নীলফামারী জেলার বাণিজ্যিক শহর সৈয়দপুরের আবাসিক এলাকায় একের পর এক গড়ে উঠছে গুল ফ্যাক্টরি। ফলে এখানকার বাতাসে উড়ছে তামাকের গুঁড়া। পরিবেশের ওপর বিরূপ প্রভাব বিস্তারকারী এ গুল ছড়িয়ে পড়েছে শহরময়। এর ঝাঁঝালো গন্ধে বিষাক্ত ও দূষিত হয়ে পড়েছে পরিবেশ। জনজীবনের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর এই গুল ফ্যাক্টরির কারণে স্বাভাবিকভাবে বসবাস করাও দুরূহ হয়ে পড়েছে। দেখা দিয়েছে নানা রোগ-ব্যাধিসহ অসংখ্য সমস্যা। সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়েছে শিশু, বৃদ্ধ ও অসুস্থরা। আবাসিক এলাকায় গড়ে ওঠা গুল ফ্যাক্টরিগুলোতে দিনরাত উন্মুক্ত পেষাই মেশিনে তামাকগুঁড়া করার ফলে এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। সৈয়দপুর শহরের বাঁশবাড়ি, নতুন বাবুপাড়া, হাজী কলোনি, মিস্ত্রিপাড়া, গোলাহাটসহ কয়েকটি আবাসিক এলাকায় গড়ে উঠেছে অসংখ্য গুল ফ্যাক্টরি। এসব ফ্যাক্টরিতে তামাক পাতা ভাজার পর হলার মেশিনে গুঁড়া করা হয়। দিনরাত অনবরত গুল ফ্যাক্টরিগুলোতে তামাক গুঁড়া করার সময় তা বাতাসে ছড়িয়ে পড়ছে চারপাশে। গুলের ঝাঁঝালো গন্ধে এলাকার পরিবেশ চরমভাবে দূষিত হওয়ায় স্বাভাবিক বসবাস করাও কষ্টকর হয়ে পড়েছে। চোখ-নাক ও মুখে তামাক গুঁড়া ঢুকে শ্বাসকষ্ট, হুপিং কাশি, নিউমোনিয়া, যক্ষ্মাসহ চোখের নানা সমস্যা দেখা দিচ্ছে। সৈয়দপুর এমনিতে ঘিঞ্জি শহর, তার ওপর আবাসিক এলাকায় এভাবে গুল ফ্যাক্টরি গড়ে ওঠায় পরিবেশ মারাত্মকভাবে দূষিত হয়ে পড়েছে। এলাকাবাসী সমস্যায় থাকলেও ফ্যাক্টরি কর্তৃপক্ষ তা কর্ণপাত করছেন না। এ ব্যাপারে পৌরসভার ওয়ার্ড কাউন্সিলর, পৌর মেয়র, থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা, উপজেলা নির্বাহী অফিসার, উপজেলা চেয়ারম্যান, জেলা প্রশাসকসহ প্রশাসনের বিভিন্ন দফতরে লিখিত অভিযোগ দেয়া হলেও কেউ কোনো পদক্ষেপ নেয়নি। পরিবেশ অধিদফতরের অনুমোদন ছাড়াই শুধু পৌর ট্রেড লাইসেন্স নিয়ে এভাবে ব্যবসা করার সুযোগ পেয়ে সৈয়দপুরে এরই মধ্যে ১০/১২টি গুল ফ্যাক্টরি গড়ে উঠেছে। এসব ফ্যাক্টরির বেশিরভাগই আবাসিক এলাকায় গড়ে ওঠায় জনজীবন অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে।

