নবজাতকের পরিচর্যা
২০ জানুয়ারী, ১৪
Viewed#: 105
বাড়িতে নতুন শিশু এলে সবাই যেমন আনন্দিত হয় তেমনি শঙ্কিতও থাকে। বিশেষ করে মায়ের মনে এ শঙ্কা যেন আরও বেশি—যদি সে হয় প্রথম সন্তান। শিশু কতটুকু খাবে, কতক্ষণ ঘুমাবে, কেন কাঁদছে, গোসল কেমন করে করাতে হবে, কীভাবে কোলে নিলে শিশু আরাম পাবে—এমনি হাজারো চিন্তা। আর তাই কীভাবে করবেন নবজাতকের পরিচর্যা, এ বিষয়ে রইল কিছু পরামর্শ—
শিশুর খাওয়া-দাওয়া
শিশুর খাওয়া নিয়ে মা সবসময় চিন্তিত থাকেন। একটা কথা মনে রাখবেন, শিশুর জন্মের পর ছয় মাস বয়স পর্যন্ত মায়ের বুকের দুধই যথেষ্ট। এ সময় বাইরের খাবার এমনকি পানি খাওয়ানোরও প্রয়োজন নেই। বাইরের খাবার দিতে শুরু করলে চেষ্টা করবেন বাটি-চামচে খাওয়াতে। কারণ একবার ফিডারে খাওয়া শিখলে সেটা বাদ দেয়া বেশ কঠিন হয়। পাশাপাশি কিছু সমস্যাও তৈরি হয়। বাইরের খাবার খাওয়া শুরু করলে খুব ঘন ঘন খাবার দিয়ে শিশুর ক্ষুধা নষ্ট করবেন না। কিংবা খাবারের প্রতি শিশুর অনীহা সৃষ্টি করবেন না। বরং ২-৩ ঘণ্টা পর পর শিশুকে দুধ খাওয়ান। শিশুকে খাওয়ানোর পর ঘুম পাড়ান। ঘুমের মধ্যে না খাওয়ানোই ভালো। কারণ ঘুমের মধ্যে খেলে শিশুর বিষম লাগতে পারে। ছয় মাস পর বাড়তি খাবার দিন। এ সময়ে পাতলা খিচুড়ি শিশুর জন্য খুব উপকারী।
শিশুর ঘুম
ছোট শিশু ঘুমালে বাড়ির সবাই বেশ সতর্ক থাকেন, যেন তাদের কারণে শিশুর ঘুমের ব্যাঘাত না ঘটে। এ ব্যাপারে এত শঙ্কিত হওয়ার দরকার নেই। কারণ স্বাভাবিক পরিবেশে শিশুকে ঘুমানোর অভ্যাস তৈরি করুন। শিশুকে কোলে নিয়ে ঘুম পাড়াবেন না। বরং বিছানায় শুইয়ে ঘুম পাড়ান। কারণ কোলে ঘুমানোর অভ্যাস হলে আর বিছানায় ঘুমাতে চাইবে না। শিশু ঘুমালে জোর করে তুলবেন না। সে যতক্ষণ ঘুমাতে চায় ঘুমাক। তেমনি আবার ঘুমাতে না চাইলে জোর করে ঘুম পাড়াবেন না। আর শিশুও যদি শারীরিকভাবে অসুস্থ থাকে যেমন—পেট ব্যথা কিংবা ঠাণ্ডা লাগে তাহলে ঘুমাতে চায় না। এ অবস্থায় শিশুকে লম্বা করে কোলে নিয়ে কাঁধে মাথা রেখে ঘুম পাড়ান। শিশু আরাম পাবে।
শিশুর গোসল
অনেক মায়েরই ধারণা, প্রতিদিন গোসল করালে শিশুর ঠাণ্ডা লাগবে। এটা একদমই ঠিক নয়। বরং হালকা গরম পানিতে শিশুকে নিয়মিত গোসল করান। তবে অসুস্থ হলে ডাক্তারের পরামর্শে গোসল করান। গোসল করানো বারণ থাকলে কাপড় ভিজিয়ে শরীর মুছে দিন। শিশুকে তেল মাখাতে চাইলে খেয়াল রাখুন যেন তেলটা ঝাঁঝালো না হয়। বরং বেবি অয়েল মাখাতে পারেন। শীতের দিনে তেল মেখে রোদে নিয়ে বসতে পারেন। তবে কড়া রোদ যেন না হয়।
আরও মনে রাখুন—
# শিশুকে কোলে নেয়ার সময় সতর্ক থাকুন। ঘাড় শক্ত না হওয়া পর্যন্ত ঘাড়ের নিচে এক হাত রেখে কোলে নিন।
# শিশুর হাত ধরে টেনে তুলবেন না। বরং পিঠের নিচে হাত দিয়ে তুলুন।
# শিশুকে সুতি ও নরম জামা-কাপড় পরাবেন। পোশাক ঢিলেঢালা হওয়া ভালো। শিশুর পোশাকে বোতাম বা হুক না লাগিয়ে ফিতা লাগান।
# শিশুর ব্যবহারের কাপড়-চোপড় ধোয়ার সময় খেয়াল রাখবেন, যেন সাবান লেগে না থাকে। কারণ ক্ষার জাতীয় জিনিস শিশুর ত্বকের জন্য ক্ষতিকর।
সূত্র - ডেইলি বর্তমান