home top banner

Health Tip

ব্রণ, মেছতা বা কালো দাগ দূর করার কার্যকর ২১ উপায় (পর্ব – ১)
16 June,13
View in English

ব্রণ, মেছতা ত্বকের একটি মারাত্মক সমস্যা যা কমবেশি অনেকেই মোকাবেলা করে থাকেন বিশেষ করে তরুনীরা এই সমস্যায় বেশি ভোগেন। সারা বিশ্বে লক্ষ লক্ষ মহিলা এটা নিয়ে একধরনের দুঃখবোধ আর হীনমন্যতায় ভোগেন। আর ত্বক বিশেষজ্ঞদের কাছে কিংবা ক্লিনিকে সবচেয়ে বেশি রোগী আসে ব্রণ-মেছতার সমস্যা নিয়ে। সবচেয়ে বেশি বিব্রতকর অবস্থার সৃষ্টি হয় তখন, বিশেষ মুহুর্তে, কোন পার্টিতে বা কোন বিশেষ অনুষ্ঠানে যখন গালে এগুলো বিশ্রি রকমে ফুটে ওঠে। বারবার এগুলো বের হওয়ার ফলে মনোবল ভেঙ্গে যায় আর অনেকেই নিজের প্রতি আস্থা হারিয়ে ফেলেন।

ব্রণ কি?

ব্রণ হল একধরনের ফুসকুঁড়ি যা অনেক সময় পুঁজে পূর্ন থাকে, ত্বকের ক্ষত, ত্বকের প্রদাহ যা কালো দাগ বা চিহ্ন হয়ে থাকে। এগুলো কয়েক ধরনের হয়। ত্বকের বৈশিষ্ট্য অনুযায়ী ময়লা-পুঁজ জমে ছিদ্র বন্ধ হয়ে কালো বা সাদা মাথা বিশিষ্ট গোঁটার মত ওঠা, সিস্ট বা পুঁজকোষ, আঁশ সদৃশ লাল ত্বক ইত্যাদি দেখা দেয়।

ব্রণ বা ফুসকুঁড়ির কারন

ব্রণ বা ফুসকুঁড়ি অনেক কারনে হতে পারে। যেমনঃ

সিবেসিয়াস গ্লান্ড বা স্নেহ গ্রন্থি থেকে অতিরিক্ত সিবাম নির্গত হওয়ার ফলে

অপরিস্কার ত্বক বা নোংরা ত্বকে ব্যাকটেরিয়াজনিত প্রদাহের কারনে

ত্বকের ছিদ্র পথে চর্বি আটকে, ময়লা-ধুলা জমার ফলে

কসমেটিকস বা মেইকআপ দ্রব্য/উপাদানের কারনে ত্বকের ছিদ্রপথ বন্ধ হওয়া

মৃত কোষ একজায়গায় জমে ত্বকে আস্তর পড়া কিংবা ময়লা জমে আস্তর পড়া

অস্বাস্থ্যকর জীবন-যাপন আর অস্বাস্থ্যকর খাবার-দাবারে অভ্যস্ত হওয়া

আজে-বাজে খাবার দিয়ে উদর পুর্তি করা

পর্যাপ্ত পানি পান না করা

এছাড়াও বংশগত কারনেও হতে পারে।

উঠতি বয়সি ছেলেমেয়েদের ব্রণ ওঠা একটি অতি সাধারন ব্যাপার। কারন এই সময়ে দেহে অনেক হরমোনাল পরিবর্তন দেখা দেয়। আর এ সময়ে যেমন চরম বিড়ম্বনায় পড়তে হয় তেমনি এটা ম্যানেজ করা খুবই দূরহ হয়ে পড়ে। এমনকি প্রাপ্ত বয়স্কদের ক্ষেত্রেও।

অনেক প্রাপ্ত বয়স্কদের ক্ষেত্রে এটি ত্বকের একটি সাধারন অসুখ হিসাবে বিবেচিত এবং এটি ত্রিশ বছর বয়স পর্যন্ত থাকতে পারে। কারো কারো ক্ষেত্রে চল্লিশ বছর পর্যন্তও দেখা দিতে পারে। যার ফলে একটি কথা প্রচলিত হয়ে গেছে যে ‘ব্রণ ছাড়ে ত্রিশে’। ব্রণ-মেছতা সাধারনত তৈলাক্ত ত্বকে বেশি দেখা দেয়, তবে শুষ্ক ত্বকও সম্পূর্ন মুক্ত থাকবে এমন নিশ্চয়তা নেই।

তবে সে যা-ই হোক, আমরা এটা জানি যে নিরাময়ের চাইতে প্রতিরোধ উত্তম। আর এই অনাকাংখিত ব্রণ-মেছতার হাত থেকে রক্ষা পেতে হলে অবশ্যই কিছু নিয়ম-কানুন মেনে চলতে হবে, ত্বকের যত্নে নিতে হবে বিশেষ পরিকল্পনা। কিছু সাধারন টিপস মেনে চলার মাধ্যমে ব্রণ-মেছতা দূর করা সম্ভব যদি বংশগত কারনে না হয়ে থাকে।

