অটোমাইকোসিস বহিঃকর্ণের ইনফেকশন, যা ছত্রাক বা ফাঙ্গাস দিয়ে হয়। এটি সাধারণত গ্রীষ্ম প্রধান দেশে হয় গরম ও উষ্ণ আবহাওয়ার কারণে। দুই ধরনের ছত্রাক দিয়ে এটি হতে পারে। যেমন-এসপারজিলাস নাইজার ও ক্যানডিডাঅ্যালবিকানস। সাধারণত অনিয়ন্ত্রিত ডায়াবেটিস, পুষ্টিহীনতা ও যাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম তাদের অটোমাইকোসিস হওয়ার সম্ভাবনা বেশি।উপসর্গগুলো এ রোগে কানে প্রচণ্ড চুলকানি, কানে ব্যথাযদি ফাঙ্গাসের সাথে ব্যাকটেরিয়াজনিত ইনফেকশন হয়, গন্ধ যুক্ত পানির মতো নিঃসরণ হয়। ফাঙ্গাসডেব্রিস ও পুঁজ জমা হয়ে কান বন্ধ হয়ে যেতে পারে এবং কানে কম শুনতে পারেন।
অনেকের দিয়াশলাইয়ের কাঠি, মুরগির পালক, চুলের কিপ, কটন বাড ইত্যাদি দিয়ে কান খোঁচানোর অভ্যাস আছে। এতে সেকেন্ডারি ব্যাকটেরিয়াজনিত প্রদাহ সৃষ্টি হতে পারে, যার ফলে কানে ব্যথা বা কান পাকা রোগ হতে পারে। রাস্তায় ফুটপাথে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে অনেকে
কান পরিষ্কার করে অটোমাইকোসিসে আক্রান্ত হয়।কান পরীক্ষা করলে ভেজা নিউজপ্রিন্ট পেপারের মতো জিনিস কানের মধ্যে দেখা যায়, যা এসপারজিলাসনাইজারের সংক্রমণ হলে কালো, ক্যানডিডা অ্যালবিকানসের সংক্রমণ হলে সাদা এবং উভয় প্রকারের সংক্রমণ হলে মিশ্র রঙের হয়।
বহিঃকর্ণ ফুলে যেতে পারে, লাল হয়ে যেতে পারে বা খুশকির মতো চামড়া উঠতে পারে।চিকিৎসা ও উপদেশওই রোগের সঠিক চিকিৎসা হলো ইএনটি বিশেষজ্ঞ দিয়ে কান ভালো ভাবে পরিষ্কার করা, যাতে কানের মধ্যে ফাঙ্গাস ডেব্রিস না থাকে। তার পর চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী অ্যান্টিফাংগাল ওষুধ ব্যবহার করতে হবে। নিজে নিজে কান পরিষ্কারকরা ও এ রোগের একটি অন্যতম কারণ। তাই নিজে নিজে কান পরিষ্কার করবেন না। এজন্য রোগীর উচিত লক্ষণ গুলো বোঝার সাথে সাথেই নাক, কান ও গলা বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের পরামর্শ গ্রহণ করে সঠিক চিকিৎসা করানো।
কানে যাতে ময়লা পানি না যায় সে দিকে খেয়াল রাখতে হবে; কারণ ভেজা স্যাঁতসেঁতে পরিবেশে ছত্রাক খুব দ্রুত বৃদ্ধি লাভ করে এবং কর্ণকুহুরী বন্ধকরে দেয়। ডায়াবেটিস থাকলে তা চিকিৎসার মাধ্যমে নিয়ন্ত্রিত রাখতে হবে, যাতে ফাঙ্গাস ইনফেকশন না হয়।আপনার কাছের নাক কান গলা বিশেষজ্ঞ দেখিয়ে উপযুক্ত চিকিৎসা ও পরামর্শ নিলে অটোমাইকোসিস সম্পূর্ণ ভালো হয়ে যায়।
সূত্র - ডেইলিনয়াদিগন্ত.কম

