল’

ওজনটা নিয়ে অনেকেই বেশ বিপাকে আছেন। ওজন যত সহজে বাড়ে তত সহজে কমে না। কঠিন ডায়েট চার্ট, দীর্ঘ সময় ব্যায়াম করে ঘাম ঝরানোর কাজটাও খুবই কঠিন। তাই ওজন কমানোর ইচ্ছে থাকলেও কমানো হয়ে ওঠে না। যারা চট জলদি ওজন কমাতে চান একেবারে কষ্ট ছাড়াই তারা রাতের খাবারের মেন্যুটা একটু বদলে ফেলুন। রাতের খাবারে অন্য সব... আরও দেখুন

ডিম খাওয়ার লাভ-লোকসান!

ট্রেন কিংবা বাস স্টেশনে, লঞ্চঘাটে, স্টেডিয়ামে, হাট-বাজারে এখনো শোনা যায় ফেরিওয়ালার ডাক—‘এই ডিম ডিম ডিম...সেদ্ধ ডিম...মুরগির ডিম...হাঁসের ডিম।’ আর তা হবেইবা না কেন? সহজলভ্য পুষ্টির উত্স হিসেবে ডিমের তুলনা কেবল ডিমই হতে পারে। তাই বাড়িতে বা রেস্তোরাঁয় সকাল-বিকেলের নাশতাতেই হোক... আরও দেখুন

healthprior21 (one stop 'Portal Hospital')