কিভাবে ব্রণ থেকে রক্ষা পাবেন

অনেক পদ্ধতিতেই ব্রণ প্রতিরোধ করা ও নিরাময় করা সম্ভব। এর মধ্যে কিছু আছে বাসায় বসে পালন করা যায় আবার ফিনিশড প্রোডাক্ট হিসাবে বাজার থেকে কিনেও ব্যবহার করা যায়। আসুন জেনে নেই সেরকম কিছু সহজ টিপসঃ

১। আপনার মুখের ত্বক সব সময় পরিস্কার রাখুন

যদি কারো ত্বকে যেখানে সেখানে ব্রণ দেখা দেয়, তবে বুঝতে হবে ত্বক ভালভাবে পরিস্কার নয়। এক্ষেত্রে ভাল মানের ফেইস ক্লিনজার দিয়ে দিনে দুইবার সকালে ও রাতে ধুয়ে ফেলুন। আর বাইরে থেকে কিংবা অফিস থেকে বাসায় ফিরে অবশ্যই মুখমন্ডল ধুয়ে ফেলুন। এতে অতিরিক্ত তেল, মেইকআপ, ধুলাবালু, ময়লা দূর হবে যেগুলো ত্বকের ছিদ্রপথ বন্ধ হওয়া, কালো ছোপ ছোপ দাগ ইত্যাদির কারন।

মেইকআপ যথাযথভাবে এবং সম্পূর্নরুপে তুলে ফেলা প্রয়োজন। এতে ব্রণ বারবার হওয়ার সম্ভাবনা কমিয়ে দেবে।

যথাসম্ভব সাবান ব্যবহার না করাই ভাল। কারন এতে ত্বকের চুলকানি দেখা দিতে পারে আর সিবেসিয়াস গ্রন্থি থেকে তেল নিঃসরনের পরিমানও বেড়ে যেতে পারে। অন্যদিকে বারবার ধোয়ার ফলে সিবেসিয়াস গ্রন্থির এক্টিভিটি বেড়ে যেতে পারে। ফলস্বরুপ অতিরিক্ত ঘর্ম বা সিবাম তৈরী হয়ে ছিদ্রপথ বন্ধ হতে পারে। কাজেই দিনে তিনবারের বেশি মুখমন্ডল না ধোয়াই উত্তম।

জোরে জোরে ডলে বা ঘষে ত্বক পরিস্কার না করা ভাল। মৃদু, সাবান-ফ্রি ক্লিনজার দিয়ে কুসুম গরম বা হালকা গরম পানিতে আলতোভাবে পরিস্কার করতে পারেন। এতে করে ছিদ্রপথ পরিস্কার হবে এবং অতিরিক্ত নিঃসরিত তেল বাইরে বেরিয়ে আসতে পারবে। আর এভাবে ত্বক যেমন পরিস্কার থাকবে তেমনি ব্রণ-মেছতা হবার সম্ভাবনা কমে যাবে।

এমন ফিনিশড প্রোডাক্ট বেছে নিন যাতে স্যালিসাইলিক এসিড, চা-গাছের তেল, নিম, হলুদ, কিংবা মধু – এর কোন একটি বা দু’টি উপাদান থাকে। এগুলোর যেকোনটি ব্রণ-মেছতা নিরাময়ে বা প্রতিরোধে কার্যকর।

সিটাফিল, এরোমা ম্যাজিক, নিউট্রিজেনা, হিমালয়া, ক্লিন এন্ড ক্লিয়ার ইত্যাদিতে বিশেষ ক্লিনজিং উপাদান থাকে যা ব্রণ-মেছতাপ্রবন ত্বকের দিকে খেয়াল রেখেই উৎপাদন করা হয়। ক্লিনজিং প্রোডাক্ট কেনার সময় খেয়াল রাখতে হবে প্রোডাক্টটি যেন এলকোহল-ফ্রি টোনার হয়। এগুলো সিবাম নিঃসরন নিয়ন্ত্রন এবং ত্বকের ময়লা দূর করার ক্ষেত্রে কার্যকর। এক্ষেত্রে বিশুদ্ধ গোলাপ জল বেছে নিতে পারেন।

২। মেছতার কারন যখন ময়লা-অপরিস্কার বালিশ, বিছানার চাদর আর তোয়ালে

কি অবাক হচ্ছেন? এত প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেয়ার পরও কিভাবে পিম্পল হচ্ছে?

