আপনি চান কিংবা না চান কিছু অভ্যাস আছে যা আপনার সুস্বাস্থ্যের জন্য অন্তরায় এবং যেগুলো ত্যাগ করতে হবে এখন থেকেই। তাই বলে তাড়াহুড়া নয়। কোন একটা অভ্যাস গড়তেও যেমন সময় লাগে তেমনি ছাড়তেও সময় নেয়া প্রয়োজন। জেনে নিন এমনই কিছু অভ্যাস, যা পরিত্যাগ করতে হবে এখন থেকেইঃ
অতিরিক্ত পানি পান
পর্যাপ্ত পানি পান সুস্বাস্থ্যের প্রথম শর্ত। তাই বলে অবশ্যই অতিরিক্ত নয়। মানব শরীরের প্রায় ৬০ শতাংশেরও বেশি পানি। চাহিদামত পানি পানে স্মৃতিশক্তি বাড়ে, ত্বকের লাবন্য ধরে রাখে, মনকে রাখে শান্ত। কিন্তু অতিরিক্ত পানি আপনার কিডনিকে অকেজো করে ফেলতে পারে। তাহলে দিনে কতটুকু পানি পান করা উচিত?
বিশেষজ্ঞরা বলেন একজন সুস্থ ও স্বাভাবিক গড়নের পুরুষের জন্য ১৩ কাপ এবং মহিলাদের জন্য ৯ কাপ পানিই যথেষ্ট। এছাড়া আমরা দৈনন্দিন যে খাবার খাই, তা থেকে আসে আরো ২-২.৫ কাপ পানি। মনে রাখতে হবে শরীরের গড়ন অনুযায়ী যতটুকু চাহিদা ততটুকুই পান করা উচিত। তাহলে কিভাবে বুঝবো শরীরে পর্যাপ্ত পানি আছে কি না?
হ্যাঁ! এর উত্তরে বিশেশজ্ঞরা বলেন আপনার প্রস্রাবের রংই বলে দেবে আপনার দেহে পর্যাপ্ত পানি আছে কি না। যদি দেখেন আপনার প্রস্রাবের রং ঈষৎ হলুদ তাহলে বুঝবেন আপনার শরীরে পর্যাপ্ত পানি আছে। অতএব অতিরিক্ত পানি পরিহার করুন।
দেরী করে রাতের খাবার খাওয়া
গবেষণায় দেখা গেছে যারা রাতের খাবার দেরী করে খান এবং খাওয়ার পর পরই ঘুমাতে যান বা ঘুমিয়ে পড়েন, তাদের মুটিয়ে যাওয়ার প্রবণতা অনেক বেশি। রাতের খাবার এবং সকালের নাস্তার মাঝে দীর্ঘ বিরতি খাদ্য পরিপাকে যেমন সহায়ক তেমনি খাওয়ার ১/২ ঘন্টা পর ঘুমালে ঘুমটাও ভাল হয়। আমেরিকান ন্যাশনাল ইনস্টিটিউশন অব হেলথ এর মতে দেরী করে রাতের খাবার খেলে হজমে গোলমাল দেখা দিতে পারে এবং ঘুমেরও ব্যাঘাত সৃষ্টি হতে পারে। সুতরাং দেরী করে রাতের খাবার খাওয়ার অভ্যাস ত্যাগ করুন।
অতিরিক্ত ব্যায়াম করবেন না
নিয়মিত এবং নিয়ন্ত্রিত ব্যায়াম শরীরকে ফিট রাখে, ওজন কমাতে সাহায্য করে, শরীরে শক্তি যোগায় – দেয় দীর্ঘ জীবন। এছাড়া ব্যায়াম আপনার হৃদযন্ত্রকে রাখে সবল ও কর্মক্ষম। নিয়মিত ব্যায়ামে কিছু কিছু দূরারোগ্য ব্যাধি থেকে মুক্ত থাকা যায় যেমন ব্রেস্ট ক্যানসার, প্রস্টেট ক্যানসার ইত্যাদি। নিয়ন্ত্রিত ব্যায়াম মস্তিষ্কে রক্ত চলাচল স্বাভাবিক রাখে, রক্তে সুগারের মাত্রা ঠিক রাখে। ২০০৮ সালের ফিজিক্যাল এক্টিভিটি গাইডলাইন অনুসারে একজন সুস্থ স্বাভাবিক লোকের প্রতি সপ্তাহে ১৫০ মিনিট হালকা থেকে মাঝারী মানের ব্যায়াম করা উচিত। এর বাইরে সপ্তাহে ৭৫ মিনিটের মত ভারী ব্যায়াম (যেমন দৌড়ানো) করা যেতে পারে। তবে এর বেশি নয়।
বেশি ঘুম আর দেরী করে ঘুম থেকে ওঠা
দৈনিক ৭/৮ ঘন্টা ঘুম আপনার শরীরকে রাখে ঝরঝরে, হৃদযন্ত্রকে রাখে সুস্থ-সবল, হতাশা কমিয়ে মনকে রাখে চাংগা। তবে আমেরিকার ন্যাশনাল স্লিপ ফাউন্ডেশনের মতে অতিরিক্ত ঘুম আপনার শরীরে মেদ জমতে সাহায্য করে, আপনার শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমিয়ে দিতে পারে।
অতিরিক্ত লবন (সোডিয়াম) খাওয়া
লবন খাওয়া কমিয়ে আমরা হৃদরোগের সম্ভাবনা শতকরা ৯ ভাগ পর্যন্ত কমাতে পারি। রেঁস্তোরার খাবার, তৈরী খাবার, টিনজাত খাবারে লবনের পরিমান বেশি থাকে। স্বাদ বেশি হলেও সেগুলো আমাদের শরীরের জন্য ক্ষতিকর কারন তা উচ্চ রক্তচাপ বাড়িয়ে হৃদরোগের কারন হতে পারে। কাজেই ঘরে তৈরী খাবার খান, টাটকা ফল-মূল, শাক-সব্জী বেশি করে খান আর খাবার তালিকা থেকে বাদ দিন অতিরিক্ত লবন।
অফিসের ডেস্কে বসে দুপুরের খাবার
অনেক কর্মজীবী আছেন যারা কাজের চাপে কিংবা অভ্যাসবশতঃ অফিস ডেস্কে বসেই দুপুরের খাবার খান আর কাজ করতে থাকেন। এতে খাবারের প্রতি মনযোগ কম থাকে। ফলে হজমে ব্যাঘাত ঘটতে পারে। দেখা দিতে পারে ক্ষুধা মন্দা। কাজেই একটু সময় বের করে আলাদাভাবে মনযোগ দিয়ে খাবার খাবার খান, সুস্থ থাকুন।
বাসন-কোসন মাজার স্পঞ্জ একনাগাড়ে বহুদিন ব্যবহার করা
এটা হয়তো অনেকেরই অজানা কিংবা অনেকেই হয়তো গুরুত্ব দেন না। অথচ ওগুলোতে স্বাভাবিকের চাইতে প্রায় ১৫০ গুন বেশি ব্যাকটেরিয়া, মোল্ড, ঈস্ট থাকতে পারে। অতএব বাসন-কোসন, রান্নাঘরের বেসিন, সিঙ্ক, রেফ্রিজারেটর পরিস্কারের পর নেকরা বা স্পঞ্জ বদলে ফেলুন অন্ততঃ প্রতি সপ্তাহে একবার। সম্ভব না হলে প্রতি দুই সপ্তাহে তো অবশ্যই।
‘হেলথি লিভিং’ অবলম্বনে হেলথ প্রায়র ২১।