বালিশ কভার, বিছানার চাদর নিয়মিত বিরতিতে ধোয়া না হলে তা অতি দ্রুত ব্যাকটেরিয়ার বংশবৃদ্ধির উৎকৃষ্ট আবাসে পরিনত হয়। তেমনি ময়লা তোয়ালেও ব্যাকটেরিয়ার উত্তম আবাস। তাই কখনই ময়লা তোয়ালে দিয়ে মুখ মুছবেন না বা ব্যবহার করবেন না। কারন এতে করে আপনার ত্বকের কালো দাগ কিংবা প্রদাহ আরো বেড়ে যেতে পারে। সুতরাং আপনার বিছানার চাদর, বালিশের কভার, মেইক-আপ ব্রাশ, মেইক-আপ স্পঞ্জ ইত্যাদি ঘন ঘন ধুয়ে ফেলুন, অন্ততঃ সপ্তাহে একবার। এতে করে ত্বকের জন্য ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়ার বংশবিস্তার কমে যাবে আর আপনি থাকবেন সুরক্ষিত।

 

Please Login to comment and favorite this Health Tip
Next Health Tips: How to Prevent and Remove Pimples/Acne 21 Effective Methods (Part – 2)
Previous Health Tips: কোন সবজি কী কাজে লাগে ?

More in Health Tip

চুলের ধরন অনুযায়ী শ্যাম্পু ও কন্ডিশনার ব্যবহারের কৌশল কি? কিভাবে বেছে নেয়া উচিত?

শ্যাম্পু ব্যবহারের আগে জেনে নিন আপনার চুল কেমন। যদি স্বাভাবিক হয়, তাহলে সাধারণ শ্যাম্পু ব্যবহার করুন। তৈলাক্ত চুলে অয়েল বেসড এবং নিষ্প্রাণ চুলের জন্য ড্রাই হেয়ার শ্যাম্পু বেছে নিন। শ্যাম্পু দিয়ে চুল পরিষ্কারের পর কন্ডিশনার লাগান। চুল তৈলাক্ত হলে ময়েশ্চারাইজার কন্ডিশনার ব্যবহার করুন। চুল শুষ্ক... See details

আর নয় ছেলেমেয়েদের নেশা

মদ বা বিভিন্ন ধরনের নেশায় অস্বাভাবিক আচার-আচরণ করে যারা, তাদের সেই আচরণ কেউই সহ্য করতে চান না। যারা অ্যালকোহল খায় তাদের ২০ ভাগ এর অপকারিতার শিকার হয়, তারা নিজেদের সংযত করতে পারে না, অ্যালকোহলের পরিমাণ ক্রমেই বাড়িয়ে শেষ পর্যন্ত বিপদ ডেকে আনে। সুতরাং মদ বা অ্যালকোহল যে খায় তাকে অবশ্যই... See details

ধনেপাতা থেকে সাবধান

নিত্যদিনের বিভিন্ন খাবারে ধনেপাতা ব্যবহার করে থাকেন খাবারের গন্ধ এবং স্বাদে একটা পরিবর্তন আনার জন্য। ধনেপাতার বৈজ্ঞানিক নাম হলো কোরিয়ানড্রাম স্যাটিভাম। কিন্তু কখনও কি কল্পনা করেছেন যে এই সুস্বাদু খাবারটির কিছু পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া থাকতে পারে? অবিশ্বাস্য হলেও সত্যি কথা হলো এই সুপরিচিত খাবারটির... See details

উচ্চ রক্তচাপ: কারণ ও প্রতিকার

উচ্চ রক্তচাপকে এক ধরনের নীরব ঘাতক বলা হয়ে থাকে, কারণ খুব সহজে এর উপসর্গ বোঝা যায় না, কিন্তু নীরবে হৃৎপিণ্ডের ক্ষতিসাধন করে থাকে। ইংল্যান্ডের প্রায় ৩০ ভাগ মানুষ উচ্চ রক্তচাপে ভুগছেন কিন্তু অনেকেই প্রথমে তাদের এই রোগটা ধরতে পারেন না। কিন্তু যখন বুঝতে পারেন তখন হার্ট-অ্যাটার্ক, স্ট্রোক, কিডনি... See details

বংশগত কারণে কি আলঝেইমার হতে পারে?

ধারণা করা হয়, জেনেটিক্যাল কারণ আলঝেইমার রোগের জন্য দায়ী হতে পারে।যদিও বিজ্ঞানীরা এখনও জানেন না আলঝেইমার হওয়ার মুল কারণ কি! তবে ধারণা করা হয় জেনেটিক্যাল এবং অন্যান্য কিছু কারণ মিলিয়ে আলঝেইমার হতে পারে।তবে গবেষকরা বংশগত কারনের উপর গুরুত্তারোপ করছেন- কিভাবে এবং কি কারণে বংশগত ভাবে আলঝেইমার বাবা... See details

অ্যাজমা অথবা হাঁপানি হলে বুঝবেন কি করে?

অ্যাজমা শ্বাসতন্ত্র এবং ফুসফুস ও শ্বাসনালী জনিত একটি কঠিন সমস্যা। অ্যাজমা হলে মানুষের শ্বাসপ্রশ্বাসের সমস্যা হয়।  যতক্ষণ না মারাত্মক আকার ধারন করছে ততক্ষণ পর্যন্ত অনেকেই জানতে পারেন না যে তাদের এই অসুখটি আছে।   লক্ষন সমূহ * নিঃশ্বাস নিতে সমস্যা হয়। * বেশ কাশি থাকে। বিশেষ করে... See details

healthprior21 (one stop 'Portal Hospital')